ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ভারী বৃষ্টিতে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে, আটকে পড়েছে যানবাহন। বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী, যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। বেসমেন্ট ও নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতে ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খাল ও ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছেন।স্কুল বন্ধ, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাঅ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবরতুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট ও বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন।তুরস্ক টুডের খবরে বলা হয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।বন্যার পানি দুটি হাসপাতালেও পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

সেপ্টেম্বরে কম বৃষ্টি, ২–৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস

সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বঙ্গোপসাগরে এ মাসে এক থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদানের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় সেপ্টেম্বর মাসের এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এর ফলে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।এ ছাড়া চলতি মাসে তিন থেকে পাঁচ দিন বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।নদ-নদীর বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে ভারি বৃষ্টিপাত হলে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, এ মাসে দেশে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে।

সেপ্টেম্বরে কম বৃষ্টি, ২–৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। বুধবার সকালে ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। সকাল ১০টায়ও একই মাত্রায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিচু এলাকাও প্লাবিত হতে শুরু করেছে।আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার জেলায় ১৩২ দশমিক ০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট