১৬ বছর পদোন্নতি বঞ্চনার পর রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মীর আশরাফ আলী
বাংলাদেশ
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি)
হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মীর আশরাফ আলী।
১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ
পুলিশে যোগ দেওয়া এই
কর্মকর্তা দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা চড়াই-উতরাই
পেরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বগুড়ার
এই কৃতী সন্তান অতীতে
দীর্ঘ ১৬ বছর পদোন্নতি
থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের
৫ আগস্টের পর তাঁর কর্মজীবনে
আসে নতুন অধ্যায়। এরপর
তিন দফা পদোন্নতি পেয়ে
ডিআইজি পদে উন্নীত হন
তিনি।মীর
আশরাফ আলীর পেশাগত জীবনের
অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো সততা,
নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে
দায়িত্ব পালন। গত দুই বছর
তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও কাউন্টার টেররিজম
অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি/সিটিএসবি) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব
পালনে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তাঁকে
রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া
হয়।এরপর
স্বল্প সময়ের জন্য রেলওয়ে রেঞ্জের
ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এবার তাঁকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।শিক্ষাজীবন
ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতামীর
আশরাফ আলী বগুড়া সদর
উপজেলার সন্তান। তাঁর শিক্ষাজীবন কেটেছে
দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। বগুড়া জেলা স্কুল থেকে
মাধ্যমিক, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে
উচ্চমাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি
অর্জন করেন তিনি।পেশাগত
দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এই
পুলিশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র,
জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন
উন্নততর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর
পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ
সম্পর্কে ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।নতুন
দায়িত্বে প্রত্যাশাদীর্ঘ
কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং পুলিশের বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের
দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মীর
আশরাফ আলী।রাজশাহী
রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে
তাঁর কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা,
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশি
সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা থাকবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও
পেশাদার নেতৃত্ব রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে
ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।