ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল পরিচয়, রিকশা বশির এখন বিএনপিতে

ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল পরিচয়, রিকশা বশির এখন বিএনপিতে

একসময় দিনমজুরি ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বশির আহমেদ। বাড্ডা এলাকায় এখন তিনি ‘রিকশা বশির’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব ও রিকশা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েছে। চাঁদাবাজি, অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ছিলেন বশির। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই সময় মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, পোস্ট অফিস রোড, আফতাবনগর ও পুলিশ প্লাজা এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনা ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বশিরের নিয়ন্ত্রণে ২০০টির বেশি অবৈধ অটোরিকশা ও ৩০০টির বেশি ম্যানুয়েল রিকশা রয়েছে। পুরো ওয়ার্ডের হাজার হাজার রিকশা থেকেও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদার অর্থের একটি অংশ ট্রাফিক পুলিশ, থানা ও প্রভাবশালী মহলের কাছে যেত বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।বশিরের রিকশার গ্যারেজ ঘিরে মাদক ব্যবসার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বশিরের শ্যালক আলাচন ও আক্তারের নেতৃত্বে একটি মাদক সিন্ডিকেট এসব গ্যারেজ ব্যবহার করে। মাদক সংরক্ষণ ও কেনাবেচার পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি ও রিকশা চোর চক্রের সদস্যদের যাতায়াত ও আশ্রয়ের স্থান হিসেবেও গ্যারেজগুলো ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বশিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আন্দোলন দমনে অংশ নেওয়া এবং সরকারের পক্ষে মাইকিং করার অভিযোগে বাড্ডা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বশিরের দলীয় পরিচয়ও বদলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সাবেক সংগঠনের নেতারা। বাড্ডা থানা রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল আহমেদ বলেন, বশির আগে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং সহসভাপতি ছিল। তবে পটপরিবর্তনের পর সে এখন বিএনপি করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় বদলের পরও কীভাবে বশির তাঁর প্রভাব ও রিকশা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দারাজের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা, পণ্য সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

মাদক ব্যবসার অভিযোগে বহুল ব্যবহৃত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।এর আগে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচার বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ওই ধারায় এটিই প্রথম মামলা বলে তাঁরা জানান।ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচায় কঠোর শাস্তিমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধিত ২০২০ ও ২০২৬ সালের বিধান অনুযায়ী, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স অবৈধভাবে কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে যুক্ত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে চায়। এ জন্য সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তিনি বলেন, দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।পণ্য সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তারমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, দারাজে বিক্রি হওয়া একটি পণ্যে মাদক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়।রোববার বিকেলে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিটি ওয়েল ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক ও দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন জাপানে ছিলেন। সেখানে তিনি গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের তেল তৈরির কৌশল রপ্ত করেন। পরে ঢাকায় ফিরে সুগন্ধী সাবান তৈরির আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দারাজের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা, পণ্য সরবরাহকারী গ্রেপ্তার