ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ধর্ম, সাহিত্য ও ইতিহাসের স্মৃতিতে গিরিশ চন্দ্র সেন

ধর্ম, সাহিত্য ও ইতিহাসের স্মৃতিতে গিরিশ চন্দ্র সেন

নরসিংদীর মেহেরপাড়ায় গেলে ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। পাঁচদোনা গ্রামের ড্রিম হলিডে পার্কের সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে পবিত্র কোরআন শরীফের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি। বর্তমানে বাড়িটিতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন মিউজিয়াম’।দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বাড়িটি ২০১৬ সালে মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ভারতীয় কমিশনারের অনুদানে সংস্কারের পর এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।পুরোনো কাঠামোয় নতুন করে সংরক্ষণগিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি সংস্কারের সময় ঐতিহ্যবাহী নির্মাণসামগ্রী চুন ও সুরকির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা মূল্যবান কাঠ ও টালি ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ির অন্দরমহল সাজানো হয়েছে ব্রিটিশ আমলের আসবাব দিয়ে।বাড়ির সামনের অংশে স্থাপন করা হয়েছে গিরিশ চন্দ্র সেনের একটি আবক্ষ মূর্তি। সেখানে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্মের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।বাড়িতে গড়ে তোলা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে গিরিশ চন্দ্র সেনের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র, তাঁর বাস্তুভিটায় পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং তাঁর লেখা বই। এসব নিদর্শন দর্শনার্থীদের তাঁর জীবন, গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়।প্রতি সপ্তাহের রোববার ছাড়া অন্য ছয় দিন জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদগিরিশ চন্দ্র সেন ১৮৩৪ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদ। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে তিনি গবেষণা ও অনুবাদ করেন।ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হয়েও তিনি পবিত্র কোরআন শরীফ বাংলায় অনুবাদের উদ্যোগ নেন। কোরআন ও ইসলামি ধর্মীয় গ্রন্থ অনুবাদের কারণে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক হিসেবে তাঁকে ‘ভাই’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। পরে আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং কোরআন-হাদিসের অনুবাদক হিসেবে তিনি ‘মৌলভি’ উপাধিও লাভ করেন।ইতিহাস জানার একটি স্থানগিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি ও জাদুঘর শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি নরসিংদীর ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য ও ধর্মীয় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। এখানে সংরক্ষিত বই, ব্যবহার্য সামগ্রী ও প্রত্ননিদর্শন অতীতের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের একটি সংযোগ তৈরি করেছে।১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট গিরিশ চন্দ্র সেন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্মভূমিতে গড়ে ওঠা এই জাদুঘর তাঁর জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।লেখক: মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ