ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাঁর এই আশাবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় যুদ্ধের অবসানে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।ট্রাম্প যদি সত্যিই এই যুদ্ধের অবসান চান, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেও যুদ্ধটি ক্রমেই নিন্দনীয় হয়ে উঠছে। এমনকি কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন জেনারেলও উত্তেজনা আরও বাড়ানো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানসহ আস্থাভাজন তৃতীয় পক্ষ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে আবারও সংলাপের পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান উঠেছে।নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন ঝুঁকিপূর্ণসম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর হিসাব অনুযায়ী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত কমে আসবে। তবে এখন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হতে পারে। যুদ্ধ এমন কোনো সরল বিষয় নয়, যা চাইলেই একটি বোতাম চাপ দিয়ে শেষ করে দেওয়া যায়।গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী ইয়েমেনে আরও কিছু এলাকা দখল করেছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচল ঠেকাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের দিক থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাকি সরকারের’ অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করেছে।ইরাকে শক্তিশালী ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলেও ওই হামলার দায় তখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।লেবাননেও বাড়ছে সংঘাতএদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় হাজারো লেবানিজ নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত যে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আলোচনার পথ খোলার আহ্বানযুদ্ধের আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা উচিত বলে মত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তেহরানেরও প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সোমবার ওমানে আলোচনার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে আঞ্চলিক দেশগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া উচিত। কারণ যুদ্ধের গতিপথ অত্যন্ত অনিশ্চিত। নভেম্বর পর্যন্ত সংঘাতের মাত্রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ওয়াশিংটনের এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই এখনই একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন।

ছয় মাসের যুদ্ধেও নত নয় ইরান, বরং বেড়েছে আত্মবিশ্বাস

ছয় মাসের যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করে দীর্ঘ সময় সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে তেহরান এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। কয়েক মাস ধরে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে ইরানের।মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে ইরানের কট্টরপন্থী সরকার সংঘাত আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এ কারণে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে হিসাবমার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করতে পারে ইরান। তেহরানের হিসাব হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলবে।ট্রাম্প বর্তমানে আলোচনার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হলে ইরান পাল্টা উত্তেজনা বাড়াতে পারে।ক্ষয়ক্ষতির পরও সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরানছয় মাসের সংঘাতে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের সামর্থ্য তেহরানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটির সদস্যদের মতে, ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরির মতো সক্ষমতা তাদের হাতে এখনো রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনের বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে বলে তেহরান মনে করছে।সাইবার হামলার আশঙ্কাসামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার ফ্রন্টও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টির বেশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছিল।এসব হামলায় পানি সরবরাহের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে না পড়লেও কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।ইরানি হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত মাত্রার হামলাও মার্কিন জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়াতে পারে।মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করছে ইরান।মেটা প্ল্যাটফর্মস সম্প্রতি ইরানভিত্তিক কয়েকটি অ্যাকাউন্টের একটি ছোট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: দ্য ডন

ছয় মাসের যুদ্ধেও নত নয় ইরান, বরং বেড়েছে আত্মবিশ্বাস