নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা
ইরানের
বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক
অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা
চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন
জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক
পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও
তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার
পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা
আরও জোরালো হয়েছে।রোববার
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প
নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী
এবং শান্তির জন্য আরও বড়
অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন,
ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে
দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
ইরান তার আচরণ পরিবর্তন
না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই
বাকি কাজ শেষ করবে
বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প
লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ
থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ
করতে হবে, যা করতে
তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন,
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও
নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয়
দিয়েছেন।পোস্টের
শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের
প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে
নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’
ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি
নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ
করবেন না।’নির্বাচনে
কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে
আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের
আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার
পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন
পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট
নেসেটের মোট আসন ১২০টি।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা
জোটই এখন পর্যন্ত একক
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের
এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর
নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে
টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী
থাকা উচিত কি না।
দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প
ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের
জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না,
জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প
বলেন, ‘তারা চায় আমি
এতে জড়িত হই। হ্যাঁ,
তারা তা-ই চায়।’
নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না,
এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি
বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস
করি না।’যুক্তরাজ্যের
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা
কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার
মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের
পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে
গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর
মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ
পাবেন।তবে
নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব
অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ
নেই বলে মনে করেন
ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর
নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের
পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের
মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে
পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত
রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর
সমাধান করবে না।লন্ডনের
কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের
জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে
চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু
এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে
পারেন। তবে এর মাধ্যমে
নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে
যাবে, এমন ধারণাও ঠিক
নয়।ক্রিগের
ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি
ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের
ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত
করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে
এতে এক বা দুটি
আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর
নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে
দিতে পারবেন না।ইরান
যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার
জল্পনানেতানিয়াহুর
প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে
ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই
অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন
বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের
শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে
ইরানে আবার হামলার বিষয়টি
বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত
ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার
মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা
হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ
শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল
কার্যত বন্ধ করে দেয়
ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি
তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই
নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা
হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ
আরোপ করে। দুই পক্ষই
নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই
নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে
হামলা চালায়।গত
মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায়
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন
যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে
গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে
ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে
অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার
কমে যায়।এর
প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭
ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়।
শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০
ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯
মে-র পর সর্বোচ্চ।
পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে
আসে।হরমুজ
প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত
মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের
কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল
তেহরান। সাত দিনের মধ্যে
প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত
দেয়। এর মধ্যে ছিল
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ
অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে
শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে
সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা
ব্যর্থ হয়।রোববার
ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে।
ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে
ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব।
এরপরের দিন থেকেই আলোচনা
আবার শুরু হতে পারে
বলেও জানান তিনি।তবে
একই দিন রাতে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি
অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার
হামলা চালাতে চান।আরাগচি
লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ
শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন
ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে
বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা
করতে চান? স্বাগতম। তবে
সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ
রয়েছে।’তাঁর
অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর
পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে,
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে,
তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক
চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস
কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর
প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর
চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে
চাইছেন। তবে এর অর্থ
এই নয় যে তিনি
কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের
মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে
যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন
মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই
রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড়
কোনো ছাড় দিতে না
হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি
নিয়ে ছাড় দিতে এবং
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি
হবে।নেতানিয়াহুর
প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে
থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে।
তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ
হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি
চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয়
হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন
বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে
এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত
আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে
পারে।চ্যাথাম
হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায়
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে
দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের
সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই
অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে
দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা
যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে
তুলে ধরা কঠিন করে
তুলবে।ভাকিলের
ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে
সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে
নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের
অর্থ এই নয় যে
দুই নেতা ইরানে আরেকটি
অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ
শুরুর জন্য প্রথমে কে
সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন,
সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের
দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর
মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও
জোরদার করতে পারে বলে
মনে করেন ভাকিল। তবে
নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে
লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে
ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত
আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন
নির্বাচনের পর বাড়তে পারে
ঝুঁকিট্রাম্প
বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে
হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের
আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা
তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত
সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের
উদ্ধৃত করে জানায়, দুই
দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড়
ধরনের নতুন সামরিক অভিযান
চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে
আলোচনা হয়েছে।তবে
ইরান এমন কোনো হামলা
না চালালে, যার জবাব দিতে
যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন
করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে
মনে করেন ক্রিগ।তিনি
বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে
পারে ৩ নভেম্বরের পর,
যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না।
দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য
প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের
মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো
হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন
পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে
প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা
নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব
মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা
বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন
থেকেই দুই নেতা নতুন
সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর
মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের
মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে
আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ
নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।