ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: ব্যবসায়ীরা

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: ব্যবসায়ীরা

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তবে জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।গতকাল ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, আটা ও ময়দাসহ নিত্যপণ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দাম বাড়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।মিল মালিকেরা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে আমদানি ও মিল পর্যায়ের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, আমদানি ও মিল পর্যায়ে উৎপাদন সচল না থাকলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।কারওয়ান বাজার কাঁচামাল আড়ত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সুজন হকার ও অনিবন্ধিত ব্যবসায়ীদেরও তদারকির আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁর মতে, তদারকির বাইরে থাকায় এসব ব্যবসায়ীর বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। সভায় এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, টিসিবি, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, ক্যাব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিং অনেকটা কমে আসবে: জাহেদ উর রহমান

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তৈরি হওয়া লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং হচ্ছে, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আগের তুলনায় বেশি লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সংকটের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তিনি বলেন, বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি নীতিগত অগ্রাধিকার থাকে। এর কারণ, এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি। তবে শুধু ক্ষমতাবান মানুষের বসবাসের কারণে শহরে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে এমন নীতি সরকার নেয়নি। সংকটের সময়ে এর কষ্ট সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে।জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে ঢাকাতেও বর্তমানে লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।আগের আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, সে সময় প্রকৃতপক্ষে কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এসব তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। তখন ওই সময়ে কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, তারও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তাঁর দাবি, অতীতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসেছে।বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ সম্পর্কে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল।চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এড়াতে ঢাকায় ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সার্বিকভাবে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে। জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।

খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিং অনেকটা কমে আসবে: জাহেদ উর রহমান

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আলোচনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতে দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সারজিস আলম।তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার বাতাস শুধু দুই জায়গায় দেখা যায়। একটা সোশ্যাল মিডিয়া, আরেকটা হলো ভারতে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফেরার কোনো সুযোগ নেই। স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডে গণহত্যাকারী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরতে পারবে না।’জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, অর্থমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী যদি বলেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা উচিত। শুধু একজন মন্ত্রীকে দায়ী করলে হবে না।তিনি বলেন, এ দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এড়াতে পারেন না। কোনো মন্ত্রী সঠিকভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। ব্যর্থতার পরও কাউকে দায়িত্বে রাখলে এর দায় সরকারপ্রধানকেও নিতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। সারজিস বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রক্সি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এ কারণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি যথাযথভাবে নজর দিতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে চীন: ইয়াও ওয়েন

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির উন্নয়নে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত।ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ঘাটতি পূরণে চীন তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওই সফরের মাধ্যমে ‘নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী দুই মাসে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।তিনি জানান, চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন রেসিডেন্সিয়াল হল এবং একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজও অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে চলছে।দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা ও কাজ চলছে বলে জানান চীনের রাষ্ট্রদূত।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে চীন: ইয়াও ওয়েন

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় লোডশেডিং কমছে: রিজভী

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।রোববার সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রিজভী।চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালেও ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেটি এরই মধ্যে মেরামত করা হয়েছে।রিজভী বলেন, এলএনজিবাহী একটি কার্গো ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। এতে গ্যাস সরবরাহের চাপও বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং লোডশেডিংও কমে এসেছে।বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেসব সংগঠনের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো ভেঙে নতুন কমিটি করা হবে। এসব সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসবে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় লোডশেডিং কমছে: রিজভী

সরকারের ছয় মাসে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি: এবি পার্টি

সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি, প্রশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির দাবি, কয়েকটি ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস খুব কম সময় নয়। তবে এই সময়ের মধ্যে সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করাও ঠিক হবে না। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সূচকে সরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা যায়। এসব বিবেচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি দেখা যায়নি।বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে উদ্বেগমঞ্জু বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে এক হাজারের বেশি কারখানা চালুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বেকারত্ব বেড়েছে এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়নি।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন মঞ্জু। তাঁর দাবি, জ্বালানি খাতের আগের ‘মাফিয়া চক্র’ এখনো সক্রিয় থাকায় ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়তে পারে।সবার আগে দলীয়তন্ত্রপ্রশাসনে নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে সহিংসতা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় লোকজনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে বলে তিনি দাবি করেন।মঞ্জু বলেন, সরকারের কার্যক্রমে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন নাও হতে পারে; সাধারণ মানুষই রাস্তায় নেমে আসতে পারে।তাঁর ভাষায়, ছয় মাসের সার্বিক মূল্যায়নে সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর পরিবর্তে সরকার ‘সবার আগে দলীয়তন্ত্রকে’ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বিএনপির ৩১ দফা নিয়েও সমালোচনাএবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। তবে এখনো রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় থাকা ইতিবাচক। এই সহনশীলতা পুরো মেয়াদে ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, ৩১ দফা বিএনপির নিজেদের প্রস্তাব হলেও এর ৮ থেকে ১০টি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন এবং নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ না করার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশ বাতিল করে আগের আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের ক্ষেত্রেও সংসদে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে উগ্রবাদ মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সংবাদ সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের ছয় মাসে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি: এবি পার্টি

জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান চান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

দেশজুড়ে সিএনজি পাম্পে চলমান জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, সিএনজি পাম্পগুলোতে সারা দেশে অসহনীয় সংকট চলছে। এ ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য ও উদ্যোগ দেখতে চাই।তিনি বলেন, সংকটের আশু সমাধানে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো গোঁজামিল বা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে এই সংকটের সমাধান করা যাবে না।জামায়াত আমির আরও বলেন, অতীতে সংকট তৈরির পর আবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। এবারও যেন তেমনটি না ঘটে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের পদক্ষেপ মোটেই গ্রহণযোগ্য হবে না।সিএনজি পাম্পে জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য এবং কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান চান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি,

জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনরোষ থেকে হামলার আশঙ্কায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।বুধবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে সরবরাহও কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে এসব স্থানে কর্মরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমবাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। মোট গ্রাহকের হিসাবে এটি প্রায় ৮০ শতাংশ।উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।ফলে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধচিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এর জেরে কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।এ অবস্থায় প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি,