ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আলোচনাবৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি এবং দেশটিতে থাকা অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।এ ছাড়া বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বাড়বে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতাবৈঠকে জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এ ছাড়া খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল ফুড খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সন্তোষবৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তোলেন দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। সফরটি সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।পরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান আবদুল মঈন খানের

নিজ সংসদীয় আসন নরসিংদীর পলাশে সফর করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বুধবার সফরের শুরুতে তিনি তাঁর প্রয়াত বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মোমেন খান এবং মা খোরশেদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।পরে পলাশ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় অংশ নেন মন্ত্রী।আলোচনা সভায় আবদুল মঈন খান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা ছিল শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা।তিনি বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ পরিহার করে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।এ জন্য সবাইকে মহানবীর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান আবদুল মঈন খানের

দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নরসিংদীর দুই নেতা

শিল্প ও কৃষিতে সমৃদ্ধ নরসিংদী। রাজধানীর ঘেঁষা এই জেলায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প, বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা প্রত্যাশা রয়েছে মানুষের।এরই মধ্যে নরসিংদীর দুই নেতা সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আর গত ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার সর্বশেষ রদবদলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান।বিএনপি সরকার গঠনের সময়ই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার সর্বশেষ রদবদলে ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসনের নেতা। এ আসনের মধ্যে রয়েছে পলাশ উপজেলা। অন্যদিকে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নরসিংদী-৪ আসনের নেতা, যে আসনটি মনোহরদী ও বেলাব উপজেলা নিয়ে গঠিত।একই জেলার দুই সংসদীয় এলাকার দুই নেতা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশাও বেড়েছে। বিশেষ করে রায়পুরার চরাঞ্চলসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সড়ক যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার ঘাটতিও কমবে।স্বাস্থ্য খাত নিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের নানা প্রত্যাশা। জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি রয়েছে তাঁদের। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।উন্নয়নসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নরসিংদীর দুই নেতা থাকায় জেলার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান- দীর্ঘদিনের এসব প্রত্যাশা পূরণে এখন দুই মন্ত্রীর কার্যকর ভূমিকার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন জেলাবাসী।  

দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নরসিংদীর দুই নেতা