নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ ১২ দফা দাবি
কর্মক্ষেত্রে জীবনের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ১২ দফা দাবি
জানিয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
এসব দাবি তুলে ধরে
সংগঠনটি।সংবাদ সম্মেলনে
ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন
লিখিত বক্তব্যে নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার ও
সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।আব্দুল মতিন
বলেন, দেশে প্রায় ৮০
লাখ নির্মাণ শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন।
নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা বহুতল
ভবন, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু ও আধুনিক
মার্কেটসহ নানা ধরনের অবকাঠামো
নির্মাণে যুক্ত থাকেন। কিন্তু এসব শ্রমিকের সার্বিক
জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ অত্যন্ত
করুণ এবং মানবেতর।তিনি বলেন,
অধিকাংশ নির্মাণ শ্রমিককে সেফটি হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুট ও গ্লাভসের
মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়।
ফলে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।ফেডারেশনের সভাপতি
আরও বলেন, জাতীয় শ্রম আইন অনুযায়ী
শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ
শ্রমিকের অধিকাংশই এই মৌলিক অধিকার
থেকে বঞ্চিত। নিয়োগপত্র না থাকায় তাঁরা
নিয়মিত বঞ্চনা ও মালিকপক্ষের হয়রানির
শিকার হন।১২ দফা দাবিসংবাদ সম্মেলনে
নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে যে ১২ দফা
দাবি জানানো হয়, সেগুলো হলো—১. শ্রম
আইন অনুযায়ী নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান
করা।২. কর্মক্ষেত্রে
নির্মাণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।৩. নির্মাণ
শ্রমিকদের জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করা।৪. শ্রমিকদের
সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সময়ের
জন্য ‘অবসর কল্যাণ’ ভাতা
নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে আলাদা
কল্যাণ ফান্ড গঠন করা।৫. কর্মক্ষেত্রে
নিহত ও আহত নির্মাণ
শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ,
সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা
করা।৬. নির্মাণ
শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ
কর্মস্থল ও শ্রম আইন
বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।৭. নির্মাণ
শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক
সরকারি হাসপাতাল চালু করা।৮. যেকোনো
ধরনের নির্মাণকাজের জন্য সরকারি অনুমোদন
বাধ্যতামূলক করা এবং নির্মাণ
ব্যয়ের ১ শতাংশ নির্মাণ
শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দেওয়া।৯. নির্মাণ
শ্রমিকদের সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের ধারা
সংশোধন করে শ্রমিকবান্ধব আইন
প্রণয়ন করা।১০. প্রতিটি
নির্মাণ শ্রমিককে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা।১১. নির্মাণ
শ্রমিকদের জন্য সব ধরনের
সরকারি ছুটি কার্যকর করা।১২. নির্মাণ
শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে সার্বিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংগঠনটি
বলেছে, দেশের অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই
বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার ও
সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর
পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।