ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পূজামণ্ডপে আটজন এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং পেট্রোল।আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। মহাপরিচালক জানান, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পাশাপাশি ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল কাজ করবে। পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দল ভূমিকা রাখবে। কোনো সুযোগসন্ধানী যাতে ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য স্ট্রাইকিং পেট্রোল প্রস্তুত থাকবে।নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপদুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান আনসার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অ্যাপটিতে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা সহজ হবে।মহাপরিচালক আরও বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ করা হয়েছিল। এবারও অ্যাপটিকে সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির জন্য বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দৈনিক ভাতা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকাদুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সদস্য দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাতা পান। তবে সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের গভীর রাত পর্যন্ত পূজামণ্ডপে অবস্থান করতে হয়। এ কারণে তাঁদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য সদস্যদের মধ্যে সেবাধর্মী মানসিকতা গড়ে তোলা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তাঁরা যেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সে জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।লজিস্টিক সহায়তা বড় চ্যালেঞ্জদুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে আনসার মহাপরিচালক বলেন, সদস্যসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাঁদের যথাযথভাবে দায়িত্বে উপস্থিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে গণজমায়েত বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সদস্যদের ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণে তাঁদের ওপর আক্রমণ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।গুজব প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্রিফিং ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের একগুচ্ছ পরামর্শ, জরুরি সেবা ৯৯৯

দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা ও পরামর্শ জানানো হয়।পুলিশের পরামর্শে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে তা ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলেছে পুলিশ। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শপূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাগ, থলে বা পোঁটলা নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা চার্জার লাইট রাখার কথাও বলা হয়েছে।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের সহজে শনাক্ত করার জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড রাখার কথা বলা হয়েছে।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বানপূজা উদ্‌যাপনের সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। আজান ও নামাজের সময় মসজিদসংলগ্ন পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণের পরামর্শযানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।জরুরি প্রয়োজনে যেসব নম্বরে যোগাযোগ করবেনজরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা পেতে কয়েকটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ নম্বর জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। নম্বরগুলো কন্ট্রোল ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০২২২৩৩৫৫৫০০, ০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭৭৭৭২০০৯, ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম: ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯, এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টা চালু জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেওয়া যাবে। এ সেবা টোল ফ্রি। পুলিশ ও ভারপ্রাপ্ত ওসি) নম্বর বাংলাদেশ ওয়েবসাইট পরামর্শও হয়েছে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের একগুচ্ছ পরামর্শ, জরুরি সেবা ৯৯৯

ছিনতাই ও বোমার আশঙ্কায় জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের

মাঝ আকাশে বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা ও বোমা থাকার আশঙ্কায় ভারতের জয়পুরে জরুরি অবতরণ করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। বুধবার সকালে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এআই-২০৩০ ফ্লাইটটি গন্তব্যে না গিয়ে জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিমানটির সব যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় বিমানটিতে ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা জারি করা হয়। একই সঙ্গে বোমা থাকার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানটিকে দিল্লির পরিবর্তে জয়পুরে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।বিমানটি অবতরণের পরপরই শুরু হয় তল্লাশি। তবে বিমানে সত্যিই কোনো বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ছিনতাই ও বোমার আশঙ্কায় জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী তিন লরি

সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর। তিনটি লরিতে করে ইউরেনিয়াম রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে।শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি বিমানবন্দর এলাকা ছাড়ে। গাড়িবহরের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী একটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বিমান থেকে ইউরেনিয়ামের চালান গ্রহণ করেন।চালান গ্রহণের পর নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শনিবার সকালে তিনটি লরিতে করে তা রূপপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে এই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো পরিবহন প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী তিন লরি

কলকাতার হোটেলপাড়ায় আগুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক

নিউমার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হওয়ার পর কলকাতার ‘হোটেলপাড়া’য় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর অনেক বাংলাদেশি পর্যটক হোটেল ছেড়ে দ্রুত দেশে ফিরছেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা জানিয়েছেন। এতে হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটজুড়ে গড়ে উঠেছে পরিচিত ‘হোটেলপাড়া’। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পর্যটকদের অনেকেই তুলনামূলক কম খরচে থাকার সুবিধার কারণে এসব হোটেল বেছে নেন। আশপাশে মানি এক্সচেঞ্জ, দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ও খাবারের দোকান থাকায় এলাকাটি তাঁদের জন্য সুবিধাজনক।তবে অগ্নিকাণ্ডের পর এসব হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অনুমোদনহীন হোটেল ও গেস্টহাউসের সংখ্যা অনেক। আবাসিক ভবনের বিভিন্ন অংশে পার্টিশন দিয়ে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে হোটেল ব্যবসা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।অনেক হোটেলে বৈধ লাইসেন্স, জরুরি নির্গমন পথ কিংবা অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ করেছেন পর্যটকেরা। কোথাও কোথাও সরু প্রবেশপথ ও লোহার সিঁড়ি ব্যবহার করে ওপরের তলায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুতের তারের অনিয়মিত সংযোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।বাংলাদেশি পর্যটক মো. উজ্জ্বল খান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি হোটেলের বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর অভিযোগ, অনেক হোটেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার মতো নিরাপদ পথ নেই।যাত্রাবাড়ী থেকে কলকাতায় যাওয়া এক পর্যটক বলেন, এত বড় শহরে হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এত দুর্বল হওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। তাঁর অভিযোগ, অনেক হোটেলে ভাড়া নেওয়া হলেও সেবার মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। তিনি প্রতিটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের দাবি জানান।মির্জা গালিব স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সমীর দাসও স্বীকার করেন, অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। সোহেল নামের এক পর্যটক জানান, ঘটনার পর তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই হোটেল ছেড়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে কলকাতায় চিকিৎসা ও পর্যটনের জন্য আসা বাংলাদেশিদের মধ্যেও। বিশেষ করে নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য থাকায় বাংলাদেশে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। পর্যটকেরা ভিসা জটিলতা, দালালের দৌরাত্ম্য ও বেনাপোল সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষার মতো ভোগান্তির কথাও তুলে ধরছেন।এসব কারণে কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য কলকাতার পরিবর্তে চেন্নাই, ভেলোর, চীন কিংবা নেপালের মতো বিকল্প গন্তব্য বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।অগ্নিকাণ্ডের পর অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাকবলিত হোটেলের সামনে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ তৎপর হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর বৈধতা এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।প্রশাসনের এই তৎপরতায় অননুমোদিতভাবে পরিচালিত হোটেলগুলোর মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন- নিহতের মতো মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটাতে এই তদারকি কতটা নিয়মিত ও কার্যকর থাকে।

কলকাতার হোটেলপাড়ায় আগুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি

১৫ আগস্ট ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সভা-সেমিনার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে।র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।র‌্যাবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে নজরদারি, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।প্রতিটি ব্যাটালিয়নে আলাদা পরিকল্পনার‌্যাব সূত্র জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পৃথক পরিকল্পনা করেছে। এর ভিত্তিতে সংবেদনশীল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা তৎপরতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগকারী ব্যক্তি ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা কাজ করবেন। তাঁরা সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।র‌্যাবের পরিকল্পনায় আরও গুরুত্ব পেয়েছে—নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন যাতে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে বা গোপনে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না পায়।কর্মসূচির আশপাশে নজরদারিরাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় র‌্যাব সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতকারী, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য যাতে কর্মসূচিতে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এ নজরদারির অন্যতম উদ্দেশ্য।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজর১৫ আগস্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে জনমনে আতঙ্ক কিংবা মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।র‌্যাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা অন্য কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৫ আগস্ট ঘিরে অনলাইন প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরির নজির রয়েছে। গত বছরও ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের জমায়েত ঠেকাতে তৎপরতা চালিয়েছিল।প্রস্তুত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটনিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইউনিটটি।অতীতের বিভিন্ন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে ১৫ আগস্ট ঘিরে বিস্ফোরক ব্যবহারের আশঙ্কার বিষয়টিও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে র‌্যাব। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজেরা পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি

নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণকাজ, বিটিআই ভবনে একজন নিহত ও দুজন পঙ্গু

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ছয় থেকে সাত মাসে ওই ভবনে একাধিক দুর্ঘটনায় একজন নির্মাণশ্রমিক নিহত এবং অন্তত দুজন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট লোহার রড বিদ্যুতের তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরেক শ্রমিক এরশাদুল।বসুন্ধরার কে-ব্লকের এভিনিউ-৫-এর ১৭৬ ও ১৭৭ নম্বর প্লটে বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেডের (বিটিআই) নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ভবনের সামনে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল না। শ্রমিকদের জন্য সেফটি নেট, ফল প্রটেকশন, রেইলিং বা ব্যারিকেড এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত ছিল না। এর আগে একই ভবনে দুর্ঘটনার পরও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।দুর্ঘটনার পরও হাসপাতালে নিতে দেরিপ্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট দুপুরে ভবনের চতুর্থ তলায় কাজ করার সময় লোহার রড সামনের উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তারে লাগে। এতে শহিদুল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দোতলার কার্নিশে পড়ে যান। আর এরশাদুল ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার পর আহত দুজনকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নিয়ে ভবনের ভেতরে দীর্ঘ সময় রাখা হয়। পরে শহিদুল মারা গেলে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত এরশাদুলকেও পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়।শহিদুলের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এলাকায়। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি বিপাকে পড়েছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।এরশাদুলের হাত-পা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কোমরেও গুরুতর আঘাত রয়েছে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।আগেও দুর্ঘটনার অভিযোগস্থানীয় বাসিন্দা ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৭ জুন একই ভবনে লোহার রড বিদ্যুতের তারে লেগে আরেক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তাঁর হাত-পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।এ ছাড়া ভবন নির্মাণের শুরুর দিকে আরও একজন শ্রমিক নিহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছেন আশপাশের ভবনের শ্রমিক ও কেয়ারটেকাররা। তবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এসব ঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অনেক শ্রমিককে অন্য প্রকল্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অথবা বাড়িতে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে শ্রমিকেরা কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।ঘটনাস্থলে ভিন্ন বক্তব্য৬ আগস্টের দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেদক দেখতে পান, নির্মাণাধীন ভবনের ফটক বন্ধ। ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের কাছে দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, কেউ মারা যাননি; দুজন সামান্য আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প প্রকৌশলী মো. ওয়াদুদ কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে ওয়াদুদ পরে বলেন, দুর্ঘটনার দিনই বিটিআই কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছে।লাশ হস্তান্তর ও মামলা নিয়েও প্রশ্ননিহত শহিদুলের সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর বাবা নেসার উদ্দিন ও মা ফরিদা বেগমের নাম রয়েছে। লাশ শনাক্ত ও গ্রহণকারী হিসেবে ফরিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি শহিদুলের আপন ভাই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে অভিযোগ উঠেছে, অন্য একজনকে শহিদুলের ভাই পরিচয় দিয়ে অপমৃত্যু মামলা এবং লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভাটারা থানার পুলিশের সঙ্গে বিটিআইয়ের যোগসাজশের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।এ বিষয়ে প্রকল্প প্রকৌশলী ওয়াদুদের বক্তব্যেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রথমে তিনি বলেন, নিহতের ভাইয়ের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়নি। পরে আবার বলেন, ভাইয়ের কাছেই লাশ দেওয়া হয়েছে।ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে লাশ শনাক্তকারী ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ওসি এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বেলালের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগদুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ওই সাংবাদিকের দাবি, একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে গালাগাল ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাসার আশপাশে কয়েকজনকে তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনের সামনে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল না। ২৭ জুনের দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৬ আগস্টের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত বলেও তিনি দাবি করেন।বিটিআইয়ের বক্তব্য কীনির্মাণাধীন ভবনে ধারাবাহিক দুর্ঘটনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে সহায়তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাইজুর রহমান খানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।প্রকল্প প্রকৌশলী মো. ওয়াদুদ বলেন, দুর্ঘটনার দিনই নিহত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।তবে নিহত শহিদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিটিআই কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বা কোনো সহযোগিতা করেনি।একই নির্মাণস্থলে একাধিক দুর্ঘটনা, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব এবং লাশ হস্তান্তর ও অপমৃত্যু মামলা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন- সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণকাজ, বিটিআই ভবনে একজন নিহত ও দুজন পঙ্গু

বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি,

জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনরোষ থেকে হামলার আশঙ্কায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।বুধবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে সরবরাহও কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে এসব স্থানে কর্মরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমবাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। মোট গ্রাহকের হিসাবে এটি প্রায় ৮০ শতাংশ।উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।ফলে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধচিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এর জেরে কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।এ অবস্থায় প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি,