বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ফাহমিদা আখতারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ জেলা ঝিনাইদহে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রুহুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরতলীর আদর্শপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও শৈলকূপা উপজেলায় বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। ফলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেলার বাইরে তাঁর পদায়ন হয়নি বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ১(ক) ও ১(ঙ) অনুচ্ছেদে এলজিইডির কর্মকর্তাদের নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময় পর বাধ্যতামূলক বদলি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় প্রভাববলয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।এ অবস্থায় রুহুল ইসলামের দীর্ঘদিন নিজ জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য নীতিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম বলেন, আমার বদলি আর পদায়ন তো আমার হাতে নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসে, সেভাবে চাকরি করি। আমি তদবির করে ঝিনাইদহে আছি—এ রকম কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।
এই এমপির আমার নাম কাটার ক্ষমতা নাই, উনাকে সরাসরি পেলে একটা সালাম দিমু এমন মন্তব্য করার কারণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মোহাম্মদ বাকিরুল ইসলাম বাহাদুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান তাঁকে এ নোটিশ দেন।মঙ্গলবার দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে ‘এই এমপির আমার নাম কাটার ক্ষমতা নাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে জেলা প্রশাসন।নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে সারের ডিলারশিপ নিয়ে সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলামের এমন মন্তব্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য জেলা প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী।নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপকুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সম্প্রতি নয়জনকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রাজাপুর ইউনিয়নে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলাম বাহাদুরের ভাই সাদেকুর রহমানের নামে ‘মেসার্স কেমি এন্টারপ্রাইজ’কে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।এ ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যকে নিয়ে সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলামের মন্তব্যের বিষয়টি সংবাদে উঠে আসে। পরে এ বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে শাস্তি পাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। কোনো সরকারের সময়ে বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর বা অন্য শাস্তির মুখে পড়া কর্মকর্তাদের পরবর্তী সরকার এসে ফিরিয়ে দেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। এতে প্রশাসনে যোগ্যতা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুকূল্য বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।এর আগে গত ১ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া ও বরখাস্ত ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আগের সরকারের সময়ে চাকরি হারানো অনেক কর্মকর্তা ফিরেছেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বরখাস্ত হওয়া ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকেও ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট চাকরিতে পুনর্বহাল করে নির্বাচন কমিশন।এদিকে বর্তমান সরকারও বিভিন্ন খাতের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর, বরখাস্ত ও অন্যান্য শাস্তি দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সরকার বদলালে এসব সিদ্ধান্তও কি আবার বদলে যাবে?এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফঅভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের শাস্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।২০২৫ সালের জুনে এনবিআরের আন্দোলনের কারণে রাজস্ব কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল। আন্দোলনের একপর্যায়ে এসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তাঁরা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কাউকে বেতন কমানোর শাস্তি দেওয়া হয়।এখন রাষ্ট্রপতির আদেশে সেই শাস্তি বাতিল হয়েছে।এর কয়েক মাস আগেই সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন-২০২৬’ সংসদে পাস হয়। এতে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।পুরোনো নজিরও আছেগত ১ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাঁদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়।এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান খানের বরখাস্তের আদেশ ১১ বছর পর গত ৬ আগস্ট বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে চাকরি হারানো ১ হাজার ৫২২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে নৈতিক স্খলন, আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ফৌজদারি মামলা থাকা ব্যক্তিদের এ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর।একদিকে ফেরানো, অন্যদিকে সরানোসরকার পরিবর্তনের পর আগের সরকারের সময়ে শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ফিরেছেন। আবার বর্তমান সরকারও পুলিশ ও জনপ্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর ও অন্যান্য শাস্তি দিয়েছে।জুলাইয়ের শেষে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পুলিশ প্রশাসনেও বহু কর্মকর্তাকে একইভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছে।বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, এসব সিদ্ধান্ত কতটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ এবং কতটা রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত।বিশেষজ্ঞদের মতসাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, সব সরকারের সময়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে বিদায় করা হলে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁদের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফিরিয়ে আনলে রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য আরও শক্তিশালী হয়।তাঁর মতে, কোনো কর্মকর্তা অন্যায় করলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে শাস্তি দিতে হবে। অন্যায্যভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া হলে তা সংশোধনের সুযোগও থাকতে হবে।জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, বিভাগীয় মামলায় দণ্ডিত কর্মকর্তার আপিল ও রিভিউয়ের সুযোগ রয়েছে। এরপর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল বিভাগে যাওয়ারও সুযোগ আছে।তাঁর মতে, এসব প্রক্রিয়ার বাইরে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফিরিয়ে এনে পদে বসানো হলে সেটি অনিয়ম। এতে প্রশাসনের রাজনীতিকরণ আরও বাড়ে এবং দক্ষ ও নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।বিশ্লেষকদের মতে, অন্যায় শাস্তি বাতিল করা ন্যায়বিচারের অংশ হতে পারে। তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় শাস্তি দেওয়া ও প্রত্যাহারের সংস্কৃতি চলতে থাকলে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখেই থাকবে।
নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার রাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব সুমনী আক্তারকে নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক করা হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামানকে।অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহানকে রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।