ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ জেলা ঝিনাইদহে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রুহুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরতলীর আদর্শপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও শৈলকূপা উপজেলায় বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। ফলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেলার বাইরে তাঁর পদায়ন হয়নি বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ১(ক) ও ১(ঙ) অনুচ্ছেদে এলজিইডির কর্মকর্তাদের নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময় পর বাধ্যতামূলক বদলি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় প্রভাববলয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।এ অবস্থায় রুহুল ইসলামের দীর্ঘদিন নিজ জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য নীতিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম বলেন, আমার বদলি আর পদায়ন তো আমার হাতে নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসে, সেভাবে চাকরি করি। আমি তদবির করে ঝিনাইদহে আছি—এ রকম কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামে মাদরাসাটির পাশেই নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার করেছেন মলিনা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘মারাত্মক দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।’মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এই সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। শুধু মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, দুর্গন্ধে পথচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, ছেলে আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শখের বানু (৫৭) নামের এক নারীকে তাঁর ছেলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত শখের বানু ওই গ্রামের মৃত জিকুর হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁর ছেলে ইখলাসুর রহমানকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, ইখলাসুর মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।পরে ভোররাতে ইখলাসুর মায়ের ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। হত্যার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন।মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মাদক সেবনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সন্তান তাঁর মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।ওসি জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি স্থান থেকে ইখলাসুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, ছেলে আটক