কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত
চলতি বছরের শেষ
দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং
উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ
করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক
প্রতিক্রিয়ায় ইঙ্গিত মিলছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও নতুন
বৈঠকের জন্য উত্তর কোরিয়া
কঠিন শর্ত দিতে পারে।
খবর রয়টার্সের।বুধবার ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই
কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে
পারে বলে তিনি আশা
করছেন। এর আগে চলতি
সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার
পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এসব
মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলেও মন্তব্য করেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট।মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয়
কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র
জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য
অর্জন করতে আগ্রহী ট্রাম্প।চলতি বছরের শেষ
দিকে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক)
সম্মেলনে ট্রাম্পের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পিয়ংইয়ং আলোচনায় আগ্রহী হলে ওই অঞ্চলে
ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের
সুযোগ তৈরি হতে পারে
বলে সূত্রটি জানিয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন,
কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
তাঁর ভাষায়, ‘উপযুক্ত সময়ে প্রেসিডেন্ট ও
কিম জং উন আবার
বৈঠক করবেন।’তবে উত্তর কোরিয়ার
পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত
ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিশ্লেষকদের
মতে, পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে
ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত
সম্পর্ক এবং দুই দেশের
কূটনৈতিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়।কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন
স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল
বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত
সম্পর্ক কখনোই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা
জোরদারের স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাবে না।সদিচ্ছার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান পিয়ংইয়ংয়েরকিম জং উনের
প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো
জং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার
উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তাঁর দাবি, মহড়া চলমান থাকায়
তা এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপ
এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বৈরীই রয়ে
গেছে।কিম ইয়ো জং
ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে
সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথাও
অস্বীকার করেছেন। তবে দুই নেতার
ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন
তিনি।বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার
চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার
প্রতিবাদ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ করা
হয়েছে।কিম ইয়ো জং
এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে
কোনো ধরনের ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়,
তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব
পাবে না।