ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু

শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে নির্দিষ্ট তারিখ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা হুমকি দেন, ডিসেম্বর মাসে আসবেন। আপনি স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন, ২০৩০ সালে নাকি ২০৫০ সালের ডিসেম্বর আসবেন?’শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকগুলো দুর্বল করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা শুধু পালিয়ে যাননি, বরং দেশের ব্যাংকগুলো ফোকলা করে লাখ লাখ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। গত ছয় মাসে আইনবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি দাবি করে দুলু বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা পক্ষগুলো প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে ঘায়েল করলেও বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মসজিদের ইমামদের সরকারি ভাতা ও বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দুলুর ভাষ্য, ‘এই বিধ্বস্ত দেশকে তারেক রহমান সাহেব একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছেন।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করার কথা তারেক রহমান বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে দুলু বলেন, ওই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেই রক্ত এখনো শুকায়নি। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি কোন বর্ডার দিয়ে আসবেন ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের পরিবারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ফাঁসি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।দুলু বলেন, আপনি দেশে আসলে এবার আর সংসদের মধ্যে নয়, বরং কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে ইনশাআল্লাহ। বিরোধী দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ‘ফ্যাসিস্টদের’ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।আলোচনা সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যে সচিবালয়ে চলে আসেন। এতে সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরেছে বলে দাবি করেন তিনি।সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে মাহমুদা হাবীবা বলেন, গত পাঁচ মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। হজের ফ্লাইট শেষ হওয়ার পর উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে প্রত্যেক হাজিকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসনের ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১০০ টাকা বাজেট থাকলে সেখানে জনপ্রশাসনের পেছনে ব্যয় করতে হয় ৬০ টাকা। একটা মাথামোটা জনপ্রশাসন আমরা পুষে যাচ্ছি। এটা থেকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করতে পারব, তত দ্রুত আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এছাহক আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্বাস আলী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মোমিন সরকার প্রমুখ।

ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব

কোনো সরকারের প্রথম কয়েক মাসেই তার অগ্রাধিকার, সক্ষমতা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশের অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিক গণতন্ত্রে তাই সরকারের প্রথম ১০০ দিন বা ছয় মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও ছয় মাস পূর্তিতে সেই মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।আজ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেয়।সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অধিকাংশই ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কতটা মিল রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নও রয়েছে।১৮০ দিনের হিসাবসরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১৮০ দিনের একটি সময়সীমা প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের ভাষণে তিনি সরকার ও দলের কাজের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য এই সময়ের কথা তুলে ধরেন।নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।’ ফলে ছয় মাস পূর্তির এই মূল্যায়ন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরীক্ষা নয়; বরং সরকারের নিজের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতাগণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবায় দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চাইছেন মানুষ।সরকার ইতোমধ্যে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে। তবে ছয় মাসের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে সরকারকে এখনই পুরোপুরি সফল কিংবা ব্যর্থ—কোনো একটি অভিধায় চিহ্নিত করা কঠিন।সরকারের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতিতে পরিবর্তন আসেনি। ফলে ছয় মাসের হিসাবের পাল্লা এখনো পুরোপুরি কোনো একদিকে হেলে পড়েনি।সামনে আরও বড় পরীক্ষারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি সরকারের জন্য প্রথম ছয় মাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা।সব মিলিয়ে ছয় মাসের মূল্যায়নে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে একেবারে সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার খাতায় ফেলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পাল্লা সামান্য হলেও আশার দিকেই ঝুঁকে আছে—এমন মূল্যায়নই সামনে আসছে।

ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব