ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সৌদি আরবে হামলায় আহত বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

সৌদি আরবে হামলায় আহত বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ও আহত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শ্রম উইং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তদারকি শুরু করেছে।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবস্থিত শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সরকার তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে। তিনি নিজেও আহত একজনের বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন এবং তাঁকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে অত্যন্ত সাবধানে থাকতে হবে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্যও তিনি প্রবাসীদের পরামর্শ দেন।বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিমানবন্দরে হয়রানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ইমেইলে অভিযোগ পাঠানোর অনুরোধ জানান তিনি।৭ নভেম্বর চালু হচ্ছে শ্রমজীবী নারীদের হোস্টেল ও হাসপাতালএদিকে নারায়ণগঞ্জের শ্রমজীবী নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বন্দরে অবস্থিত শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের মহিলা হোস্টেল ও পাঁচ শয্যার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।তিনি বলেন, শ্রমজীবী নারীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সে জন্য আবাসন ও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আগামী ৭ নভেম্বর শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল ও হাসপাতালের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ মহানগরে পাল্টাপাল্টি কমিটি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার একই দিনে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে মহানগর শাখার দুটি পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি জামে মসজিদে মুফতি জাকির হোসেনকে সভাপতি ও মাওলানা আব্দুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে চার সদস্যের একটি মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ এ কমিটি ঘোষণা করেন।এর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার জামতলা এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ওই কমিটি ঘোষণা করেন।সাত সদস্যের পাল্টা কমিটিতে মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমীকে সভাপতি এবং মাওলানা তাজুল ইসলাম আব্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।দুটি কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। জামতলায় পাল্টা কমিটি ঘোষণার অনুষ্ঠানে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বিকেলে ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি আমরা, জেল-জুলুম খেটেছি আমরা। আর এখন সুদিনে এসে কমিটির নেতৃত্বে আসবে সুবিধাবাদীরা, সেটা আমরা মেনে নেব না। মহানগর শাখার যে কমিটি আজ বিকেলে ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’তিনি আরও বলেন, ‘যারা ত্যাগী এবং ইসলামের ঝান্ডা সমুন্নত রাখতে পারবে, তাদের নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলাম চলবে। এখানে অন্য কারও মাতব্বরি চলবে না। কেউ যদি কমিটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে, তাহলে এর সঠিক জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।’পাল্টা কমিটি ঘোষণার অনুষ্ঠানে মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, মাওলানা মুনওয়ার হুসাইন, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা তাজুল ইসলাম আব্বাসসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।আগের কমিটি নিয়েও বিরোধ ছিলএর আগে ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হেফাজতে ইসলামের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক জুনায়েদ আল হাবীব। ওই কমিটিতে মহানগর শাখার সভাপতি করা হয়েছিল মুফতি হারুনুর রশীদকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল মাওলানা আহমাদুল্লাহকে।তখন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আওয়ালের অনুসারীদের কমিটিতে উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।এর ধারাবাহিকতায় এবার একই দিনে মহানগর শাখায় দুটি কমিটি ঘোষণার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবারও সামনে এসেছে।পাল্টাপাল্টি ঘোষিত দুটি কমিটির কোনটি সাংগঠনিকভাবে বৈধ, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ মহানগরে পাল্টাপাল্টি কমিটি