ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের টাকা। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আসাদুজ্জামান বলেন, একটি এলাকার সব সমস্যার সমাধান জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া না হলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসহ যেকোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।শৈলকূপার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। দিগনগর ইউনিয়নেও নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব সড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শৈলকূপার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বেনামি ফটোকার্ডে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেন কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব বিষয় নজরে রেখেই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বেনামি ফটোকার্ডে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জনগণ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা থাকায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তা সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চাই।’আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগোতে হবে। কারণ এই সংবিধান এখনো কার্যকর রয়েছে।সংবিধান সংস্কারে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কারের বিষয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী