ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজন করেছে গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘গবেষণা থেকে বাস্তবতা’ কীভাবে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহনের সম্ভাব্যতা প্রকল্প তৈরি করেছি। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইর্তিজা আহম্মদ রাইফা। অনুষ্ঠানে এআইইউবির উপাচার্য, অধ্যাপক, শিক্ষক, গবেষক, বিশেষ অতিথি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় এআইইউবির গবেষণা দলের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রচলিত তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের গবেষণা পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্মার্ট ও নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।অনুষ্ঠানে ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন- বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ধারণাকে বাস্তব, কার্যকর ও টেকসই প্রকল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিবহন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দিতে পারে। গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে কার্যকর প্রভাব ফেলে, এ ধরনের উদ্যোগ সেই পথ তৈরি করতে পারে।অনুষ্ঠানে তরুণদের গবেষণা, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং সেখান থেকে মানুষের জন্য কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হবে।

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে শিক্ষায় আসছে বড় সংস্কার

শিক্ষাব্যবস্থায় মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।তিনি বলেন, জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা দেখিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। এখন দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের শিক্ষা কাঠামো, নতুন শিক্ষাক্রম, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, কারিগরি শিক্ষা, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র নিয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনমাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রম নতুন করে সাজানো হবে। পুরো কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই শিক্ষাক্রম তৈরি করা হবে।তবে এর আগে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার কথা জানান মাহদী আমিন। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নিসাম্প্রতিক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও জেনুইন ফলাফল পেয়েছে।’ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণএসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না বলে জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, এসব তরুণকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।বিভাগ ও জেলায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জবেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।মাহদী আমিন বলেন, এসব কেন্দ্রে কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবশিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির কথা জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় গুরুত্ববিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।স্থানীয় শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।পাশাপাশি গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমানোর উদ্যোগগ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।এর মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে শিক্ষায় আসছে বড় সংস্কার

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজের গতি বাড়াতে এর ব্যবহার হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় মিস-ইনফরমেশন ও ডিপফেক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআইয়ের অপব্যবহার সাইবার অপরাধ আরও জটিল করে তুলতে পারে।প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই ব্যবহার করে এমন ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব নয় যে সেগুলো ভুয়া। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, ডেটা নিরাপত্তা এবং এআই মডেলের পক্ষপাত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা বলেন, আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক। এগুলো মোকাবিলায় মানুষের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।এখনো হয়নি এআই নীতিমালাদেশে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এআই নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং এ ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।গত ৭ জুলাই আইসিটি টাওয়ারে টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে এআই নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে এবং শিগগির নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এআই যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে, তেমনি এর অপব্যবহারও নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভুয়া তথ্য, ডিপফেক ও জনমত প্রভাবিত করার কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে ভুয়া ভিডিওসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কনটেন্ট এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যে অনেকেই সেগুলোকে বাস্তব ঘটনা মনে করছেন। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক মানুষ তা করতে পারছেন না।সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শেখ হাসিনাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি ভুয়া বলে জানা যায়।তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি প্রায় এক হাজার ভুয়া ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এসব ভিডিও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।রাজনৈতিক কনটেন্টেও অপব্যবহারের অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এআইয়ের অপব্যবহার শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আলোচনার বিষয়। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নির্বাচনী জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক দ্বিদলীয় নীতি কেন্দ্র ‘Preparing for Artificial Intelligence and Other Challenges to Election Administration’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদপ্রযুক্তিবিদদের মতে, এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এআই নীতিমালা তৈরির জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইউনেস্কোর পরামর্শ নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ