চট্টগ্রামে নারীদের জন্য চালু হলো বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস
চট্টগ্রাম নগরে কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে পিংক রঙের বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। এই সার্ভিসের দুটি
বাসের চালক ও হেলপার
হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা।মঙ্গলবার দুপুরে
নগরের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এ বাস
সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ
সদস্য এরশাদ উল্লাহ। এ সময় উপস্থিত
ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন,
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার
মাসুদ আলম এবং বিআরটিএ
চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।জেলা প্রশাসন
সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে
দুটি পিংক বাস চালু
করা হয়েছে। বাস দুটি কালুরঘাট
বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু
করে ফ্রি পোর্ট হয়ে
পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। নারী যাত্রীদের সুবিধার
জন্য দীর্ঘ এই রুটে রাখা
হয়েছে ১২টি নির্দিষ্ট স্টপেজ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
এরশাদ উল্লাহ বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর একটি
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, যা আজ
বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস সার্ভিসটির পরিচালনা
প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ত করাকে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ
হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন,
এই বাস সার্ভিস চালুর
ফলে নারীদের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা
করা হচ্ছে।বিশেষ এই
বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় চট্টগ্রামের
নারীদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে উদ্যোগটিকে দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার
বাস্তবায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, নারী যাত্রীদের
জন্য আলাদা এ ধরনের পরিবহন
চালু হওয়ায় গণপরিবহনে হয়রানি কমতে পারে। তবে
নগরে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি
জানিয়েছেন তাঁরা।নারী উদ্যোক্তা
আয়শা আক্তার বলেন, এ ধরনের বিশেষ
বাস সার্ভিস চালু করায় সরকারকে
ধন্যবাদ। তবে চট্টগ্রাম নগরের
আয়তন ও কর্মজীবী নারীর
সংখ্যা বিবেচনায় বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।তিনি বলেন,
যেসব নারীকে প্রতিদিন একা কর্মস্থলে যাতায়াত
করতে হয়, তাঁদের জন্য
নিরাপদ গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা স্বস্তি
বয়ে আনবে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
মনে করছেন, বিশেষ এই বাস সার্ভিসের
মাধ্যমে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা
ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের নতুন
কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।