ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
আবার একজোট হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

আবার একজোট হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ফুলগাজীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিতাড়িত স্বৈরাচারী শক্তি ও নেপথ্যে সক্রিয় থাকা গুপ্ত মহল আবারও একজোট হয়ে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া স্বৈরাচার ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই শক্তি ও নেপথ্যে থাকা গুপ্ত বাহিনী আবারও একত্র হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৮৬ সালসহ বিগত বিভিন্ন নির্বাচনেও তারা গোপনে একসঙ্গে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে একটি মহল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির মতো বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিরকের শামিল ও মুনাফেকি আচরণ। এখন ওই মহল তথাকথিত ‘এক দফা’র স্লোগান তুলে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচসুবিধা সম্প্রসারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল ও নদী খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনসেবা সম্প্রসারণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চর্চা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে।মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, আমরাও দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে।’প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা তাঁরও দায়িত্ব।মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন প্রকল্পের কাজে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে প্রকল্পের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে সরকার। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজেও সতর্ক রয়েছেন বলে জানান।মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই তা করা হবে।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যার কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমবে। বৃহত্তর এই অঞ্চলের মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন।তিনি আরও জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।পরিদর্শনের সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ব্যবসায়ীর ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ: নিজাম হাজারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ৯ কোটি ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পারসিত চাকমা আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর আনোয়ার হোসেন ফেনী মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে ৯ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং আরও ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।চার্জশিটে নিজাম হাজারী ছাড়াও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, জিনাত রেজওয়ানা, নিজাম হাজারীর নিকটাত্মীয় আবদুল আউয়াল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাকিব মিঞা, ঝালকাঠির আলিম তালুকদার, ফেনী শহরের বারাহিপুরের কহিনুর আক্তার এবং সুলতানপুরের ফারহানা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।মামলার তদন্তে যা বলা হয়েছেতদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জিনাত রেজওয়ানার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্রে জিনাতের কাছে আনোয়ারের টাকা পাওনা ছিল।পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জিনাত তাঁর কোম্পানির প্যাড ও চেক চুরির অভিযোগ তুলে থানায় দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আনোয়ারকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।পরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি আবদুল আউয়াল, কহিনুর আক্তার ও ফারহানা আক্তারের মাধ্যমে আহসান আদেলুর রহমানকে জানানো হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিজাম হাজারীকে জানান বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগঅভিযোগপত্র অনুযায়ী, একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনকে নিজাম হাজারীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং বাকি টাকা পরদিন দেওয়ার শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।জিনাত রেজওয়ানাকে ঘিরে তদন্তে যা উঠে এসেছেতদন্তে জিনাত রেজওয়ানার সঙ্গে নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে জিনাত কয়েকবার ফেনী সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জিনাত রেজওয়ানার বিরুদ্ধে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্য জানা যায়নি।

ব্যবসায়ীর ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ: নিজাম হাজারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট