ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন স্থায়ী নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাইক্রোসফট।ভ্যান্সের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি একই সময়ে প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং ৬ হাজার ৮০০টি এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের মজুরি কমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘আমেরিকার অন্য কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের চেয়ে বেশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি।’মাইক্রোসফট ছাড়াও অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি ভ্যান্স।আট প্রতিষ্ঠানের পার্ম আবেদন অনুমোদন নয়শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন পার্ম (PERM) আবেদন অনুমোদন করবে না সরকার।তাঁর অভিযোগ, মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ভিসা তৈরির কারখানায়’ পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভাসিয়ে’ দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিষয়টি নিয়ে বিবিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।যা বলছে মাইক্রোসফটএইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির অধিকাংশ কর্মীই আমেরিকান।মুখপাত্রের ভাষ্য, গত অর্থবছরে মাইক্রোসফটের দাখিল করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ৮০ শতাংশ ছিল আগে থেকে কর্মরত কর্মীদের জন্য। সেগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের আবেদন ছিল না। এ ছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ পাওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের একই পর্যায়ের মার্কিন কর্মীদের সমান বেতন দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে এলিস নামের একটি কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটে এইচ-১বি ভিসাধারী একজন কর্মীর গড় বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার।মাইক্রোসফটের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তথ্য দিতে তারা আগ্রহী। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি।এইচ-১বি ও পার্ম কর্মসূচি কীএইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি ভিসা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন হয়—এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যায়। কয়েক দশক ধরে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ করে আসছে। বছরে এ ধরনের ভিসার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ।অন্যদিকে, পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীর স্থায়ী নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এ সনদের ভিত্তিতে নিয়োগকর্তা পরবর্তী সময়ে ওই কর্মীর জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তর ১০টি ব্যবসায়িক বিভাগে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পার্ম আবেদন অনুমোদন করেছে।নাদেলাকে পুরস্কার, ভ্যান্সের সমালোচনামাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য একটি পদক গ্রহণ করেন। তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, নাদেলাকে পদক দিতে পেরে হোয়াইট হাউস ‘সম্মানিত’। এটি তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নাদেলা ছাড়াও ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং, লিসা সু, সের্গেই ব্রিন ও মাইকেল ডেলসহ প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের কাছ থেকে পদক পেয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক মধ্যাহ্নভোজ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।তবে একই দিন ভ্যান্সের সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল মাইক্রোসফট। তিনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই সহজ: আপনারা একটি মহান আমেরিকান কোম্পানি। আপনাদের অবশ্যই আমেরিকান কর্মী নিয়োগ করতে হবে। আপনারা আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করে তাঁদের জায়গায় বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করতে পারেন না।’চাকরি হারালে ৬০ দিনের সময়ভ্যান্সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা কোনো কর্মী তাঁর ভিসার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারালে দেশটিতে অবস্থান নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। সাধারণত এ ধরনের কর্মীরা নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময় পান।গত মাসে মার্কিন সরকার এই সময়সীমা পুরোপুরি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবই এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, অ্যাপল ও এনভিডিয়াও এ কর্মসূচি ব্যবহার করে আসছে। তবে বৃহস্পতিবার ভ্যান্সের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল না। বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষার প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।