ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়াচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার এলাকা থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও রোগীরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট ধরতে না পারার আশঙ্কায় গাড়ি থেকে নেমে বিকল্প যানবাহনে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় যানবাহনের গতি প্রায় থেমে গেছে। কোথাও ধীরগতিতে গাড়ি চললেও অধিকাংশ জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি প্রায় স্থির রয়েছে। এর প্রভাব দাউদকান্দি, চান্দিনা ও মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।ফ্লাইট ধরতে দুশ্চিন্তায় বিদেশগামী যাত্রীরাকুমিল্লা থেকে বিদেশগামী এক যাত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘চান্দিনা থেকে অটোরিকশা করে গৌরীপুর পর্যন্ত এসেছি। এখন বাজে ১০টা ১২ মিনিট। এয়ারপোর্টে ঢুকতে হবে। এআই ক্যামেরার কারণে উল্টো পথে গাড়ি চলছে না। চার ঘণ্টায় কুমিল্লা থেকে গৌরীপুর এসেছি। সামনে আরও প্রচণ্ড জ্যাম। চান্দিনা থেকে অটোরিকশা ও সিএনজি দিয়ে গৌরীপুর আসতে ১ হাজার ২৫০ টাকা লেগেছে।’অন্যদিকে খন্দকার আরিফ হোসেন জানান, কুমিল্লা থেকে ভোর ৪টায় রওনা দিয়ে চান্দিনা থেকে দাউদকান্দির প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর চার ঘণ্টা লেগেছে।তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা বাজে। এখনো দাউদকান্দি টোলপ্লাজার ১০০ গজ পূর্বদিকে বসে আছি। সামনের দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চারা তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’সংস্কারকাজে এক লেন বন্ধসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে গর্তটি বড় হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সেখানে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ।সংস্কারকাজের সময় মহাসড়কের দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে গেলে এক লেন দিয়ে গাড়ি পারাপার করতে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।একপর্যায়ে যানজট দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও বুড়িচংয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগও সীমিতযানজটে আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়ির গতি একেবারে কমে যায়। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে রয়েছে।বিদেশগামী যাত্রীরা দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে গাড়ি থেকে নেমে সিএনজি ও অটোরিকশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ১০০ টাকার ভাড়ার জায়গায় কোথাও কোথাও ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।যানজট নিরসনে মাঠে হাইওয়ে পুলিশদাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা বিস্তারিত বলতে পারবে।তিনি জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে।ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজট চান্দিনা পার হয়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
সংস্কারকাজের কারণে মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ থাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা না গেলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।