ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান



পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান
ছবি: সংগ্রহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।

কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামে মাদরাসাটির পাশেই নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার করেছেন মলিনা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘মারাত্মক দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।’

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এই সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। শুধু মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, দুর্গন্ধে পথচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিষয় : শিক্ষা ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসা

দৈনিক নবকাল

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।

কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামে মাদরাসাটির পাশেই নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার করেছেন মলিনা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘মারাত্মক দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।’

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এই সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। শুধু মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, দুর্গন্ধে পথচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান
0:00 0:00
1.0x