ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’তাঁদের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।প্রকৌশলী হয়েও শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন নায়লাবুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। পরে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও আকর্ষণীয় সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি শিশুদের শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফেরনরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কর্মরত আছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলান আলতাফ।তাঁর এই সংগ্রাম ও উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুলভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছেন।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন খালি জায়গায় রোপণ করেন তিনি। তাঁর হাতে লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্যোগ আরও গতিশীল করার জন্য উৎসাহ দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

মোংলায় কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ

উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাগেরহাটের মোংলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর আওতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করা হবে।বুধবার ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।এনরুট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে এ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, রোপণ করা চারাগুলো উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এসব গাছ সহায়ক হবে।তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মোংলায় কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ

নরসিংদী সরকারি কলেজে কৃষক দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নরসিংদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে নরসিংদী জেলা কৃষক দল। জেলা কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কলেজের বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়।কৃষক দলের নেতাকর্মীরা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন বাড়াতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বেশি করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।জেলা কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নরসিংদী সরকারি কলেজে কৃষক দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি