ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

খিলক্ষেতের পিংক সিটি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫০০ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা তৈরির মেশিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিটসংলগ্ন পিংক সিটি আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোড-২-এর ১২ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, অভিযানে ৩ হাজার ৫০০টি ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ফেনসিডিলের ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়েছে।অভিযানকালে ইয়াসিন আরাফাত (৩৭) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ইয়াসিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ঠিক কত দিন ধরে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, কীভাবে মাদক তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আনা হতো এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে ব্যবহার করে মাদক তৈরির কারখানা চালানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।ওসি বলেন, অভিযানে তৈরি মাদকের পাশাপাশি ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার হয়েছে। তাই ঘটনাটি শুধু মাদক মজুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, খিলক্ষেতের মাটিতে মাদক তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবসার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিসহ এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, জাকারিয়াকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক তৈরির এই কারখানার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কাঁচামাল কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আবাসিক এলাকার একটি বাসার ভেতর মাদক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় এই কারখানার নেপথ্যে কারা এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত।