নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা
উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগ করেছেন।
গত ১০ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তিনি পদত্যাগপত্র
জমা দেন। আমিনুল ইসলাম
সুজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক রনি বলেন, গত
১০ আগস্ট বেড়াখলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক আমিনুল ইসলাম একটি পদত্যাগপত্র জমা
দিয়েছেন।গত ৩১
মার্চ ‘প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা সেই
আওয়ামী লীগ নেতা সুজনের
বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ
করেছিল আমার দেশ।পদত্যাগপত্রে
যা বলেছেন সুজনপদত্যাগপত্রে আমিনুল
ইসলাম সুজন উল্লেখ করেন,
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে
২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁকে
সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং
কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি
ওই নোটিশের জবাব দেন।সুজনের দাবি,
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায়
২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট তিনি
পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি
বরাবর আবেদন করেন।পদত্যাগপত্রে তিনি
আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭
সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাঁর সাময়িক
বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা
হয়। এরপর তাঁকে দায়িত্ব
বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হলেও
তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বলে দাবি করেন
সুজন।আরও
যেসব অভিযোগ রয়েছেআমিনুল ইসলাম
সুজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে চাকরি
নেওয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত
হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাবে
পাঁচ বছরের ছুটি নেওয়া এবং
এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই কর্মস্থল
থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ
রয়েছে।এ ছাড়া
ভুয়া রেজল্যুশন তৈরি ও ডিজির
স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে
চাকরি হারানোর পর আদালতের রায়ের
মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পুনরায় যোগদান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এবং
জোর করে প্রধান শিক্ষকের
চেয়ার দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।২০২৪ সালের
১২ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ে পুনরায়
দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আমিনুল ইসলাম
সুজন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলামের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।এরই মধ্যে
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে
আমিনুল ইসলাম সুজনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে
ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন হাসিনা ইসলাম।হাইকোর্টের
নির্দেশের কথাও উল্লেখপদত্যাগপত্রে সুজন
দাবি করেন, তাঁর চাকরি ও
দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে
রিট পিটিশনও করা হয়েছিল।রিট পিটিশন
নম্বর ২০৭৭০/২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে
২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট
বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁর আবেদন আইনানুগভাবে
নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বলে পদত্যাগপত্রে
উল্লেখ করেন তিনি।সুজন আরও
বলেন, বিষয়টি পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক
স্বার্থ বিবেচনায় তিনি স্বেচ্ছায় প্রধান
শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি
নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে স্থানীয়
কয়েকজন নাম প্রকাশ না
করার শর্তে অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে
আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল
ইসলাম সুজন তড়িঘড়ি বিদ্যালয়ে
যোগদান করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মামলা থেকে
বাঁচতে তিনি দ্রুত পদত্যাগপত্র
জমা দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।বক্তব্য
পাওয়া যায়নিএসব অভিযোগের
বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও
তিনি ফোন ধরেননি।ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগপত্র জমা
দিয়ে গেছেন। কেন জমা দিয়েছেন,
সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার
কোনো কথা হয়নি। পদত্যাগপত্র
কার্যকর করার জন্য পরবর্তী
ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।