মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, আইনি জটিলতা, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজ নয়।
এদিকে
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে
কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ
ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা,
দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি
চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
একই সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের
স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সরকারের
পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,
পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ
করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে
করছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজনের সুযোগ
নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার নিজেদের
সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দেশে
ফেরার
ঘোষণা
ঘিরে
রাজনৈতিক তৎপরতা
২০২৪
সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে
ভারতে চলে যান শেখ
হাসিনা। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের
ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
আদালতের
রায়ের পর গত বছরের
২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে
ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ।
জবাবে ভারত বিষয়টিকে আইনি
প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী
পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়।
এর
মধ্যে প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং
পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের
মধ্যে দেশে ফেরার কথা
জানান। তাঁর এ বক্তব্যের
পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী
সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা
দেখা যায়।
রাজধানীসহ
দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা
মিছিল করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও বিভিন্ন সভা ও অনলাইন
কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতীয়
কয়েকটি গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও শেখ হাসিনার দেশে
ফেরা নিয়ে আলোচনা ও
প্রচারণা চলছে।
কিছু
নেতাকর্মী তাঁর দেশে ফেরার
সম্ভাবনা নিয়ে নানা বক্তব্য
দিচ্ছেন। কেউ ৪০টি বিমান
নিয়ে ঢাকায় আসার কথা বলেছেন,
কেউ আবার হেলিকপ্টারে ফেরার
ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশে ফিরে সরাসরি
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও প্রচার করা
হচ্ছে।
রাজনৈতিক
বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা,
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা
মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল
ধরে রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে
আলোচনায় থাকার কৌশল হতে পারে।
তাঁদের মতে, ডিসেম্বর পার
হলে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন কোনো সময়সীমা
বা ঘোষণা আসতে পারে।
শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের
সম্পৃক্ততার অভিযোগ
শেখ
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার
পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক
আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের
অভিযোগ, চলমান আন্দোলনের সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অংশ
নিয়েছেন।
গত
সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন,
চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা
নেওয়া এবং শিল্প খাত
ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানী
ও ফ্যাসিবাদী সমর্থকেরা মুখে মাস্ক পরে
আন্দোলনে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন
তিনি। সাবেক একজন সংসদ সদস্য
ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আন্দোলনে
সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানা গেছে।
এ
ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি, নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে
বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলীয়
নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চাপে
শেখ
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা
আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে সক্রিয়
করলেও অন্য একটি অংশ
নতুন করে চাপে পড়েছে
বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী
সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া
আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি
পেয়ে নিজ নিজ এলাকায়
সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অনেকে আবার
ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছিলেন।
কিন্তু
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা
সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে
ফিরে আসা দলটির অনেক
নেতাকর্মী আবার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায়
বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন
বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
ফেরার
বিষয়ে
নিজেই
জানিয়েছেন পাসপোর্ট জটিলতার কথা
সম্প্রতি
প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের
সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রস্তুতি
সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন,
তাঁর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র বন্ধ
থাকায় টিকিট করা সম্ভব হচ্ছে
না। তবে দেশে ফেরার
জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছেন এবং যেভাবেই হোক
একটি ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।
বাংলাদেশের
কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য
পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুতের খবরও প্রচারিত হয়েছিল।
তবে শেখ হাসিনা নিজেই
এ খবরকে সঠিক বলে নিশ্চিত
করেননি।
সাক্ষাৎকারে
তিনি বলেন, দেশে ফিরতে হলে
তাঁর পাসপোর্ট সচল করতে হবে,
অথবা ট্রাভেল পাস দিতে হবে।
এসব না পেলে পরিস্থিতি
অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সম্প্রতি
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তাঁদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আঘাত
এলে পাল্টা আঘাত করার নির্দেশও
দেন। ওই বৈঠকে সাবেক
সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে
তিন-চার লাখ মানুষ
নিয়ে ঢাকায় আসার প্রতিশ্রুতি দিলে
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের বাস্তবতা
নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী
লীগের কার্যালয়ই এখনো উদ্ধার করা
যায়নি, অথচ লাখ লাখ
মানুষ আনার কথা বলা
হচ্ছে।
অন্যদিকে
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল
হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও
পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে
সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না।
আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই
অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ
হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’
জাতীয়
পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও
সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন,
শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে কথা
হয়। দেশে ফেরার বিষয়ে
শেখ হাসিনা তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট
সময় চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা
তিনি জানেন না।
সরকারের বক্তব্য: আইনের
আওতায়
নেওয়া
হবে
শেখ
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা
নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বিভিন্ন
বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা বলছেন,
এ বিষয়ে সরকার বিচলিত নয়। বরং প্রত্যর্পণ
চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত
দেবে বলে আশা করছে
সরকার।
আইনমন্ত্রী
মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে
ফিরলে তাঁর গলায় মালা
পরানোর আগেই আইনের হাতকড়া
পৌঁছে যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ
হাসিনা কখন দেশে আসতে
চান, তা নিয়ে সরকার
বিচলিত নয়। সরকার আইনের
শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যিনিই দেশে আসবেন, তাঁকে
আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরে কোনো
অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি
সৃষ্টি করতে পারবে না
বলেও আশা প্রকাশ করেন
তিনি।
তথ্যমন্ত্রী
আন্দালিভ রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে
ফিরবেন কি না, তা
সময়ই বলে দেবে। তবে
চব্বিশের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্মৃতি
থেকে দেশের মানুষ এখনো বের হতে
পারেনি। তাঁর মতে, দেশে
ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন,
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে
কোনো মবের মুখোমুখি হতে
হবে না; বরং আইনের
মুখোমুখি হতে হবে। তিনি
স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে সরকার
খুশি হবে বলেও মন্তব্য
করেন। তাঁর ভাষ্য, শেখ
হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাঁকে
বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে
হবে।
বিশ্লেষকদের চোখে
ফেরার
সম্ভাবনা কতটা
শাহজালাল
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক মনে করেন,
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা
বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে,
তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়
রয়েছে।
দৈনিক
আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের
রক্তপাত, শেখ হাসিনার শাসনামল
নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ
এবং আদালতের দণ্ড সবকিছু বিবেচনায়
দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক
জীবনে অংশ নেওয়া তাঁর
জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। দেশে
ফিরলে প্রথমেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া ও
আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর
মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা
মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী
লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল।
রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল অবশ্য বিষয়টিকে
পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে রাজি নন।
তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন,
শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আপাতত একটি ঘোষণা হিসেবে
বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে এবার তিনি একটি
সময়সীমার কথা বলেছেন। এ
কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।
তবে
দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য
দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ
করে অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, তাঁর
দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে
প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম দেখা
যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে
কিছু চললে সেটি ভিন্ন
বিষয়।
জাতীয়
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ফ্যাসিবাদী
শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির
চেষ্টা করতে পারে। চলমান
শ্রমিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না,
তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তবে নাশকতার চেষ্টা করার আশঙ্কা উড়িয়ে
দেওয়া যায় না।
তিনি
সরকার, বিরোধী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক
শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে
একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ এখনো নানা আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা। ডিসেম্বরের ঘোষণাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।