তাওহীদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি
সুযোগটা পেয়েছিলেন, এবার তার দুর্দান্ত
সদ্ব্যবহার করলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে
পচেফস্ট্রুমে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেছেন
বাংলাদেশের এই ব্যাটার। কঠিন
পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরে
তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি।পচেফস্ট্রুমের এনডব্লিউসি ওভালে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তাওহীদ
হৃদয় ২০৪ রানে অপরাজিত।
আগের দিনের ৪ উইকেটে ২০১
রান নিয়ে দিন শুরু
করা বাংলাদেশ ‘এ’ দল দিন
শেষে ৬ উইকেটে ৪৭১
রান তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল প্রথম
ইনিংসে ৫১২ রান করেছিল।
ফলে এখনো ৪১ রানে
পিছিয়ে বাংলাদেশ।৭৫ রানে অপরাজিত
থেকে দিনের খেলা শুরু করেন
হৃদয়। এরপর জাকের আলীকে
সঙ্গে নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে
নেন ইনিংস। দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশ ‘এ’ দল যেমন
ঘুরে দাঁড়ায়, তেমনি ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা।চার মেরে ১৬৬
বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। সেঞ্চুরিতে
যাওয়ার পথে তাঁর ব্যাট
থেকে আসে ১৩টি চার
ও একটি ছক্কা। এরপরও
থামেননি। ৩৩৫ বলে ২২টি
চার ও একটি ছক্কার
সাহায্যে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ
করেন তিনি।জাকেরের আক্ষেপ ৬ রানেরতাওহীদের সঙ্গে দারুণ ব্যাটিং করছিলেন জাকের আলীও। দুজন মিলে চতুর্থ
উইকেটে যোগ করেন ১৫১
রান। তবে নতুন বল
নেওয়ার পর পেসার মোরেকির
বলে উইকেটে টেনে বোল্ড হয়ে
যান জাকের। ৯৪ রানে থামতে
হয় তাঁকে। অর্থাৎ মাত্র ৬ রানের জন্য
সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন
এই ব্যাটার।জাকের ফিরে যাওয়ার পর
পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন
তাওহীদ ও সাইফউদ্দিন। দুজনের
জুটিতেও আসে বড় রান- ১৮৫। সাইফউদ্দিন ৮৭
রানে আউট হওয়ার পর
দিনের খেলা শেষ হয়।বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিবাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় ডাবল
সেঞ্চুরি। ২০০৩ সালে পাকিস্তান
সফরে প্যাট্রনস ট্রফিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন
সাবেক ওপেনার বিদ্যুৎ। এরপর ২৩ বছরে
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে
আর কোনো ব্যাটার দ্বিশতকের
এত কাছে যেতে পারেননি।এই সময়ে জাকির
হাসান ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে
১৭৩ এবং জাকের আলী
অনিক পাকিস্তান শাহিন্সের বিপক্ষে ১৭২ রান করেছিলেন।মুশফিক-সাকিবের পাশে হৃদয়বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা
বাংলাদেশের ব্যাটারদের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তাওহীদ
হৃদয়।এই তালিকায় তাঁর
সঙ্গে আছেন মুশফিকুর রহিম
ও সাকিব আল হাসান। মুশফিক
২০১৩ সালে এবং সাকিব
২০১৭ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে
টেস্ট ম্যাচে বিদেশের মাটিতে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন।
মুশফিকের সর্বোচ্চ ইনিংস ২০০ এবং সাকিবের
২১৭ রান।
দক্ষিণ
আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২
রানের জবাবে তাওহীদের অপরাজিত ২০৪ রানের ইনিংস
তাই শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক
নয়, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংসকেও
এনে দিয়েছে নতুন গতি।