ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন কার্যালয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিন এবং কয়েকজন কর্মচারী।অভিযোগ অনুযায়ী, একই কাজের বিপরীতে একাধিকবার বিল তোলা, চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের পর তা আবার তুলে নেওয়া, পুরোনো প্রিন্টার ও কম্পিউটার কিনে নতুন যন্ত্রপাতির বিল দেখানো এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কাজে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোর সাবেক সিএ এবং সাবেক নাজিরের সহায়তা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংস্কারকাজে দ্বিগুণ বিলের অভিযোগজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি ভবনের নিচতলা ও ডিডিএলজি কক্ষ সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মে ১২৯ নম্বর স্মারকে দুটি কোটেশনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়। ওই দুই কক্ষের মেরামত, টাইলস স্থাপন, দরজা-জানালা পরিবর্তন, স্যানিটারি ফিটিংসসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব কাজের বিপরীতে ১৪ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়। ঠিকাদার মিলটন এক বছর আগেই কাজ শেষ করে বিল তুলে নেন।অভিযোগ রয়েছে, একই দুটি কক্ষে পরবর্তী জুন ক্লোজিংয়ের সময় আবার টাইলস বসানো ও গ্রিল স্থাপনের কাজ দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। অথচ এর আগে একই কক্ষে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।এবারের কাজের ঠিকাদার হিসেবে দেখানো হয় নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খানের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান অ্যান্ড সন্সকে।এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান *আমার দেশ*কে বলেন, তিনি আগে ঠিকাদারি করতেন, এখন আর করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে সেখানে ঠিকাদারি কাজ করার কথা স্বীকার করলেও কবে, কী ধরনের এবং কত টাকার কাজ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।মনিহারি কেনার নামে ১১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগসূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মনিহারি সামগ্রী কেনার জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকৃতপক্ষে এ খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ টাকার মধ্যে জুন ক্লোজিংয়ের সময় ১১ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, চাহিদাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (এনডিসি) অনুমোদন ছাড়াই ১১টি বিলের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়। নগরীর বান্ধ রোডের লঞ্চঘাট এলাকার তালুকদার স্টোরস থেকে মুদি ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামে এসব বিল দেখানো হয়েছিল।অভিযোগ রয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে ১১ লাখ টাকার চেক প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে সমপরিমাণ অর্থের অগ্রিম চেক নিয়ে তা তুলে নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খান আসাদ। সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের নির্দেশে দোকানমালিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।তালুকদার স্টোরসের মালিক জাহানারা বেগম ও তাঁর স্বামী হুমাউন কবীর অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুমাউন কবীর জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে তাঁদের আগের পাওনা অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। তবে শিগগিরই তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।বাঁধাইয়ের কাজ না করেই পাঁচ লাখ টাকার বিল?জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ফাইলের কাভার, কর্মকর্তাদের হ্যান্ড নোটবুক এবং রেকর্ড রুমের নথি বাঁধাইয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।সরকারি বিধি অনুযায়ী, স্বীকৃত বাঁধাইখানা থেকে খাতাপত্র বাঁধাই করার কথা। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে বিল দেখানো হলেও সেখানে কোনো বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়নি।এ বিষয়ে হুমাউন কবীর জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর স্ত্রীর নামে হলেও বর্তমানে তিনি এটি দেখাশোনা করেন। তাঁদের দোকানে বাঁধাইয়ের কাজ হয় না। বাঁধাই ও মনিহারি সামগ্রী কেনার বিল-ভাউচারের বিপরীতে তাঁদের হিসাবে টাকা জমা হয়েছিল। পরে সমপরিমাণ টাকার চেক নিয়ে সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান সেই অর্থ তুলে নেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান আসাদ *আমার দেশ*কে বলেন, মনিহারি সামগ্রী কেনা ও বাঁধাইয়ের জন্য তালুকদার এন্টারপ্রাইজের হিসাবে দেওয়া বিলের টাকা তিনি চেকের মাধ্যমে তুলে আনেননি। তাঁর ভাইও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো কাজ করেননি। তবে কার্যালয়ের কেউ তাঁর ভাইয়ের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কে লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও জানান আসাদ।পুরোনো প্রিন্টার কিনে নতুনের বিলজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রিন্টার কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কয়েকটি পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রিন্টার কেনা হলেও বরিশালের আর্ক কম্পিউটার থেকে নতুন কম্পিউটার কেনার ভাউচার দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।শুধু প্রিন্টার নয়, এর আগে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার নামেও সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্পিউটার না কিনেই ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া জুন ক্লোজিংয়ের সময় সভা-সেমিনার, জ্বালানি ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও প্রশ্নজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণ পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন তুলনামূলক ছোট পরিসরে হওয়ায় তহবিলে ৭৭ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২৫ হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল।সব মিলিয়ে ওই খাতে এক লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত থাকলেও সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিলে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সেখানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি।তদন্তের আশ্বাস বর্তমান জেলা প্রশাসকেরঅভিযোগের বিষয়ে জানতে গত দুই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার *আমার দেশ*কে বলেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের সময় আমি ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে বলতে পারব না। এ ছাড়া পুরোনো প্রিন্টার কেনার বিষয়টি আমার জানা নেই।’তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, অস্ত্র নিয়ে মহড়া-শোডাউন

বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মোটরসাইকেলে দলবেঁধে চলাচল, প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন, শোডাউন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়া এসব গ্রুপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গ্রুপের একটি অংশ মাদক, ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিং, মারামারি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কখনো ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে বড় বহর নিয়ে সড়কে মহড়া দিতে দেখা যায় তাদের। কেউ বাধা দিলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।সম্প্রতি নগরীর পলাশপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী বাবু শিকদার নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানা পুলিশ টোকাই মধু, শহীদ ওরফে কালা শহীদ ও মন্টু সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, আলোচিত ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ চক্রের নেতা রিদওয়ান এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বরিশাল মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পুলিশ বলছে, তাদের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা রয়েছে এবং তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।অস্ত্রের ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্কসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে মোটরসাইকেলে করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পরে নদীর পাড়ে গিয়ে তাদের মধ্যে অস্ত্র হস্তান্তরের দৃশ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের এমন ঘটনা কীভাবে ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, বেলস পার্ক ও আশপাশের সড়ক, কালিজিরা নদীর পাড় থেকে চরবাড়িয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের মোটরসাইকেল শোডাউন এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।বরিশাল নগরের গরিয়ারপাড়, চৌমাথা, নিউ সার্কুলার রোড, বাংলাবাজার, কালুশাহ সড়ক, বটতলা, পলিটেকনিক রোড, আমিরকুটির, কেডিসি, চাঁদমারী, মতাসার, কাকাশুরা, সাধুর বটতলা, কাউনিয়া হাউজিং, জানুকিসিংহ রোড, বিসিক, বাগানবাড়ি, হাওলাদার সড়ক, কাশিপুর, সাগরদি, রূপাতলী, কালীবাড়ী রোড, বিএম স্কুল, নতুন বাজার ও বিএম কলেজ এলাকায় বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের তৎপরতার কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়।স্থানীয়ভাবে রিফাদ-রিয়াদ, সাগর-শাহরুখ, জিহাদ, মুন্না-সামির, হিরা ও স্টেলিনসহ বিভিন্ন গ্রুপের নাম আলোচনায় রয়েছে। পলাশপুরেও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোরেরাস্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এখন শুধু পাড়া-মহল্লায় সীমাবদ্ধ নেই। নগরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও দলবদ্ধভাবে তাদের অবস্থান ও আড্ডার অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন, বেলস পার্ক ও জিলা স্কুল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নারীদের উত্ত্যক্ত করা, মোটরসাইকেলে বিকট শব্দ সৃষ্টি, পথচারীদের বিরক্ত করা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগও রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করে তাঁর মুঠোফোন বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।শুধু ছিনতাই বা অস্ত্র প্রদর্শন নয়, মাদক ও জুয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই জুয়ার কারবার চলছে। জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারি, গুরুতর আহত হওয়া এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।সম্প্রতি সদর রোডে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনাতেও জুয়া-সংক্রান্ত বিরোধের কথা স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।গ্রুপে ঢোকার পর অপরাধে জড়ানোর অভিযোগস্থানীয়দের মতে, কিশোরদের একটি অংশ প্রথমে বন্ধুত্ব, আড্ডা কিংবা মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে এসব গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে। পরে ধীরে ধীরে তাদের কেউ কেউ মাদক, মারামারি, ছিনতাই ও অস্ত্র প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।পলাশপুরের ‘ফকির গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর চক্রের নেতৃত্বে ফকির রাজু রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকার কথাও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।এ ছাড়া স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে কিছুদিন আগে রিদওয়ানের একটি হাত কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নগরের বেলতলা এলাকার মামুন ওরফে বাবা মামুন জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।এসব গ্রুপের পেছনে মাদক কারবারি, অপরাধী চক্র কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।পুলিশের অভিযানকিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে বরিশাল মহানগর পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। গত শনিবার দুপুরে নগরের বটতলা এলাকা থেকে ‘স্টেলিন গ্রুপের’ প্রধান স্টেলিনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সে একই এলাকার সোহেল মিঞার ছেলে।বরিশাল নগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা আছে। তালিকায় থাকা নাম ধরে ধরে তাদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত শনিবার বিকেলে দেশি অস্ত্রসহ এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’তিনি বলেন, নতুন করে যারা গ্রুপ করার চেষ্টা করছে, তাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বরিশালে নতুন কোনো গ্যাং তৈরি করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কেউ রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কাজে আসবে না।

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, অস্ত্র নিয়ে মহড়া-শোডাউন

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগের সময় করণীয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই কৃষি নিয়েও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মতিন সাগর বলেন, সংগঠনের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ছাড়াই সদস্যদের সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।মতিন সাগর বলেন, আমরা পৃথিবীকে ভালোবেসে কাজ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ যেন অন্য সবার মতো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার পায়।তিনি বলেন, উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি কমাতে শুধু দুর্যোগের সময় সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের আগেই মানুষকে প্রস্তুত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। এ কারণে ইকোভা ফাউন্ডেশন সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংগঠনের প্রয়োজনইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইকোভার মতো আরও সংগঠন গড়ে উঠা প্রয়োজন।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মানুষ যে প্রভাব ভোগ করছে, তার বড় একটি অংশই মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সচেতন মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠন খুবই প্রয়োজন।মো. বেলাল হোসেন আরও বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কাজ করছে। তাই আমি আশা করছি, খুব দ্রুত তারা সরকার অথবা কোনো বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন নিয়ে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।কৃষি ও জলবায়ু বিষয়ে পরামর্শইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি একজন বিজ্ঞানী। কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সংগঠনটিকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে কৃষি, পানি ও পরিবেশের বিষয়গুলো সরাসরি সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন তৈরি হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে দুর্যোগ মোকাবিলা ও সচেতনতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই কৃষির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাবর্তমানে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের প্রস্তুতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার কাজ অব্যাহত রাখতে চায় সংগঠনটি।নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশনের।  

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন