গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ
গাজায় ঘোষিত
যুদ্ধবিরতির পরও
শিশুদের প্রাণহানি থামেনি। জাতিসংঘ শিশু
তহবিল
(ইউনিসেফ) জানিয়েছে, ২০২৫
সালের
১০
অক্টোবর ঘোষিত
তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর
গত
৩০০
দিনে
অন্তত
৩০০
শিশু
নিহত
হয়েছে।
অর্থাৎ,
গড়ে
প্রতিদিন একজন
করে
শিশু
প্রাণ
হারিয়েছে। একই
সময়ে
শত
শত
শিশু
আহত
হয়েছে,
যাদের
অনেকের
অবস্থা
গুরুতর।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক
বিবৃতিতে ইউনিসেফ যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি
পরিকল্পনার সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি
তাদের
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান
জানায়।মধ্যপ্রাচ্য ও
উত্তর
আফ্রিকার জন্য
ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন,
যুদ্ধবিরতির সময়ও
যদি
প্রতিদিন একটি
করে
শিশু
নিহত
হয়,
তবে
তা
শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতারই প্রমাণ। তার
ভাষায়,
গাজার
শিশুরা
এখনও
সেই
সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে,
যার
প্রতিশ্রুতি তাদের
দেওয়া
হয়েছিল।ইউনিসেফ জানায়,
গাজার
বাসিন্দারা এখন
অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের মাত্র
এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে
আশ্রয়
নেওয়া
পরিবারগুলো অপুষ্টি, রোগব্যাধি, নিরাপদ
পানির
সংকট
এবং
ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো
নানা
দুর্ভোগের মুখে
রয়েছে।
ইনকিউবেটরের সংকটের
কারণে
একাধিক
অপরিণত
নবজাতককে একই
যন্ত্র
ব্যবহার করতে
হচ্ছে
বলেও
উল্লেখ
করেছে
সংস্থাটি।অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য
অনুযায়ী, ২০২৩
সালের
অক্টোবর থেকে
গাজায়
ইসরায়েলের সামরিক
অভিযানে ৭৩
হাজার
৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত
হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাবে,
৫৮
হাজারের বেশি
শিশু
তাদের
বাবা-মায়ের একজন বা
উভয়কেই
হারিয়েছে। এছাড়া
১০
লাখের
বেশি
শিশুর
সুরক্ষা ও
মানসিক
সহায়তা
প্রয়োজন। সংস্থাটি এর
আগে
জানিয়েছিল, প্রায়
১৭
হাজার
শিশু
অভিভাবকহীন বা
পরিবার
থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে
পড়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে,
গত
২
আগস্ট
পশ্চিম
গাজা
সিটিতে
এক
হামলায়
এক
গর্ভবতী নারী,
তার
স্বামী
ও
পাঁচ
বছর
বয়সী
সন্তান
নিহত
হন।
পরে
ধ্বংসস্তূপ থেকে
ওই
নারীর
গর্ভস্থ অনাগত
সন্তানের মরদেহ
উদ্ধার
করা
হয়।ইউনিসেফের মতে,
চলমান
সংঘাত
শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব
কেড়ে
নিয়েছে। খেলাধুলার বদলে
অনেক
শিশুকে
পানি
সংগ্রহ,
খাবারের লাইনে
দাঁড়ানো ও
জ্বালানি কাঠ
সংগ্রহে সময়
কাটাতে
হচ্ছে।
বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে খেলাধুলার সরঞ্জাম, কাগজ-কলম ও অন্যান্য শিক্ষা
উপকরণেরও তীব্র
সংকট
রয়েছে।সংস্থাটির মে
মাসের
এক
মূল্যায়নে বলা
হয়,
গাজায়
ছোট
শিশুদের বিকাশের জন্য
প্রয়োজনীয় নিরাপদ
পরিবেশ
নেই।
দীর্ঘদিন শিক্ষা
কার্যক্রম ব্যাহত
হওয়ায়
স্কুলপড়ুয়া শিশুরা
বড়
ধরনের
ক্ষতির
মুখে
পড়েছে।ইউনিসেফের ফিলিস্তিনবিষয়ক যোগাযোগ প্রধান
জোনাথন
ক্রিক্স এর
আগে
বলেছিলেন, যুদ্ধ
শিশুদের কাছ
থেকে
যা
কেড়ে
নিয়েছে,
খেলাধুলা তার
অনেকটাই ফিরিয়ে
দিতে
পারে।
তাই
খেলাধুলা কোনো
বিলাসিতা নয়,
বরং
একটি
মৌলিক
প্রয়োজন।সাম্প্রতিক সংঘাত
কমানোর
উদ্যোগ
ও
ত্রাণ
সহায়তা
বৃদ্ধির ঘোষণাকে স্বাগত
জানিয়ে
এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন,
এখন
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
হলো—হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে কি
না,
পর্যাপ্ত ত্রাণ
পৌঁছাবে কি
না,
হাসপাতালগুলো আবার
চালু
হবে
কি
না
এবং
নিরাপদ
পানির
সরবরাহ
স্বাভাবিক হবে
কি
না।আগামী দুই
সপ্তাহের মধ্যে
নতুন
শিক্ষাবর্ষ শুরু
হওয়ার
কথা।
এ
উপলক্ষে ইউনিসেফ চলতি
সপ্তাহে ৬০০
প্যালেটের বেশি
শিক্ষা
উপকরণ
ও
সাবান
গাজায়
পাঠিয়েছে।