ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

অভাব পেরিয়ে সুমাইয়ার জিপিএ-৫

অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। তার ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।সুমাইয়ার বাড়ি উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চাপুরী গ্রামে। তার বাবা সাইফুল ইসলাম ফকির একটি মুরগির খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সংসারের খরচ চালাতে সুমাইয়ার মাকেও বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়। সীমিত আয়ের সংসারে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো পরিবারের জন্য সহজ ছিল না। তবে সামর্থ্যের মধ্যে থেকে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তার বাবা-মা।সুমাইয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে কথাসাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে সুমাইয়ার জিপিএ-৫ বিদ্যালয়ের সাফল্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।সুমাইয়ার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনার খরচের একটি অংশ বহন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।সুমাইয়া জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন সফল মানুষ হতে চায়। তার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা চায় সে।সুমাইয়ার এই ফলাফলে পরিবার ও শিক্ষকেরা খুশি। তাঁদের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকট যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী

পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে লিখে যাচ্ছেন খাতায়। তাঁদের পাশে বসে লিখছেন আরেক শিক্ষার্থী কলি রানী। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ছোট বেঞ্চ। আর সেখানে বসেই মনোযোগসহকারে পা দিয়ে উত্তর লিখে যাচ্ছেন তিনি। দূর থেকে একনজরে দেখলে কলি রানীকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও বাহু থেকে দুই হাতের কবজি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাঁকে দমাতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কলি রানী রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে। কলি রানীর জন্ম থেকে দুই হাতের কবজি নাই। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে কারও সহযোগিতা ছাড়াই পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। মৃত মনোরঞ্জন রায়ের ৬ ছেলেমেয়ের মধ্যে কলি রানী সবার ছোট। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ডিঙিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের আশায়। কলি রানী লেখাপড়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যে গান গেয়ে একাধিক সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছেন। এ ছাড়া পা দিয়ে চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন। কলি রানী জানান, তাঁর ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করা। কাউনিয়া মহিলা কলেজের কেন্দ্রসচিব রফিকুল ইসলাম জানান, কলি রানী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়ম মেনে তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। ইউএনও পাপিয়া সুলতানা জানান, কলি রানীকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারেনি। তার অদম্য অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী