ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আইনজীবী এবং অপরজন একজন আইনজীবীর ভাই। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বুধবার আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আইনজীবী মাহাবুব রহমান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে দেওভোগের পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্টস গলি থেকে মাহাবুব রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।পুলিশের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও পুনরায় জামিনের আবেদনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন আইভী। এ সময় তাঁকে ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’ বলতে শোনা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে ভূইগড় সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। একটি বস্তার ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের ঝোপে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বস্তাটি খুলে ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তরুণীর লাশ পাওয়া যায়।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাঁর লাশ বস্তায় ভরে রাতের কোনো একসময় ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এসআই মিলন ফকির আরও জানান, নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে এবং কারা লাশটি সেখানে ফেলে গেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়াচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার এলাকা থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও রোগীরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট ধরতে না পারার আশঙ্কায় গাড়ি থেকে নেমে বিকল্প যানবাহনে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় যানবাহনের গতি প্রায় থেমে গেছে। কোথাও ধীরগতিতে গাড়ি চললেও অধিকাংশ জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি প্রায় স্থির রয়েছে। এর প্রভাব দাউদকান্দি, চান্দিনা ও মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।ফ্লাইট ধরতে দুশ্চিন্তায় বিদেশগামী যাত্রীরাকুমিল্লা থেকে বিদেশগামী এক যাত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘চান্দিনা থেকে অটোরিকশা করে গৌরীপুর পর্যন্ত এসেছি। এখন বাজে ১০টা ১২ মিনিট। এয়ারপোর্টে ঢুকতে হবে। এআই ক্যামেরার কারণে উল্টো পথে গাড়ি চলছে না। চার ঘণ্টায় কুমিল্লা থেকে গৌরীপুর এসেছি। সামনে আরও প্রচণ্ড জ্যাম। চান্দিনা থেকে অটোরিকশা ও সিএনজি দিয়ে গৌরীপুর আসতে ১ হাজার ২৫০ টাকা লেগেছে।’অন্যদিকে খন্দকার আরিফ হোসেন জানান, কুমিল্লা থেকে ভোর ৪টায় রওনা দিয়ে চান্দিনা থেকে দাউদকান্দির প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর চার ঘণ্টা লেগেছে।তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা বাজে। এখনো দাউদকান্দি টোলপ্লাজার ১০০ গজ পূর্বদিকে বসে আছি। সামনের দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চারা তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’সংস্কারকাজে এক লেন বন্ধসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে গর্তটি বড় হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সেখানে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ।সংস্কারকাজের সময় মহাসড়কের দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে গেলে এক লেন দিয়ে গাড়ি পারাপার করতে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।একপর্যায়ে যানজট দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও বুড়িচংয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগও সীমিতযানজটে আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়ির গতি একেবারে কমে যায়। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে রয়েছে।বিদেশগামী যাত্রীরা দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে গাড়ি থেকে নেমে সিএনজি ও অটোরিকশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ১০০ টাকার ভাড়ার জায়গায় কোথাও কোথাও ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।যানজট নিরসনে মাঠে হাইওয়ে পুলিশদাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা বিস্তারিত বলতে পারবে।তিনি জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে।ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজট চান্দিনা পার হয়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সংস্কারকাজের কারণে মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ থাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা না গেলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট