মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে রাস্তায় নামতে হওয়াকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ পরিস্থিতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত
আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
তাঁর মতে, ইশরাক হোসেনকে
সরিয়ে দিয়ে মূল প্রাতিষ্ঠানিক
ব্যর্থতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন
আড়াল করা হচ্ছে।
হাসনাত
আবদুল্লাহ লেখেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও
কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে
নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের
বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো সরকারের কাছে
এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি।
এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
তিনি
বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে
থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে একজন
প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে মাঠে নামতে হতো
না। এ পরিস্থিতির দায়
শুধু ইশরাক হোসেনের একার নয়; সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়
বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীকে সরালেই কি সমস্যার সমাধান?
হাসনাত
আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে
দেওয়াকেই যদি সমস্যার সমাধান
হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?
রাষ্ট্রীয় তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি লেখেন, একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায় যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে কেন সেখানে যেতে হবে?
ব্যর্থতার দায়
ব্যক্তির ওপর
চাপানোর অভিযোগ
সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা আড়াল করতে ব্যক্তিকে বলির পাঁঠা বানিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে এসব ব্যর্থতার কারণে জনগণ রাস্তায় নেমে এলে সরকার কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়াবে?
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।