ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর
জুলাই আন্দোলন ঘিরে
সংঘটিত
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি
মামলার
রায়
চলতি
সেপ্টেম্বরেই ঘোষণা
হতে
যাচ্ছে। এর
মধ্যে
আওয়ামী
লীগের
সাধারণ
সম্পাদক ও
সাবেক
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত
আসামির
বিরুদ্ধে করা
মামলার
রায়
আগামী
৮
সেপ্টেম্বর ঘোষণা
করার
জন্য
প্রাথমিকভাবে দিন
নির্ধারণ করা
হয়েছে।
আজ
রোববার
এ
বিষয়ে
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
আসতে
পারে।অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় জুলাই
আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়
আওয়ামী
লীগের
যুগ্ম
সাধারণ
সম্পাদক মাহবুব
উল
আলম
হানিফসহ চার
আসামির
মামলার
রায়
সেপ্টেম্বরের শেষ
সপ্তাহে ঘোষণা
করা
হতে
পারে
বলে
আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র
জানিয়েছে।দুটি মামলার
বিচারিক কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল-২-এ সম্পন্ন হয়েছে
এবং
মামলাগুলো রায়ের
জন্য
অপেক্ষমাণ রয়েছে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন
বিচারপতি নজরুল
ইসলাম
চৌধুরী। প্যানেলের অন্য
দুই
সদস্য
হলেন
বিচারক
মঞ্জুরুল বাছিদ
ও
বিচারক
নূর
মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলাওবায়দুল কাদের
ছাড়া
এ
মামলার
অন্য
আসামিরা হলেন
আওয়ামী
লীগের
যুগ্ম
সাধারণ
সম্পাদক আ
ফ
ম
বাহাউদ্দিন নাছিম,
সাবেক
তথ্য
প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী
আরাফাত,
যুবলীগের সভাপতি
শেখ
ফজলে
শামস
পরশ
ও
সাধারণ
সম্পাদক মাইনুল
হোসেন
খান
নিখিল
এবং
নিষিদ্ধ ঘোষিত
ছাত্রলীগের সভাপতি
সাদ্দাম হোসেন
ও
সাধারণ
সম্পাদক শেখ
ওয়ালী
আসিফ
ইনান।গত ১৭
আগস্ট
প্রসিকিউশন ও
আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ
হলে
মামলাটি রায়ের
জন্য
অপেক্ষমাণ রাখেন
ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশনের অভিযোগ,
জুলাই
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে
আন্দোলনকারীদের দমন,
হত্যার
পরিকল্পনা ও
ষড়যন্ত্র করা
হয়েছিল। এ
বিষয়ে
বিভিন্ন অডিও
ও
ভিডিও
প্রমাণ
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা
হয়েছে
বলে
প্রসিকিউশনের পক্ষ
থেকে
জানানো
হয়।প্রসিকিউশনের দাবি,
আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি
করার
নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।
তাঁর
সঙ্গে
বৈঠকে
বাহাউদ্দিন নাছিমও
উপস্থিত ছিলেন
বলে
আদালতে
জানানো
হয়।এ ছাড়া
যুবলীগের সভাপতি
শেখ
ফজলে
শামস
পরশ
ও
সাধারণ
সম্পাদক মাইনুল
হোসেন
খান
নিখিলের নির্দেশে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে
হত্যাকাণ্ডে অংশ
নেন
বলে
অভিযোগ
করা
হয়েছে।
নিখিলের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার
একটি
ভিডিও
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথাও
জানিয়েছে প্রসিকিউশন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর
হামলার
ঘটনায়
ছাত্রলীগের সভাপতি
সাদ্দাম হোসেন
ও
সাধারণ
সম্পাদক শেখ
ওয়ালী
আসিফ
ইনানের
নেতৃত্বের বিষয়টিও প্রসিকিউশনের যুক্তিতে উঠে
আসে।মামলায় মোট
২৮
জন
সাক্ষী
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাবি,
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা
অভিযোগ
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ
করা
হয়েছে।
তাই
তাদের
সর্বোচ্চ শাস্তি
দাবি
করা
হয়েছে।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের
মক্কেলদের নির্দোষ দাবি
করে
অভিযোগ
থেকে
অব্যাহতি দেওয়ার
আবেদন
করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল
ইসলাম
বলেন,
সাত
আসামির
বিরুদ্ধে অপরাধের যাবতীয়
প্রমাণ
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা
হয়েছে।
অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে
বলে
তাঁরা
মনে
করেন
এবং
আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি
হবে
বলে
আশা
করছেন।গত ২২
জানুয়ারি সাত
আসামির
বিরুদ্ধে অভিযোগ
গঠন
করে
বিচার
শুরুর
আদেশ
দেন
ট্রাইব্যুনাল-২।
এর
আগে
গত
বছরের
১৮
ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
আমলে
নেওয়া
হয়েছিল।কুষ্টিয়ার মামলায় চার আসামিজুলাই আন্দোলনের সময়
কুষ্টিয়ায় সংঘটিত
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা
মামলায়
মাহবুব
উল
আলম
হানিফসহ চার
আসামি
রয়েছেন।হানিফ ছাড়া
অন্য
আসামিরা হলেন
কুষ্টিয়া জেলা
আওয়ামী
লীগের
সভাপতি
সদর
উদ্দিন
খান,
সাধারণ
সম্পাদক আজগর
আলী
এবং
কুষ্টিয়া শহর
আওয়ামী
লীগের
সাধারণ
সম্পাদক আতাউর
রহমান
আতা।প্রসিকিউশন সূত্র
জানিয়েছে, চার
আসামিই
বর্তমানে পলাতক।এই মামলায়
১৯
জন
সাক্ষী
ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ
হওয়ার
পর
গত
১০
জুন
মামলাটি রায়ের
জন্য
অপেক্ষমাণ রাখা
হয়েছিল।পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ
থেকে
আরও
দুজন
সাক্ষী
উপস্থাপনের আবেদন
করা
হলে
ট্রাইব্যুনাল তা
মঞ্জুর
করেন।
পরবর্তী আইনগত
প্রক্রিয়া শেষ
হওয়ার
পর
চলতি
সেপ্টেম্বরের শেষ
সপ্তাহে মামলাটির রায়
ঘোষণা
হতে
পারে
বলে
প্রসিকিউশন সূত্র
জানিয়েছে।
গত বছরের
২
নভেম্বর চার
আসামির
বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
গঠনের
মাধ্যমে এ
মামলার
বিচার
শুরুর
আদেশ
দেন
ট্রাইব্যুনাল-২।
এর
আগে
৫
অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
দাখিল
করে
এবং
পরদিন
তা
আমলে
নেওয়া
হয়।