ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ব্যর্থতার দায় শুধু ইশরাকের নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: হাসনাত

ব্যর্থতার দায় শুধু ইশরাকের নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: হাসনাত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে রাস্তায় নামতে হওয়াকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ পরিস্থিতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। তাঁর মতে, ইশরাক হোসেনকে সরিয়ে দিয়ে মূল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন আড়াল করা হচ্ছে।হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি। এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে মাঠে নামতে হতো না। এ পরিস্থিতির দায় শুধু ইশরাক হোসেনের একার নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রীকে সরালেই কি সমস্যার সমাধান?হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াকেই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?রাষ্ট্রীয় তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি লেখেন, একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায় যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে কেন সেখানে যেতে হবে?ব্যর্থতার দায় ব্যক্তির ওপর চাপানোর অভিযোগসরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা আড়াল করতে ব্যক্তিকে বলির পাঁঠা বানিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে এসব ব্যর্থতার কারণে জনগণ রাস্তায় নেমে এলে সরকার কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়াবে?ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এ কথা জানান। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার পর গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, কিছু মানুষকে তাঁর পদত্যাগের খবরে উল্লাস করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে তাতে অংশ নেন, সেই আশা করেন তিনি।ইশরাক আরও লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফর করার সুযোগও থাকবে তাঁর। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’যেভাবে পদত্যাগের নির্দেশসরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গতকাল রোববার জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পাঠান। সেখানেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও নিয়ে সমালোচনাশনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ এ সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। এ সময় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ইশরাকের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তবে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।তদন্ত করছে ডিএমপিইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিও দেন ইশরাক হোসেন। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টিইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে।মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাতেই দল ও সরকারকে বিব্রত করা কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন