ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগকেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও।রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজরাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি।মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধরূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে।৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগসম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে।সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না।সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে।এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থাপুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে।রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন।অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি।কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রস্তাবিত হ্যাশট্যাগ: #চাঁদাবাজি #জমিদখল #কেরানীগঞ্জ #মিরপুর #রূপনগর #রাজধানী #আইনশৃঙ্খলা #বাংলাদেশচাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ টপিক: চাঁদাবাজি, জমি দখল, নির্মাণকাজ বন্ধ, কেরানীগঞ্জ, মিরপুর, আইনশৃঙ্খলা ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও। রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজ রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি। মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না। ১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে। সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না। সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে। এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি। কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

গ্যাস নেই ৭ দিন, এলপিজি কিনতেও হিমশিম কেরানীগঞ্জবাসীর

ঢাকার কেরানীগঞ্জে টানা সাত দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সংকট থাকলেও গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কার্যক্রম।গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য বিদ্যুৎ ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে সংকটের কারণে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।এদিকে গ্যাসসংকট নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন তিতাস গ্যাসের জোন-৫ (জিনজিরা) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন গ্যাসের দাবিতে বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ কার্যালয়ে ভিড় করছেন। গ্যাস না পাওয়ার ক্ষোভে কেউ কেউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। ফলে হামলার আশঙ্কায় দিন কাটছে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।গত বৃহস্পতিবার জিনজিরার তিতাস কার্যালয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।অবৈধ সংযোগ নিয়ে অভিযোগএলাকাবাসীর অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের তুলনায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা বেশি। ২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ বছরে মিল-কারখানা, ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ সংযোগের কারণে সারা বছরই কেরানীগঞ্জে গ্যাসের সংকট থাকে। তবে গত সাত দিনে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে কোনো কোনো এলাকায় একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তিতাসের ৫ হাজার ৬৭৩টি শিল্প গ্রাহকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়তি দামগ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেরানীগঞ্জবাসীর একটি বড় অংশ এখন এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সংকট তৈরি হয়েছে।সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। কিন্তু কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।আগানগর, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের কয়েকটি দোকানে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, যমুনা এলপিজি, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, ইউনাইটেড আইগ্যাস, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি, নাভানা এলপিজি ও টোটালগ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।‘গ্যাসের জন্য হাহাকার’জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফাতেমা আমিন একা বলেন, গত সাত দিন ধরে জিনজিরাসহ কেরানীগঞ্জের নয়টি ইউনিয়নের কোথাও গ্যাস নেই। গ্যাসের জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে।তিনি বলেন, এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন। অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। আবার কেউ কেউ রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।গ্যাসের চাপ মাত্র ২তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্র বলেন, বাসাবাড়ির চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ সাধারণত অনেক কম থাকে। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে চাপ প্রায় ২০ থেকে ৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০ থেকে ১২ থাকে।কিন্তু বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনে প্রেসার মাত্র ২। এ কারণে বাসাবাড়িতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বড় বড় কারখানাও বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।গ্যাস না পাওয়ার পেছনে বার্নারের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেগুলেটরের সমস্যা, পাইপ ভাঁজ বা লিক হওয়া, নিচু এলাকা হওয়া, গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে যাওয়া এবং লাইনে চাপ কমে যাওয়ার মতো কারণও থাকতে পারে বলে জানান তিতাসের এই কর্মকর্তা।‘গত এক বছরে অর্ধশত অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন’কেরানীগঞ্জে অসংখ্য অবৈধ তিতাস গ্যাস সংযোগ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বিধান চন্দ্র মৈত্র বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় অর্ধশত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।এলাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসের লাইন ও চুলা কীভাবে চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অজান্তেই এগুলো হয়েছে।’তাঁর দাবি, অতীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এসব অবৈধ সংযোগ স্থাপন করেছেন।পাইপলাইন পরিবর্তনের পরও মিলছে না গ্যাসগ্যাস ঠিকাদার শাহ আলম জানান, কেরানীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাঁও এলাকায় ডিআরএসএ ভালভ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পরিবর্তনের পরও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।ঢাকা শহরের গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে কেরানীগঞ্জের গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।টানা সাত দিন গ্যাস না থাকায় কেরানীগঞ্জের বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাগুলোও বিপাকে পড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গ্যাস নেই ৭ দিন, এলপিজি কিনতেও হিমশিম কেরানীগঞ্জবাসীর