ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চর্চা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে।
মঙ্গলবার দুপুরে
ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ
বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের
জবাবে তিনি এসব কথা
বলেন।
শহীদ উদ্দীন
চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি
ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ
আমাদের নির্বাচিত করেছে, আমরাও দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা
করছি। এ মুহূর্তে জিরো
টলারেন্সে চলে যাব বলব
না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে
প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে
এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প
যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ
করা তাঁরও দায়িত্ব।
মন্ত্রী বলেন,
কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন প্রকল্পের কাজে
প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন,
দুর্নীতি বা অন্য কোনো
কারণে প্রকল্পের ক্ষতি না হয়, সে
বিষয়ে সতর্ক থাকবে সরকার। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজেও সতর্ক
রয়েছেন বলে জানান।
মুহুরী-কহুয়া
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের
বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের
আওতায় জমি অধিগ্রহণের কারণে
কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁকে প্রয়োজনীয়
ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের
প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন
নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন
হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই তা করা হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী
বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা,
বাঁধ ভাঙন ও বন্যার
কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমবে। বৃহত্তর এই অঞ্চলের মানুষ
প্রকল্পটির সুফল পাবেন।
তিনি আরও
জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের
শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ
উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।
২০৩০ সালের
মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার
প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময়
ফেনী-১ আসনের সংসদ
সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত
নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা
আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক
অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা
প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের
ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব
আলাল উদ্দিন আলালসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৬
জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার
৫৪২ কোটি ১৬ লাখ
টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের
পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির
বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু
হয়নি।
প্রকল্পের আওতায়
৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ
পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩
কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০
কিলোমিটার নদী ও জলাধার
পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো
পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট
নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।