ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) ও মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮)।এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ছুরিকাঘাতে রাশেদের মৃত্যু হয়। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক ও মারধরের শিকার সোলাইমান শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের দোতলায় থাকা বারে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমানের মৃত্যু হয়।নিহত রাশেদ শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার এবং সোলাইমান বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বারে কথা-কাটাকাটি, পরে ছুরিকাঘাতপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিবুল হক রাশেদসহ কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়।পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে রাশেদের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।পরে তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সন্দেহে আটক, পরে হাসপাতালে মৃত্যুরাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোলাইমানকে আটক করে মারধর করেন।পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়েছিল। মারধরের কারণে গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে সংঘর্ষের দাবি পুলিশেরকক্সবাজার সদর থানার পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে ওই যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহকক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, অনুমোদনবিহীন মদের বারটি পরিচালিত হচ্ছিল। হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বারের লাইসেন্স নিয়ে ভিন্ন দাবিতবে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং সেটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।তিনি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত যুবকদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল, আবার কয়েকজনের ছিল না। ‘ঢাকা থেকে অতিথি এসেছে’ এমন পরিচয়ে অনেকেই বারে প্রবেশ করেছিলেন।দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত, এতে কারা জড়িত এবং ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।