ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের টাকা। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আসাদুজ্জামান বলেন, একটি এলাকার সব সমস্যার সমাধান জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া না হলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসহ যেকোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।শৈলকূপার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। দিগনগর ইউনিয়নেও নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব সড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শৈলকূপার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন কার্যালয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিন এবং কয়েকজন কর্মচারী।অভিযোগ অনুযায়ী, একই কাজের বিপরীতে একাধিকবার বিল তোলা, চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের পর তা আবার তুলে নেওয়া, পুরোনো প্রিন্টার ও কম্পিউটার কিনে নতুন যন্ত্রপাতির বিল দেখানো এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কাজে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোর সাবেক সিএ এবং সাবেক নাজিরের সহায়তা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংস্কারকাজে দ্বিগুণ বিলের অভিযোগজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি ভবনের নিচতলা ও ডিডিএলজি কক্ষ সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মে ১২৯ নম্বর স্মারকে দুটি কোটেশনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়। ওই দুই কক্ষের মেরামত, টাইলস স্থাপন, দরজা-জানালা পরিবর্তন, স্যানিটারি ফিটিংসসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব কাজের বিপরীতে ১৪ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়। ঠিকাদার মিলটন এক বছর আগেই কাজ শেষ করে বিল তুলে নেন।অভিযোগ রয়েছে, একই দুটি কক্ষে পরবর্তী জুন ক্লোজিংয়ের সময় আবার টাইলস বসানো ও গ্রিল স্থাপনের কাজ দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। অথচ এর আগে একই কক্ষে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।এবারের কাজের ঠিকাদার হিসেবে দেখানো হয় নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খানের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান অ্যান্ড সন্সকে।এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান *আমার দেশ*কে বলেন, তিনি আগে ঠিকাদারি করতেন, এখন আর করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে সেখানে ঠিকাদারি কাজ করার কথা স্বীকার করলেও কবে, কী ধরনের এবং কত টাকার কাজ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।মনিহারি কেনার নামে ১১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগসূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মনিহারি সামগ্রী কেনার জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকৃতপক্ষে এ খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ টাকার মধ্যে জুন ক্লোজিংয়ের সময় ১১ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, চাহিদাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (এনডিসি) অনুমোদন ছাড়াই ১১টি বিলের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়। নগরীর বান্ধ রোডের লঞ্চঘাট এলাকার তালুকদার স্টোরস থেকে মুদি ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামে এসব বিল দেখানো হয়েছিল।অভিযোগ রয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে ১১ লাখ টাকার চেক প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে সমপরিমাণ অর্থের অগ্রিম চেক নিয়ে তা তুলে নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খান আসাদ। সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের নির্দেশে দোকানমালিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।তালুকদার স্টোরসের মালিক জাহানারা বেগম ও তাঁর স্বামী হুমাউন কবীর অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুমাউন কবীর জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে তাঁদের আগের পাওনা অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। তবে শিগগিরই তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।বাঁধাইয়ের কাজ না করেই পাঁচ লাখ টাকার বিল?জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ফাইলের কাভার, কর্মকর্তাদের হ্যান্ড নোটবুক এবং রেকর্ড রুমের নথি বাঁধাইয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।সরকারি বিধি অনুযায়ী, স্বীকৃত বাঁধাইখানা থেকে খাতাপত্র বাঁধাই করার কথা। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে বিল দেখানো হলেও সেখানে কোনো বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়নি।এ বিষয়ে হুমাউন কবীর জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর স্ত্রীর নামে হলেও বর্তমানে তিনি এটি দেখাশোনা করেন। তাঁদের দোকানে বাঁধাইয়ের কাজ হয় না। বাঁধাই ও মনিহারি সামগ্রী কেনার বিল-ভাউচারের বিপরীতে তাঁদের হিসাবে টাকা জমা হয়েছিল। পরে সমপরিমাণ টাকার চেক নিয়ে সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান সেই অর্থ তুলে নেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান আসাদ *আমার দেশ*কে বলেন, মনিহারি সামগ্রী কেনা ও বাঁধাইয়ের জন্য তালুকদার এন্টারপ্রাইজের হিসাবে দেওয়া বিলের টাকা তিনি চেকের মাধ্যমে তুলে আনেননি। তাঁর ভাইও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো কাজ করেননি। তবে কার্যালয়ের কেউ তাঁর ভাইয়ের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কে লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও জানান আসাদ।পুরোনো প্রিন্টার কিনে নতুনের বিলজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রিন্টার কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কয়েকটি পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রিন্টার কেনা হলেও বরিশালের আর্ক কম্পিউটার থেকে নতুন কম্পিউটার কেনার ভাউচার দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।শুধু প্রিন্টার নয়, এর আগে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার নামেও সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্পিউটার না কিনেই ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া জুন ক্লোজিংয়ের সময় সভা-সেমিনার, জ্বালানি ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও প্রশ্নজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণ পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন তুলনামূলক ছোট পরিসরে হওয়ায় তহবিলে ৭৭ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২৫ হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল।সব মিলিয়ে ওই খাতে এক লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত থাকলেও সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিলে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সেখানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি।তদন্তের আশ্বাস বর্তমান জেলা প্রশাসকেরঅভিযোগের বিষয়ে জানতে গত দুই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার *আমার দেশ*কে বলেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের সময় আমি ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে বলতে পারব না। এ ছাড়া পুরোনো প্রিন্টার কেনার বিষয়টি আমার জানা নেই।’তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পিয়ন পদে নিয়োগ নিয়ে তদবিরের অভিযোগ ঘিরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়া এক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ উপেক্ষা করায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের অসন্তোষের মুখে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভাগীয় কমিশনারও বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।প্রক্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা রাজস্ব প্রশাসনে অফিস সহায়কের ১০টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা জহিরুল ইসলাম লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের সদস্যরা তাঁকে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করা হয়। তখন হাতের লেখায় অসংগতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহার অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় তাঁর পরিবর্তে সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তি অংশ নেন। এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর রাকিবুল ইসলাম। পরে পুলিশ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদবিরের অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুল ইসলাম ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী। তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ সামনে আসার পর জেলা প্রশাসক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয় বলে তাঁদের দাবি।তবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের আচরণগত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান করেন না। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি পটুয়াখালী সফরে গেলে জেলা প্রশাসক তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দেন না, অথচ পুলিশ সুপার সেখানে উপস্থিত হন বলে দাবি করেন তিনি।নুরুল হক নুর আরও বলেন, কয়েক দিন আগে সরকারি সফরে পটুয়াখালী গেলে জেলা প্রশাসক একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে কুয়াকাটা চলে যান। তাঁর ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের অসদাচরণের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।বদলিকে নিয়মিত প্রক্রিয়া বলছে বিভাগীয় প্রশাসনপ্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষের কারণে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের পদোন্নতি হয়েছে এবং তাঁর বদলি জনপ্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে চাননি।টিআইবির চোখে অনৈতিক চাপের অভিযোগ উদ্বেগজনকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একই দিনে কয়েকজন জেলা প্রশাসককে বদলি করায় বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মনে হতে পারে। তবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের ক্ষেত্রে একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য।তিনি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক এবং তা প্রতারণায় সহায়তা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হতে পারে।ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে যদি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা সরকারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তবে জেলা প্রশাসকের বদলির সঙ্গে নিয়োগে তদবিরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বদলির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় রয়েছে।

পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

নির্বাচিত সরকারের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও জনপ্রশাসনে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়হীনতা, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চললেও মধ্যম ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্থবিরতা রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব এবং সরকারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে প্রশাসনের এই পরিস্থিতির পেছনে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পদায়ন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।প্রশাসন সাজানো নিয়ে প্রশ্নজনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, আগের সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বহাল রয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রশাসন পুনর্গঠনে বিতর্কের মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধারার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে সরকারের প্রতি প্রত্যাশিত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন।অন্যদিকে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনো প্রত্যাশিত সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কানিজ মওলাসহ কয়েকজন সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার ঘটনাও এ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, এতে প্রশাসনে দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।নিয়োগে বিতর্ক, মাঠ প্রশাসনেও অসন্তোষসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হলেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে ৬১ জেলার প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী বাদ পড়েন। বাদ পড়া প্রার্থীদের কারও কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সরকারের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এ ধরনের প্রতিবেদন সরকারের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক কয়েকজন আমলা। তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার সুযোগে আগের প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে বদলায়নি পরিস্থিতিসরকার পরিবর্তনের পরও সরকারি দপ্তরে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানি কমেনি বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের ভাষ্য, ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি টাকা দেওয়ার অভিযোগ এখনো রয়েছে। সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসের মতো জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ভোগান্তির কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের সঙ্গে আমলাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।এদিকে, শাহেদ শরীফ আহমেদের চালু করা ‘ঘুষ ডট সাইটে’ গত বুধবার পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৫৮টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি করা ঘুষের মোট পরিমাণ ৫৫২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়ার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভঙ্গুর প্রশাসন পেয়েছিল। সেই প্রশাসন পুনর্গঠনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঘাটতি ছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি ও অবসরে পাঠালেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগের সরকারের সময়কার অনেক কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্নপ্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি একযোগে ১২টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদেও সরকারদলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়োগ প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সরকারেরপ্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, বিগত সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের ঘটনা নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে (এসিআর) সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য বিবেচনা করা হবে। সরকারের সামনে এখন প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ কমানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও জনসেবার মান উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হতে পারে।

প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চর্চা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে।মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, আমরাও দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে।’প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা তাঁরও দায়িত্ব।মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন প্রকল্পের কাজে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে প্রকল্পের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে সরকার। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজেও সতর্ক রয়েছেন বলে জানান।মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই তা করা হবে।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যার কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমবে। বৃহত্তর এই অঞ্চলের মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন।তিনি আরও জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।পরিদর্শনের সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের প্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন মঈন খান।তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।মঈন খান বলেন, বিএনপিকে ‘ক্যান্টনমেন্টের দল’ বলা হয়। অথচ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছেন।বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই তিনি নিজের ইচ্ছায় কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারেন না।তিনি বলেন, আমি আজ যদি বলে দিই, অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেবে বলে জানান তিনি।

দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান

অবৈধ অর্থ লেনদেনে ডিএসসিসির কর্মকর্তা অব্যাহতি

ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তা মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখা, অঞ্চল-৪-এর লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।রোববার ডিএসসিসি ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো অভিযোগ করেন, গত ২৩ ও ২৪ জুন অনস্পট ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ক্যাম্প চলাকালে মোস্তফা নূরউদ্দিন ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেন।অভিযোগে বলা হয়, অর্থ নেওয়ার পর দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও ওই লাইসেন্সগুলো নবায়ন করা হয়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সময়ক্ষেপণ ও টালবাহানা করেন।অভিযোগটি শুনে ডিএসসিসির প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর নির্দেশে মোস্তফা নূরউদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, নাগরিক ও ব্যবসায়ী সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার শোকজের জবাব পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ অর্থ লেনদেনে ডিএসসিসির কর্মকর্তা অব্যাহতি

গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকা, ৪ আগস্ট: গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে বদলি, পদায়ন ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গড়ে তুলেছেন।অভিযোগে হবিগঞ্জ, ভোলা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সাভারে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সরকারি নির্মাণ প্রকল্প ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, তার পৃথক থাকা স্ত্রীর নামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যেও তার ব্যক্তিগত আচরণ ও সম্পদের মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ