ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট

বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে। আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ—সব মিলিয়ে জয়ের পথও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং শেষ দিকে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে ড্র হয়েছে ম্যাচটি।আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় উইকেটের দেখা মেলেনি।ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।অটলের প্রতিরোধে বেঁচে যায় আফগানিস্তানপঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। দিনের শুরু থেকেই দৃঢ়তার পরিচয় দেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। যদিও রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো পায়ে লাগায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। পরে অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি।অন্য প্রান্তে সেদিকুল্লাহ অটলকে ভালো সঙ্গ দেন ইকরাম আলিখিল। প্রথম সেশনের বেশির ভাগ সময় উইকেট ধরে রাখলেও মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।এরপর ইসমাত আলমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অটল। একের পর এক বল ঠেকিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন ইসমাত। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।মিরাজের আঘাতেই পরে বিদায় নেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। চা-বিরতির ঠিক আগে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর সংগ্রহ ৩৬ রান।ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অটলেরএক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই কঠিন করে তুলছিলেন তিনি। চা-বিরতির আগেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।বিরতির পর অবশ্য তাঁর প্রতিরোধ থামান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই আফগান ওপেনার।অটল ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ ওভার ২ বল বাকি থাকতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন কায়েস আহমেদ। তবে সহজ সেই সুযোগও নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।শেষ বলেও ছক্কা কায়েসেরক্যাচ মিসের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আফগানিস্তানের হাতেই চলে যায়। যদিও শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অষ্টম উইকেট হারায় তারা, তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।বরং শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।প্রথম চার দিন জয়ের স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ শেষ দিনে অটলের প্রতিরোধ ও নিজেদের সুযোগ হাতছাড়ার কারণে জয় থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দেখিয়েছে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ মাঠে গড়াল না। টানা বর্ষণে খেলা শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ।এর আগে টুর্নামেন্টের কয়েকটি ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ম্যাচেও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল মাঠের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।টানা বৃষ্টির কারণে আজকের দুটি কোয়ার্টার ফাইনালের কোনোটিই মাঠে গড়ায়নি। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল ছিল যে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্টরা।অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কাও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে ওই ম্যাচ নিয়েও রয়েছে বৃষ্টির শঙ্কা। নির্ধারিত সময়ে সেমিফাইনাল ম্যাচ মাঠে না গড়ালে র‍্যাঙ্কিংয়ের নিয়মে বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হবে। কারণ বর্তমান টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

মিরাজের ব্যাটে রেকর্ড, বাংলাদেশের লিড ২২৮

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়িয়েছে। আর এই লিড গড়ে তোলার পেছনে বড় অবদান রেখেছেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। বিশ্বমানের অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শেষ দিকের ব্যাটারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেন তিনি।মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করায় বাংলাদেশ পেয়েছে ২২৮ রানের লিড।বাংলাদেশের ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তদের অবদানের পাশাপাশি মিরাজের ইনিংসটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যখন ক্রিজে যান, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৩০৬ রান। কিছুক্ষণ পর মুশফিকুর রহিমও ফিরে গেলে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩০৮ রান।এরপর শেষ দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নেন মিরাজ। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।এই ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। সাত নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তাঁর।শুধু ব্যাটিং নয়, বল হাতেও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার মিরাজ। টেস্টে অভিষেকের পর বাংলাদেশের হয়ে তাঁর উইকেটসংখ্যা ২১৯, যা দেশের বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাট হাতে তাঁর রান ২ হাজার ২৯৬।টেস্টে অভিষেকের পর ২ হাজারের বেশি রান ও ২০০-এর বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি মিরাজ ছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটে আর মাত্র একজন অলরাউন্ডারের রয়েছে। তিনি ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।ডারউইন টেস্টের এখনও দুই দিন বাকি। ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মিরাজ সামনে আরও কোনো রেকর্ড গড়তে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মিরাজের ব্যাটে রেকর্ড, বাংলাদেশের লিড ২২৮

৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, একাই ৮ উইকেট নিলেন থম্পসন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই বড় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠেন ২২ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রান করে। জবাবে ৩৫৫ রান তুলে ৯২ রানের লিড নেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। সেই লিড পুষিয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২১.৬ ওভারে ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় দলটি।বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন থম্পসন। মাত্র ১১ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৮ উইকেট। বাংলাদেশের ১০ ব্যাটারের মধ্যে ৮ জনকেই সাজঘরে ফেরান এই তরুণ পেসার।আগের দিন দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ৬ রানে আউট করেন থম্পসন। এরপর মুমিনুল হকও তাঁর বলে ৬ রান করে বোল্ড হন।শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১৯ রান করেছিল। তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই আবার বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো রান না করেই থম্পসনের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর সৌম্য সরকার ৫ ও মুশফিকুর রহিম ২ রান করে একই বোলারের শিকার হন।৩৬ রানেই চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে অমিত হাসান ৪ রান করে কোরি রকিচোলির বলে আউট হলে আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস আর বেশি দূর এগোয়নি। শেষদিকে হাসান মাহমুদ ২ রানে অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে কেউ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি।তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন থম্পসন। ১১ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলিং করেছেন তিনি। রকিচোলি নিয়েছেন ২ উইকেট।দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং বিপর্যয় বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, একাই ৮ উইকেট নিলেন থম্পসন