ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
অর্থ পাচারের মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

অর্থ পাচারের মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলার আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাতার পুলিশ। ইন্টারপোলের ই-মেইলের মাধ্যমে দুদককে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।রোববার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দুটি করেন।দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।মামলায় বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ অর্জন করেন। ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।স্ত্রীর বিরুদ্ধেও সম্পদ অর্জনের মামলাশেখ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাহমিদা বেগম ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।দুদকের অভিযোগ, স্বামীর সহায়তায় এসব সম্পদ অর্জন করেন তাহমিদা। এ মামলায় তাঁকে ও শেখ আব্দুল হান্নানকে আসামি করা হয়েছে।বিদেশে সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদকদুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে শেখ আব্দুল হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কানাডায় তাঁর সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার দাবিও করে সংস্থাটি। তবে এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করার কথা জানিয়েছিল দুদক।দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যে ২০২৫ সালের ৫ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।পরদিন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ আব্দুল হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত। ওই বছরের ২৪ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর তাঁর সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ আড়াল করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন শেখ আব্দুল হান্নান।চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় শেখ আব্দুল হান্নানের নামে থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিন বছরশেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি বৃহস্পতিবার এ নোটিশ পাঠান।গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম বলেছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয় এবং তাঁর সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে একটি বার্তা দেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশে অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।আইনি নোটিশ অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয়।নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

শেয়ারবাজারে কারসাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের, কাজী সাদিয়া হাসানসহ আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ নিয়েও আলাদা অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আর্থিক অনিয়ম ও বাজার কারসাজির অভিযোগে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল বলে জানা যায়।সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে।

সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক