সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর
সংবাদ
প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল
হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ
উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে
তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক
তুলে দেন।এ
সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর
চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস
দেন।সহায়তার
চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে
পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি
জানান, ২০২৪ সালের ৩
আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময়
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের
হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা
ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর
ডান হাতের রগ কেটে দেয়।
গুরুতর আহত হওয়ার পর
দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও
আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল
বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর
ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ
করছে না। অর্থের অভাবে
উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি
চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে
ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি
প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি
জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা
করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর
নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার
ব্যয় বহন করা তাঁর
জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা
প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন
আমাকে অনেক টাকার ওষুধ
খেতে হয়। কিন্তু তা
কেনার মতো সামর্থ্য আমার
নেই। এমন কঠিন সময়ে
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য
অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক
হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস
এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন,
‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি
পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর
চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত
নিই। আজ তাঁর হাতে
অনুদানের চেক তুলে দিতে
পেরে ভালো লাগছে।’তিনি
আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের
চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত
না হয়, সে বিষয়ে
আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর
উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা
অব্যাহত থাকবে।