ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ট্রাম্পের নতুন নিয়মে সৌরবিদ্যুতে অনুদান পাওয়া কঠিন হচ্ছে কৃষকদের

ট্রাম্পের নতুন নিয়মে সৌরবিদ্যুতে অনুদান পাওয়া কঠিন হচ্ছে কৃষকদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিয়মে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সরকারি অনুদান পাওয়া কৃষকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি এক বছর জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রমাণ দেওয়ার পরই অর্থায়নের আবেদন করতে পারবেন কৃষকেরা। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে।যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ‘রুরাল এনার্জি ফর আমেরিকা প্রোগ্রাম’ (রিপ) কর্মসূচির আওতায় এত দিন প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অনুদানের আবেদন করা যেত। নতুন নিয়মে প্রকল্পের পুরো ব্যয় আগাম বহন করতে হবে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও তরুণ কৃষকেরা সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ন্যাশনাল সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার কোয়ালিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ১৯ হাজারের বেশি জ্বালানি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অনুদান ও ঋণের নিশ্চয়তা মিলিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৪৮০ কোটি ডলারের বেশি।চলতি বছর নতুন নিয়ম প্রণয়নের সময় কর্মসূচিটিতে আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের যোগ্যতার শর্তও কঠোর করা হয়। কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্সের যুক্তি, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কারণে ফসল উৎপাদনের উপযোগী কৃষিজমি ব্যবহৃত হচ্ছে।কর্মসূচিটির আওতায় ২০১৭ সালের পর নেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রায় ৬৪ শতাংশ ছিল সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত। এসব প্রকল্প কৃষক ও গ্রামীণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ বিল কমানোর সুযোগ দিয়েছে।কোয়ালিশনের নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচা প্যাটেল বলেন, শুল্কনীতি এবং জ্বালানি ও সারের বাড়তি দামে কৃষকেরা এমনিতেই আর্থিক চাপে রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রকল্পের পুরো ব্যয় আগাম বহন করে পরে অনুদানের আবেদন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, প্রকল্পের অনুমাননির্ভর হিসাবের পরিবর্তে বাস্তব উৎপাদন ও ফলাফলের ভিত্তিতে অর্থায়ন নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।এদিকে, নতুন নিয়মে অনুদান পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও। আইওয়াভিত্তিক উদ্যোক্তা ভেরোনিকা ম্যাকফ্যাডেন কৃষকদের অনুদানের আবেদন করতে সহায়তা দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ায় গত আগস্টে তাঁকে তাঁর পাঁচ কর্মীকেই ছাঁটাই করতে হয়।মিশিগানের দুগ্ধখামারি রন রাস্ক তাঁর খামারের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ৮৫ হাজার ডলারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অনুদান চেয়েছিলেন। প্রকল্পটি ভবিষ্যতে ছেলের কাছে খামার হস্তান্তরেও সহায়ক হবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর আবেদন অনুমোদন পায়নি। সূত্র: রয়টার্স

পিকেএসএফের ৭,২৪৫ কোটি টাকার অর্থায়ন উদ্যোগ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, কুটির ও মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, স্যানিটেশন এবং অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মোট ৭ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে দেওয়া হবে ৫০০ কোটি টাকা।রোববার পিকেএসএফ ভবন-১-এ সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পিকেএসএফ।সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া অর্থে কুটির ও মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন, সেবা এবং বিভিন্ন ভ্যালু চেইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে এই অর্থায়ন করা হবে।পিকেএসএফ জানিয়েছে, স্বল্পআয়ের মানুষের দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ অর্থায়নের অন্যতম লক্ষ্য।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের ভিত্তিতে নেওয়া এ কার্যক্রমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ‘সৌরশক্তি’ নামে একটি বিশেষায়িত ঋণ নীতিমালা অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ।এ ছাড়া পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাগুলোর জন্য ক্লাস্টারভিত্তিক মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ, সাধারণ সেবা, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদেরসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পিকেএসএফের ৭,২৪৫ কোটি টাকার অর্থায়ন উদ্যোগ

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে পিডিবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বড় আকারের গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি পিডিবির নিজস্ব ভবন ও জমিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও নির্বাচন করা হয়েছে।পিডিবি ইতোমধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।অন্যদিকে, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।পিডিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই সংস্থাটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির নিজস্ব ভবন ও জমিতে ১৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দুই বছর আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।এর মধ্যে কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার একটি ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে এবং রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা ৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার আরেকটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়।এদিকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর কাজ করছে পিডিবি।পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩ কিলোওয়াট-পিক, বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫ কিলোওয়াট-পিক, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০ কিলোওয়াট-পিক, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০ কিলোওয়াট-পিক, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২ কিলোওয়াট-পিক, ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭ কিলোওয়াট-পিক, চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০ কিলোওয়াট-পিক, দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২ কিলোওয়াট-পিক, শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০ কিলোওয়াট-পিক, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ কিলোওয়াট-পিক এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে।পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বাসসকে বলেন, পিডিবির মালিকানাধীন অব্যবহৃত ছাদ ও জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা করবে পিডিবি।তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিপর্যায়ে নিজ বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করবে।

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে পিডিবি

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আলোচনাবৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি এবং দেশটিতে থাকা অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।এ ছাড়া বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বাড়বে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতাবৈঠকে জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এ ছাড়া খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল ফুড খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সন্তোষবৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তোলেন দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। সফরটি সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।পরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে চীন: ইয়াও ওয়েন

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির উন্নয়নে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত।ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ঘাটতি পূরণে চীন তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওই সফরের মাধ্যমে ‘নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী দুই মাসে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।তিনি জানান, চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন রেসিডেন্সিয়াল হল এবং একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজও অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে চলছে।দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা ও কাজ চলছে বলে জানান চীনের রাষ্ট্রদূত।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে চীন: ইয়াও ওয়েন

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।’ বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী