ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠাবিহীন বুদ্ধিমত্তা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন জরুরি।গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ২০২৬ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এ সময়ে বিভ্রান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিকাশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিনয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় করা জরুরি। আধুনিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা নয়; শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, একজন মানুষ জীবনে কতটা সফল হবেন, তা শুধু তাঁর মেধার ওপর নির্ভর করে না। বরং তিনি কতটা শৃঙ্খলা মেনে চলতে পারেন, তার ওপরও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা মত ও ধারণার কারণে সমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাস্তবতা। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি ও ডেটা সায়েন্স সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্রুত হলেও মানবতাকে পথ দেখানোর মৌলিক মূল্যবোধগুলো চিরন্তন। এসব মৌলিক মূল্যবোধে বড় ধরনের পরিবর্তন সমাজে নানা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আগামী দুই দশকে অনেক পেশা বিলুপ্ত বা পরিবর্তিত হতে পারে, আবার এমন অনেক নতুন পেশার সৃষ্টি হবে, যেগুলোর বিষয়ে এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুধু সনদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় দিতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাঁদের গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়।তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিকতা ও ইসলামের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল্যবোধসম্পন্ন, ভদ্র, পরোপকারী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি কীভাবে কাজ করে তা শেখায়, আর ঈমান শেখায় কেন তা সৃষ্টি হয়েছে। জ্ঞান ছাড়া সভ্যতার সূচনা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রযুক্তি ও কৌশলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বে যারা প্রযুক্তি ও কৌশলে এগিয়ে, তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও কৌশল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অনুষ্ঠানে আইআইইউসির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রেজিস্ট্রার কর্নেল মো. কাসেম, পিএসসি (অব.), কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, ফিমেল একাডেমিক জোনের প্রধান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুলতানা আক্তার বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে নবীন ছাত্রীদের শপথ পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। পরে বিভাগীয় ব্রিফিং সেশনে বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে আইআইইউসির ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নবীন ছাত্রীদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দিন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নবীন ছাত্রীরা।