ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাপে জনজীবন, বাড়ছে পরিবহন ও পণ্যের খরচ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাপে জনজীবন, বাড়ছে পরিবহন ও পণ্যের খরচ

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন, বাজার ও শিল্প খাতে। বেড়েছে বাস, ট্রাক ও লরির ভাড়া। পরিবহন ব্যয় বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে চাপে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাত্রী ও শিল্পোদ্যোক্তারা।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, ক্রেতা-বিক্রেতা ও নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ ও হতাশার চিত্র পাওয়া গেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনশ্রমিকদের বাগ্‌বিতণ্ডাও বাড়ছে।বাসভাড়া বেড়েছে, পথে পথে বিতর্কজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৯ পয়সা হয়েছে।দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত আগে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফার্মগেট থেকে সাইনবোর্ড রুটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।কাঁচাবাজারে বাড়তি খরচজ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০–৭০ টাকার সবজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকায়। আলু ও পেঁপের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা।পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহে পরিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাড়তি দামের মধ্যে নতুন করে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’ট্রাকভাড়া বেড়েছে, পণ্য পরিবহনে সংকটজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। দূরত্ব, পণ্য ও ট্রাকের আকারভেদে প্রতি ট্রিপে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাকভাড়া ছিল ২০–২১ হাজার টাকা। গতকাল তা বেড়ে ২৫–২৬ হাজার টাকা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাকসংকটের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি করা পণ্য খালাসে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, প্রতিদিন ৪০০–৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোড হলেও এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।রাইড শেয়ারকারীদের আয় কমছেপেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করা কর্মীরা। তাঁদের দাবি, জ্বালানির খরচ বাড়লেও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া সে অনুযায়ী বাড়েনি। যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় একটি ট্রিপের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০–৯০০ টাকা আয় করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থানে শঙ্কাগার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ থাকায় ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিজ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। তিনি অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্ন আয়ের মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছেন। নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ায় তাঁদের পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও বৈষম্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, দারিদ্র্য ও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

চীনে ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ

চীনে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে ভারতের বাজারে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো। ভোক্তা পণ্য, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে দেশটিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল গত সপ্তাহে জাপানে দেশটির সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।ভারতের মুম্বাই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর শপিংমল ও প্রধান সড়কে এখন জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ইউনিক্লো, মুজি ও অনিতসুকা টাইগারের মতো প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।জাপানের আসবাব প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিটোরিও সম্প্রতি ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া জাপানি কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর কার্যক্রম মুম্বাই থেকে শুরু হওয়ার কথা।ব্যাংকিং ও প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগভারতের আর্থিক খাতেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। অন্য বিদেশি ঋণদাতারা ভারতের ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে সরে গেলেও জাপানি ব্যাংকগুলো দেশটির আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি গত বছর ভারতের আর্থিক খাতে ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করে শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এটিকে ভারতের আর্থিক খাতে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।একই বছর সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়।ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি ব্যবস্থাতেও জাপানি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ছে। ডেলয়েটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে শতাধিক জাপানি প্রতিষ্ঠান জিসিসি পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে গবেষণা ও উন্নয়ন, করপোরেট কৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে।ভারতের দিকে কেন ঝুঁকছে জাপাননেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা ভিপুল নাথ জিন্দাল বিবিসিকে বলেন, প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে এখন ভারতের দিকে তাকাতে হচ্ছে। কারণ, জাপানের স্থানীয় জনসংখ্যা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কমছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাজারের আকারও সংকুচিত হচ্ছে।অন্যদিকে জাপানি ব্যবসার প্রচলিত বাজারগুলোর আকর্ষণও কিছুটা কমেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বাজারও ভারতের তুলনায় ছোট।এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের বাজারকে জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো হয় প্রায় দেড় দশক আগে বাণিজ্য উদারীকরণের একটি চুক্তির মাধ্যমে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।সে সময় ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়।তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে জাপানের বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।জুলাইয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম দিল্লি সফরের সময় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে জাপানি কোম্পানিগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এসব বিনিয়োগের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও সবুজ জ্বালানি খাতও রয়েছে।ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, জাপানের ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হতে পারে।ছোট কোম্পানিরও আগ্রহশুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, জাপানের ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো প্রতিষ্ঠানের জন্মস্থান হামামাতসু শহরে সম্প্রতি হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। শহরটির ছোট কোম্পানিগুলো কীভাবে ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করবে এই কমিটি।ভারতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ার বিপরীতে চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর অর্থ জাপানি কোম্পানিগুলো ব্যাপকভাবে চীন ছেড়ে যাচ্ছে—এমন নয়। বরং কয়েক বছর ধরে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে চাইছে তারা।সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ইন্ডিয়া চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, চীনসংক্রান্ত ঝুঁকির বিরুদ্ধে ভারত জাপানের জন্য এক ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে টোকিওর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দিল্লির উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরালো করছে।সামনে যেসব চ্যালেঞ্জতবে ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চীনের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে জাপান এখনো গভীরভাবে যুক্ত। ফলে চীন থেকে পুরোপুরি সরে আসা বা সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ব্যয় এবং চীনের পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে।ভারতেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনায় করসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশগত অনুমোদনে বিলম্বের মতো সমস্যা রয়েছে।সম্প্রতি জাপানের এক সাবেক মন্ত্রী দিল্লি সরকারের সমালোচনা করে বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বিলম্বের জন্য ভারতকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারত নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করেছে। ভারত সরকার অবশ্য ওই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে।ঘটনাটি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। ভারত ও জাপানের মধ্যে মতপার্থক্যের উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরে ভারতের চুক্তি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা।সব মিলিয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগের গতি ধরে রাখতে ভারতকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে অন্য দেশগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভারতের প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় জাপানি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: বিবিসি

চীনে ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, কার্যকর হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।বৃহস্পতিবার সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রয়োজন থেকেই নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিনিয়োগে একক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যনতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।নতুন সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।সম্পদ ও জনবল হস্তান্তরএকীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করবেন।নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সমন্বিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে তিন প্রতিষ্ঠান একীভূত করার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, কার্যকর হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর এখন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা ও বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি দেখা গেছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেইগণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেটের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।তাঁর দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি।জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোর কোনোটি গত ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটজ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে পড়ছে।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে এবং প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সরকারি তথ্য উদ্বেগ তৈরি করছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য উল্লেখ করে তিনি মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।দ্রব্যমূল্য ও ব্যাংকিং খাতদ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির হিসাবে, জুন ২০২৬-এ দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।পররাষ্ট্রনীতি ও রোহিঙ্গা সংকটপররাষ্ট্রনীতিতেও সরকারের কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ঘোষণা করা হলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।সরকারের প্রতি জামায়াতের আট দফাসংবাদ সম্মেলনে সরকারকে আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন খাতে পূর্তকাজ এবং পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্তকাজ এবং পণ্য, যন্ত্রপাতি ও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে এসব খাতে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায়ও পূর্তকাজে মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের সীমা ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সীমা ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ খাতে পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়নি। পরামর্শক নিয়োগেও বাড়ল সীমা উন্নয়ন বাজেটের কোনো প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ব্যয়ের ক্ষমতা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ভৌত সেবা—যেমন ক্যাটারিং, অ্যাম্বুলেন্স, মেরামত ও পরিবহন—সংক্রান্ত কাজে ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ বা স্থাপনা কাজে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তে ব্যয় করতে পারবে। পরিচালন খাতেও এই সীমা ৩০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন ও পরিচালন—দুই খাতেই পরিচালনা পর্ষদের ব্যয়সীমা ৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরামর্শক সেবার চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সীমা ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। নির্বাহী প্রধানদের ক্ষমতা বাড়ল পরিবর্তন এসেছে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান—যেমন মহাপরিচালক, চেয়ারম্যান বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতায়ও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাহী প্রধান এককভাবে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পূর্তকাজ অনুমোদন করতে পারবেন। আগে এ সীমা ছিল ২০ কোটি টাকা। পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধানের ক্ষমতা ৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে নির্বাহী প্রধানের আর্থিক ক্ষমতা ২০১৫ সালের ১৫ কোটি টাকা থেকে সামান্য বাড়িয়ে ১৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার সীমা আগের মতোই ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) আর্থিক ক্ষমতা প্রকল্পের আকার অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণি: ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ১০ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৫ কোটি টাকা ‘খ’ শ্রেণি: ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৫ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৩ কোটি টাকা ‘গ’ শ্রেণি: ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৩ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ১ কোটি টাকা নতুন সিদ্ধান্তে প্রকল্প পরিচালকদের ব্যয়ের অনুমোদন ক্ষমতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। তবে তাঁর মতে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও সময় বাঁচাতে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেছেন। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বেড়েছে, সেই অনুযায়ী ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভালো। তবে অর্থের অপব্যবহার ও অপচয় ঠেকাতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রয় কমিটির অনুমোদন ব্যবস্থা সরকারি ব্যয়ের ওপর নজরদারির একটি অংশ। ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্ব-অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের আর্থিক ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা এসব সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রায় ১৯১ কোটি টাকা ঋণ আদায় করতে চায়।রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকটির সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর সঙ্গে অনাদায়ী সুদ যুক্ত নেই। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে বন্ধক রাখা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বর্তমান অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ঋণগ্রহীতা হিসেবে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস ও বেক্সিমকো নিটিংয়ের সঙ্গে একীভূত হয়।নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক জমির বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের সরাবো মৌজায় ৮ দশমিক ৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য তফসিলে ২ দশমিক ১৯ একর, ৩ দশমিক ৬৬ একর এবং বিভিন্ন পরিমাণ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে।নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজার সম্পত্তিও নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবোর দুটি অংশে মোট ৮ দশমিক ৩৯ একর এবং যাত্রামুড়ায় ৯ দশমিক ২ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের ৮ দশমিক ৫৫ একরসহ তফসিলভুক্ত জমির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৯৬ একর।নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওই দিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্যের ভিত্তিতে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পত্তির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ বলেন, রূপালী ব্যাংকের নিলাম সম্পর্কে তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটি ঋণখেলাপি ছিল না। এরপর কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের অংশ ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকাই এই নিলাম প্রক্রিয়ার প্রাসঙ্গিক পাওনা।অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়াই ভালো।

বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে কমেছে ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে টানা তিন দফা বাড়ার পর এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দামনতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এক দিন আগেই বেড়েছিল দামএর আগে বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।এ বছর ১০৩ বার দাম সমন্বয়চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং সমানসংখ্যক ৫১ দফা কমানো হয়েছে। আর এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে কমেছে ২১৫৮ টাকা