ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

ছাত্রদলের তিন নেতা ও হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণ অধিকতর তদন্ত এবং ছাত্রদলের আরও তিন নেতাকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে।গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এসব সুপারিশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় সুপারিশগুলো করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশতদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলকর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম।অন্যদিকে, রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদলকর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং প্রমাণাদি আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে কমিটি।ছাত্রত্ব নেই দুজনেরছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ পাওয়া আহসান হাবীব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি। জানা গেছে, কয়েক বছর আগেই তাঁর পড়াশোনা শেষ হয়েছে।২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রদল থেকেও তাঁকে তিনবার বহিষ্কার করা হয়।একই তালিকায় থাকা বিশাল চক্রবর্তী অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।অন্যদিকে, ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ পাওয়া হাসিবুল ইসলাম ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।হাসিবুলের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ হলেও তিনি বর্তমানে ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন বলে জানা গেছে। জুলাই বিপ্লবের আগে রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি থাকায় তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হয়। পরে তাঁকে আবার ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।ফেসবুক পোস্টের কারণে হল জিএসের বিরুদ্ধে সুপারিশসাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্বও সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সুপারিশের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরিফুল। তাঁর দাবি, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁকে না পেয়ে তাঁর কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সাংবাদিকদের মারধর করা হয়।ফেসবুক পোস্টে আরিফুল লেখেন, ‘ফেসবুকে একটা পোস্ট করাই ছিল আমার অপরাধ!’ সেদিন হামলাকারীরা তাঁকে পেলে তাঁর জীবনও বিপন্ন হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন এই হল জিএস।ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা, এরপর হামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ফেসবুকে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবীব। এ নিয়ে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেয়।পরদিন ৩ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়ে তিনি রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট দেন।এর জেরে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও পাল্টা পোস্ট দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হল সংসদের জিএসের কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ওই হামলায় অংশ নেন।স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের দাবিতদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।তিনি সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং যাঁদের ছাত্রত্ব নেই, তাঁদের সনদ বাতিলের দাবি জানান।গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এখন সুপারিশগুলো সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ছাত্রদলের তিন নেতা ও হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল

রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদককে (জিএস) সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব থেকে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। শুক্রবার সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।উপাচার্য বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি প্রতিবেদন গতকাল মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে।তদন্ত প্রতিবেদনে ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা চারজন হলেন—রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম।এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণ অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টায়ও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।হামলার পর সাংবাদিকেরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামীকালের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দিলে তাঁরা আপাতত কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। তবে সোমবার বেলা ১১টায় রবীন্দ্র ভবনের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিকেরা।তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বিকেলে ফিরলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। সাংবাদিকেরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা, দুপুর ১২টার মধ্যে গ্রেপ্তার নিশ্চিত, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে।

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টায়ও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠাবিহীন বুদ্ধিমত্তা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন জরুরি।গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ২০২৬ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এ সময়ে বিভ্রান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিকাশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিনয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় করা জরুরি। আধুনিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা নয়; শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, একজন মানুষ জীবনে কতটা সফল হবেন, তা শুধু তাঁর মেধার ওপর নির্ভর করে না। বরং তিনি কতটা শৃঙ্খলা মেনে চলতে পারেন, তার ওপরও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা মত ও ধারণার কারণে সমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাস্তবতা। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি ও ডেটা সায়েন্স সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্রুত হলেও মানবতাকে পথ দেখানোর মৌলিক মূল্যবোধগুলো চিরন্তন। এসব মৌলিক মূল্যবোধে বড় ধরনের পরিবর্তন সমাজে নানা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আগামী দুই দশকে অনেক পেশা বিলুপ্ত বা পরিবর্তিত হতে পারে, আবার এমন অনেক নতুন পেশার সৃষ্টি হবে, যেগুলোর বিষয়ে এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুধু সনদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় দিতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাঁদের গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়।তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিকতা ও ইসলামের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল্যবোধসম্পন্ন, ভদ্র, পরোপকারী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি কীভাবে কাজ করে তা শেখায়, আর ঈমান শেখায় কেন তা সৃষ্টি হয়েছে। জ্ঞান ছাড়া সভ্যতার সূচনা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রযুক্তি ও কৌশলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বে যারা প্রযুক্তি ও কৌশলে এগিয়ে, তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও কৌশল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অনুষ্ঠানে আইআইইউসির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রেজিস্ট্রার কর্নেল মো. কাসেম, পিএসসি (অব.), কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, ফিমেল একাডেমিক জোনের প্রধান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুলতানা আক্তার বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে নবীন ছাত্রীদের শপথ পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। পরে বিভাগীয় ব্রিফিং সেশনে বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে আইআইইউসির ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নবীন ছাত্রীদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দিন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নবীন ছাত্রীরা।

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব