শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু
ক্ষমতাচ্যুত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে
ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে নির্দিষ্ট
তারিখ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপি
নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।রোববার
দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা
বলেন। রুহুল
কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত
শেখ হাসিনা হুমকি দেন, ডিসেম্বর মাসে
আসবেন। আপনি স্পষ্ট করে
ঘোষণা দেন, ২০৩০ সালে
নাকি ২০৫০ সালের ডিসেম্বর
আসবেন?’শেখ
হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকগুলো দুর্বল করে বিপুল অর্থ
নিয়ে পালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,
শেখ হাসিনা শুধু পালিয়ে যাননি,
বরং দেশের ব্যাংকগুলো ফোকলা করে লাখ লাখ
কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। গত
ছয় মাসে আইনবহির্ভূত কোনো
হত্যাকাণ্ড ঘটেনি দাবি করে দুলু
বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা পক্ষগুলো প্রতিপক্ষকে
বিভিন্নভাবে ঘায়েল করলেও বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে
বেরিয়ে এসেছে।তিনি
আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে
প্রথমবারের মতো মসজিদের ইমামদের
সরকারি ভাতা ও বেতনের
ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য
ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থা
নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন
তিনি। দুলুর
ভাষ্য, ‘এই বিধ্বস্ত দেশকে
তারেক রহমান সাহেব একটা নিয়মের মধ্যে
নিয়ে এসেছেন।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার
সমাধান করার কথা তারেক
রহমান বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন
তিনি।জুলাই
আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে দুলু বলেন,
ওই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে
হত্যা করা হয়েছে এবং
সেই রক্ত এখনো শুকায়নি।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,
আপনি কোন বর্ডার দিয়ে
আসবেন ঘোষণা দেন। এ
সময় তিনি নিখোঁজ বিএনপি
নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী
আলমের পরিবারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ফাঁসি ও বিরোধী দলের
নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ
তুলে ধরেন তিনি।দুলু
বলেন, আপনি দেশে আসলে
এবার আর সংসদের মধ্যে
নয়, বরং কাশিমপুর কারাগারে
রাখা হবে ইনশাআল্লাহ। বিরোধী
দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক
মতপার্থক্য থাকলেও ‘ফ্যাসিস্টদের’ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।আলোচনা
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের
সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যে
সচিবালয়ে চলে আসেন। এতে
সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ
দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক কাজে
গতি ফিরেছে বলে দাবি করেন
তিনি।সরকারের
বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে
মাহমুদা হাবীবা বলেন, গত পাঁচ মাসে
২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি
ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। হজের
ফ্লাইট শেষ হওয়ার পর
উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে প্রত্যেক
হাজিকে টাকা ফেরত দেওয়া
হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ
করেন।জনপ্রশাসনের
ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন,
১০০ টাকা বাজেট থাকলে
সেখানে জনপ্রশাসনের পেছনে ব্যয় করতে হয়
৬০ টাকা। একটা মাথামোটা জনপ্রশাসন
আমরা পুষে যাচ্ছি। এটা
থেকে যত দ্রুত সম্ভব
মুক্ত করতে পারব, তত
দ্রুত আমরা উন্নত রাষ্ট্রে
পরিণত হব। আলোচনা
সভায় আরও বক্তব্য দেন
জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক
মো. এছাহক আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্বাস আলী
এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মোমিন সরকার প্রমুখ।