ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

আর্থিক সংকটে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে তা পরিশোধ করবে।সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে টাকা ফেরত দেবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। এর আগে একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংকএকসময় বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সিকদার পরিবারের হাতে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে।তবে সিকদার পরিবারের সময়কার অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সূচক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকটি।ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা উত্তোলন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।আমানতকারীদের টাকা ফেরতের নির্দেশএমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক।সাক্ষাৎকালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।গভর্নর ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকাএর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দায় মেটাতে হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ওই অর্থ দায় তৈরি হয়েছে।বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থের পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে সরবরাহ করেছে।ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও ঋণ আদায় বাড়ানো এবং আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।

চার ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে প্রাথমিকভাবে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত চারটি ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো- বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নামে দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ৫২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন করেছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়। অন্যদিকে, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে নীতিমালার শর্ত পূরণের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের সভায় নতুন চারটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও প্রাথমিক লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চার ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে থাকায় প্রায় তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে চারটি ব্যাংক থেকে ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ডলার কেনার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সরবরাহ বাড়ায় কমছিল দামসংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান, মঙ্গলবার সকালে ডলারের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। ওই সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স হাউজ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ থেকে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা দরে কিনছিল। আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সা।ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকায় আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কম। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় ডলারের দর কমছিল।এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আরও কমে যাওয়া ঠেকাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় হওয়ায় ডলারের চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন একজন ব্যাংকার।দুপুরে জানানো হয় নিলামের তথ্যমঙ্গলবার সকালে বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার কোনো পূর্বাভাস ছিল না। দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানায়।সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। ফলে মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দরে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে। একইভাবে রেমিট্যান্সের ডলারও কম দরে কেনা হয়।পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দিলে বিকেলে বাজারে দর কিছুটা বাড়ে। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তখন রেমিট্যান্সের ডলার কেনার পাশাপাশি এলসি নিষ্পত্তিতেও প্রতি ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করে।দুই সপ্তাহে দর ওঠানামা দেড় টাকাব্যাংকারদের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে দর নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়।অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় টাকা ওঠানামায় ব্যাংকার, আমদানিকারক ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি কমাতে অনেক গ্রাহক ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের মাধ্যমে আগাম ডলার সংগ্রহের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।একজন ব্যাংকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার তথ্য আগে জানালে সকালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এত কম দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনত না বা এলসি নিষ্পত্তি করত না। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন বাজারে হস্তক্ষেপ করবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাঁর মতে, মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ডলার কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলারের একটি সম্ভাব্য নিম্নসীমার ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক