যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিয়মে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সরকারি অনুদান পাওয়া কৃষকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি এক বছর জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রমাণ দেওয়ার পরই অর্থায়নের আবেদন করতে পারবেন কৃষকেরা। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি
বিভাগের ‘রুরাল এনার্জি ফর আমেরিকা প্রোগ্রাম’
(রিপ) কর্মসূচির আওতায় এত দিন প্রকল্পের
কাজ শুরুর আগেই মোট ব্যয়ের
সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত
অনুদানের আবেদন করা যেত। নতুন
নিয়মে প্রকল্পের পুরো ব্যয় আগাম
বহন করতে হবে। এতে
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও
তরুণ কৃষকেরা সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ন্যাশনাল সাসটেইনেবল
অ্যাগ্রিকালচার কোয়ালিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত
এক দশকে এ কর্মসূচির
আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ীদের ১৯ হাজারের বেশি
জ্বালানি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৫
সাল পর্যন্ত অনুদান ও ঋণের নিশ্চয়তা
মিলিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ
হয়েছে ৪৮০ কোটি ডলারের
বেশি।
চলতি বছর
নতুন নিয়ম প্রণয়নের সময়
কর্মসূচিটিতে আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছিল ট্রাম্প
প্রশাসন। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ
প্রকল্পের যোগ্যতার শর্তও কঠোর করা হয়।
কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্সের যুক্তি, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কারণে ফসল উৎপাদনের উপযোগী
কৃষিজমি ব্যবহৃত হচ্ছে।
কর্মসূচিটির আওতায়
২০১৭ সালের পর নেওয়া প্রকল্পগুলোর
প্রায় ৬৪ শতাংশ ছিল
সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত। এসব প্রকল্প কৃষক
ও গ্রামীণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ বিল
কমানোর সুযোগ দিয়েছে।
কোয়ালিশনের নীতিবিষয়ক
বিশেষজ্ঞ রিচা প্যাটেল বলেন,
শুল্কনীতি এবং জ্বালানি ও
সারের বাড়তি দামে কৃষকেরা এমনিতেই
আর্থিক চাপে রয়েছেন। এ
অবস্থায় প্রকল্পের পুরো ব্যয় আগাম
বহন করে পরে অনুদানের
আবেদন করা অনেকের পক্ষেই
সম্ভব হবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের
কৃষি বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি,
প্রকল্পের অনুমাননির্ভর হিসাবের পরিবর্তে বাস্তব উৎপাদন ও ফলাফলের ভিত্তিতে
অর্থায়ন নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা
হয়েছে।
এদিকে, নতুন
নিয়মে অনুদান পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ কর্মসূচির সঙ্গে
যুক্ত ব্যবসায়ীরাও। আইওয়াভিত্তিক উদ্যোক্তা ভেরোনিকা ম্যাকফ্যাডেন কৃষকদের অনুদানের আবেদন করতে সহায়তা দেওয়ার
ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কর্মসূচি
স্থবির হয়ে পড়ায় গত
আগস্টে তাঁকে তাঁর পাঁচ কর্মীকেই
ছাঁটাই করতে হয়।
মিশিগানের দুগ্ধখামারি
রন রাস্ক তাঁর খামারের প্রায়
৮০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ৮৫ হাজার ডলারের
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অনুদান চেয়েছিলেন।
প্রকল্পটি ভবিষ্যতে ছেলের কাছে খামার হস্তান্তরেও
সহায়ক হবে বলে আশা
করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর আবেদন
অনুমোদন পায়নি।
সূত্র: রয়টার্স