ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া
পাবনার ঈশ্বরদীতে
বিএনপির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের
বিরোধ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গত
দুই বছরে সংঘর্ষ, গুলিবিনিময়,
হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্রের মহড়ার
একাধিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।স্থানীয় নেতাকর্মীদের
দাবি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
হাবিবুর রহমান হাবিব ও জেলা বিএনপির
যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা
ঘটছে। রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহাল, ঝুট ব্যবসা, টেন্ডার,
পরিবহন স্ট্যান্ড ও মাদক ব্যবসার
নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।সর্বশেষ গত
বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা
স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল
ইসলাম শরিফকে গুলি ও কুপিয়ে
হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর
আহত শরিফ রাজশাহী মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হাবিবুর
রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তবে হাবিব অভিযোগ
অস্বীকার করেছেন।এর আগে
১৭ আগস্ট আগ্নেয়াস্ত্র হাতে শহরে মহড়ার
অভিযোগ ওঠে সাবেক ছাত্রদল
নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের
দাবিতে থানার সামনে অবস্থান ও পরে থানা
ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটে।গত দুই
বছরে শচীন বিশ্বাস হত্যা,
ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি ও
সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। বালুমহাল,
ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা ও
টেন্ডার নিয়েও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।জাকারিয়া পিন্টুর
ভাই মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে
পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। হাবিবুর রহমান হাবিব এসব অভিযোগ অস্বীকার
করে পাল্টা দাবি করেন, তাকে
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।ঈশ্বরদী থানার
ওসি আশাদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল ও নজরদারি
বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও পুরো উপজেলার পরিস্থিতি
ভেঙে পড়েনি বলে দাবি করেন
তিনি।