ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে দুই কোরিয়ার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে দুই কোরিয়ার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে

উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলের সাগর লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। তবে মোট কতটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।জাপানের কোস্টগার্ডও সোমবার উত্তর কোরিয়ার দুটি অজ্ঞাত বস্তু নিক্ষেপের খবর জানিয়েছে। এগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। বস্তু দুটি এরই মধ্যে সাগরে পড়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার বারবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। সম্প্রতি দুই কোরিয়াই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।দক্ষিণ কোরিয়ার পরীক্ষার পর শক্তি প্রদর্শন?দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জ্যাং দো-ইয়ংয়ের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে থাকতে পারে।গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দেশটির প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা বিরল।লি জে মিয়ংয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, হাইপারসনিক অস্ত্রটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন শেষ হলে কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক অভিযানক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়বে দক্ষিণ কোরিয়ার।এর আগে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ ঘিরেও বিরোধদুই কোরিয়ার উত্তেজনার মধ্যে গত সপ্তাহে সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিমিলিটারাইজড জোন) মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় সিউল।দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সেনারা ওই এলাকায় দুটি মাইন পুঁতেছিল। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্টো দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ তুলেছে দেশটি।মাইন বিস্ফোরণের ঘটনার আগে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের পথ তৈরি করতে ‘প্রাথমিক সমন্বয় প্রচেষ্টা’ চালানোর কথা জানিয়েছিল সিউল।২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।পারমাণবিক কর্মসূচিতে অনড় কিমউত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সক্ষমতা তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। একই সঙ্গে স্থগিত কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন তিনি।২০১৯ সালে কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটেনি।পিয়ংইয়ং এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক’ নীতি পরিত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি আলোচনার শর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত

চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় ইঙ্গিত মিলছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও নতুন বৈঠকের জন্য উত্তর কোরিয়া কঠিন শর্ত দিতে পারে। খবর রয়টার্সের।বুধবার ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে আগ্রহী ট্রাম্প।চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পিয়ংইয়ং আলোচনায় আগ্রহী হলে ওই অঞ্চলে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষায়, ‘উপযুক্ত সময়ে প্রেসিডেন্ট ও কিম জং উন আবার বৈঠক করবেন।’তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়।কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা জোরদারের স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাবে না।সদিচ্ছার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান পিয়ংইয়ংয়েরকিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মহড়া চলমান থাকায় তা এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বৈরীই রয়ে গেছে।কিম ইয়ো জং ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন। তবে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে না।

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত