কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে।বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কারখানাটির চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা ওষুধ তৈরির কাঁচামাল রাখার গুদাম ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
রাজধানীর বাড্ডা থানার সাতারকুল এলাকায় একটি ফার্নিচারের গুদামে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টার দিকে গুদামে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।তবে আগুন লাগার কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে সাইকেল গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে মো. ইউসুফ হাসান আলিফ (২৬) নামে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে পালোস দে লা ফ্রন্তেরা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি সাইকেল গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।নিহত ইউসুফ হাসান আলিফ স্পেনে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। তাঁর জন্ম ঢাকায়। তাঁর বাবার নাম আব্দুল মোতালিব। অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁর মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে হঠাৎ ওই সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্যারেজের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়ায় ইউসুফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, গ্যারেজে রাখা বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং গ্যারেজটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের ধোঁয়ায় কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়লে তাঁদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এসি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে হোটেলের অধিকাংশ অতিথি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেকে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়েন। ভবনটির প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ একই এবং সেটি বেশ সংকীর্ণ বলে জানিয়েছেন আবাসিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, হোটেলে কোনো জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে কেউ কেউ বাথরুমে ঢুকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দমকল বাহিনী ভবনে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে। ‘দরজা খুলতেই ঘরে ধোঁয়া ঢুকে যায়’ হোটেলে থাকার জন্য মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে দুই বন্ধু কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁদের একজন ইজাজ আহমেদ জানান, তাঁরা ভবনটির চতুর্থ তলায় একটি গেস্টহাউসে ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাঁদের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়ে বলে জানান তিনি। ইজাজ আহমেদ বলেন, ‘ঘর থেকে বেরিয়ে যে বারান্দা, তা খুব সরু। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল ঘর।’ অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ নিউ মার্কেটের ওই ভবনের সর্বোচ্চ তলায় একটি পরিবার বসবাস করত। দমকলকর্মীরা তাঁদেরও উদ্ধার করেন। পরিবারটির এক নারী অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।