ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের অধিবেশন। সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এবারের অধিবেশনে ইরান, গাজা, ইউক্রেন, সুদান, কঙ্গো ও মিয়ানমারের সংঘাত গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশের বিপরীতে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এখনো সীমিত। এআই নিয়ে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব উদ্বেগকে ‘হোক্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।জলবায়ু সংকট নিয়েও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র এবং প্রধান জ্বালানি উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করবেন।এদিকে জাতিসংঘের সংস্কার ও আর্থিক সংকটও আলোচনায় থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত সংস্কার প্যাকেজে সম্মত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়ছে শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও। যুক্তরাষ্ট্র বকেয়া চাঁদার একটি অংশ পরিশোধ করায় চলতি বছর সাধারণ পরিষদে দেশটির ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেছে। তবে অর্থসংকটের কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে কাটছাঁটের চাপ অব্যাহত রয়েছে।মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার বক্তব্য দেওয়ার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের। বৃহস্পতিবার ভাষণ দেবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা এবারের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিউইয়র্কের পরিবর্তে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। তাঁর পরিবর্তে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আসছেন না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সফর বাতিল করেছেন।যুদ্ধ-সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এআই এবং জাতিসংঘের সংস্কার- সব মিলিয়ে এবারের অধিবেশনে বৈশ্বিক নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে। সূত্র: এপি নিউজ ও রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ইসরাইলের

ইসরাইলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে অস্তিত্বহীন একটি থিংক ট্যাংকের নামে বিপুল পরিমাণ লেখা প্রকাশ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এক অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ অস্তিত্ব, কার্যালয় কিংবা পরিচিত কর্মীর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র নয় দিনে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে ১২৪টি প্রতিবেদন। ৬ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের মোট শব্দসংখ্যা ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি।এর মধ্যে ১২ ও ১৩ আগস্ট মাত্র দুই দিনে প্রকাশ করা হয় প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার শব্দের ৭৩টি প্রতিবেদন।গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতিবেদনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সেগুলোকে একটি নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ হিসেবে মনে হয়। মূল লক্ষ্য ছিল এআই চ্যাটবটে ব্যবহারকারীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরের ক্ষেত্রে এসব কনটেন্টকে সামনে আনা।এসব প্রতিবেদনে এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়—ইসরাইল কি গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, ইসরাইল কি ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং ইহুদিবাদের বিরোধিতা কি ইহুদিবিদ্বেষের সমান?তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিবেদনের ভাষা ও তথ্য উপস্থাপনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে দুর্বল করার প্রবণতা ছিল।গার্ডিয়ানের হিসাবে, ১২৪টি প্রতিবেদনের মধ্যে ২০টিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়েছে, কোনো আদালত এখনো এসব বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়নি।অন্যদিকে, ৫৫টি প্রতিবেদনে গাজায় হতাহত ও ত্রাণ পরিস্থিতির পরিসংখ্যানকে ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষের’ তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন—এমন একটি ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।পেছনে ইসরাইলের হয়ে কাজ করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানওয়েবসাইটটির সঙ্গে নিউইয়র্কভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান পাইরো ইনকের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। মার্কিন আইনের ‘ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’ (এফএআরএ)-এর আওতায় পাইরো ইসরাইল সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে।নথি অনুযায়ী, এ কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১০ লাখ ডলারের একটি চুক্তিতে যুক্ত ছিল।অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্তিত্বহীন হ্যানোভার ইনস্টিটিউটকে ঘিরে এই কার্যক্রম ইসরাইলের বৃহত্তর অনলাইন প্রচারণার অংশ। মার্কিন নথিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই ধরনের প্রচারণায় কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের তথ্যও উঠে এসেছে।এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট তৈরি করা, যেগুলো এআই সার্চ ও চ্যাটবটের উত্তরে উদ্ধৃত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।এআই প্রচারণায় নতুন কৌশলপ্রযুক্তি খাতে এ ধরনের কৌশলকে ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ বা জিইও বলা হচ্ছে। সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনে কোনো ওয়েবসাইটের অবস্থান ওপরে তোলার বদলে এ কৌশলের লক্ষ্য হলো চ্যাটজিপিটি, ক্লদ, জেমিনি কিংবা পারপ্লেক্সিটির মতো এআই সিস্টেমের উত্তরে নির্দিষ্ট তথ্য বা বয়ানকে বেশি দৃশ্যমান করা।গবেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের কনটেন্ট ভবিষ্যতে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ-তথ্যের ভান্ডারে যুক্ত হলে এর প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।তবে এই প্রচারণা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গার্ডিয়ানের পরীক্ষায় দেখা গেছে, চ্যাটবটগুলো ইতিমধ্যে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সতর্কতা দেখাতে শুরু করেছে। অর্থাৎ এসব প্রচারণামূলক কনটেন্ট এআইয়ের উত্তরে প্রভাব ফেললেও, কনটেন্টের উৎস নিয়ে সন্দেহের বিষয়টিও সামনে আসছে।যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনমতেও পরিবর্তনএদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিতও বিভিন্ন জরিপে পাওয়া গেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্যালাপের এক জরিপে প্রথমবারের মতো ইসরাইলিদের তুলনায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতি দেখানোর কথা জানান আমেরিকানরা।এপ্রিলের পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন।তবে ইসরাইলি সরকার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ‘প্রভাব বিস্তার অভিযান’ চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাইরোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গও বলেছেন, তাদের কাজ ছিল ইসরাইল সম্পর্কে ‘সঠিক ও তথ্যসূত্রসমৃদ্ধ’ তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং ভুল তথ্যের মোকাবিলা করা।বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা এআইয়ের যুগে তথ্যযুদ্ধের নতুন একটি দিক সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআই চ্যাটবটের তথ্যভান্ডার ও উত্তরের কাঠামোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।ফলে এআই থেকে পাওয়া তথ্যের উৎস, নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ইসরাইলের

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। একই সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।গাজা সিটির একটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস এ অভিযোগ করে। হামাস ওই হামলাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘পরিকল্পিত উত্তেজনা সৃষ্টির পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।হামাসের দাবি, গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছেন।সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কায়রো আলোচনা এবং চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা প্রমাণ করে যে নেতানিয়াহু আলোচনা নস্যাৎ করতে চান।চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ দেওয়ার আহ্বানহামাস ইসরায়েল সরকারকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে চলা এবং হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুকে শারম এল-শেখ চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে মার্কিন প্রশাসন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং চুক্তির নিশ্চয়তাদানকারী পক্ষগুলোর প্রতি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।হামাস বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সূত্র: আল-জাজিরা

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হামাস

গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ

গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের প্রাণহানি থামেনি। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর গত ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও যদি প্রতিদিন একটি করে শিশু নিহত হয়, তবে তা শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতারই প্রমাণ। তার ভাষায়, গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।ইউনিসেফ জানায়, গাজার বাসিন্দারা এখন অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো অপুষ্টি, রোগব্যাধি, নিরাপদ পানির সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো নানা দুর্ভোগের মুখে রয়েছে। ইনকিউবেটরের সংকটের কারণে একাধিক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাবে, ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন বা উভয়কেই হারিয়েছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, প্রায় ১৭ হাজার শিশু অভিভাবকহীন বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ওই নারীর গর্ভস্থ অনাগত সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ইউনিসেফের মতে, চলমান সংঘাত শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব কেড়ে নিয়েছে। খেলাধুলার বদলে অনেক শিশুকে পানি সংগ্রহ, খাবারের লাইনে দাঁড়ানো ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে সময় কাটাতে হচ্ছে। বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে খেলাধুলার সরঞ্জাম, কাগজ-কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণেরও তীব্র সংকট রয়েছে।সংস্থাটির মে মাসের এক মূল্যায়নে বলা হয়, গাজায় ছোট শিশুদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্কুলপড়ুয়া শিশুরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।ইউনিসেফের ফিলিস্তিনবিষয়ক যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিক্স এর আগে বলেছিলেন, যুদ্ধ শিশুদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে, খেলাধুলা তার অনেকটাই ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক প্রয়োজন।সাম্প্রতিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ ও ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে কি না, পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাবে কি না, হাসপাতালগুলো আবার চালু হবে কি না এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না।আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। এ উপলক্ষে ইউনিসেফ চলতি সপ্তাহে ৬০০ প্যালেটের বেশি শিক্ষা উপকরণ ও সাবান গাজায় পাঠিয়েছে।

গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ