ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, আইনি জটিলতা, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজ নয়।এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।আদালতের রায়ের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ভারত বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়।এর মধ্যে প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা যায়।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও বিভিন্ন সভা ও অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণা চলছে।কিছু নেতাকর্মী তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ ৪০টি বিমান নিয়ে ঢাকায় আসার কথা বলেছেন, কেউ আবার হেলিকপ্টারে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশে ফিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকার কৌশল হতে পারে। তাঁদের মতে, ডিসেম্বর পার হলে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন কোনো সময়সীমা বা ঘোষণা আসতে পারে।শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, চলমান আন্দোলনের সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।গত সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিবাদী সমর্থকেরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।আন্দোলনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানা গেছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি, নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দলীয় নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চাপেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে সক্রিয় করলেও অন্য একটি অংশ নতুন করে চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অনেকে আবার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছিলেন।কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দলটির অনেক নেতাকর্মী আবার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।ফেরার বিষয়ে নিজেই জানিয়েছেন পাসপোর্ট জটিলতার কথাসম্প্রতি প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র বন্ধ থাকায় টিকিট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেভাবেই হোক একটি ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।বাংলাদেশের কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুতের খবরও প্রচারিত হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা নিজেই এ খবরকে সঠিক বলে নিশ্চিত করেননি।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরতে হলে তাঁর পাসপোর্ট সচল করতে হবে, অথবা ট্রাভেল পাস দিতে হবে। এসব না পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তাঁদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার নির্দেশও দেন। ওই বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে তিন-চার লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকায় আসার প্রতিশ্রুতি দিলে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ই এখনো উদ্ধার করা যায়নি, অথচ লাখ লাখ মানুষ আনার কথা বলা হচ্ছে।অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে কথা হয়। দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট সময় চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।সরকারের বক্তব্য: আইনের আওতায় নেওয়া হবেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে সরকার বিচলিত নয়। বরং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাঁর গলায় মালা পরানোর আগেই আইনের হাতকড়া পৌঁছে যাবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা কখন দেশে আসতে চান, তা নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যিনিই দেশে আসবেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে চব্বিশের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্মৃতি থেকে দেশের মানুষ এখনো বের হতে পারেনি। তাঁর মতে, দেশে ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না; বরং আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।বিশ্লেষকদের চোখে ফেরার সম্ভাবনা কতটাশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।দৈনিক আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তপাত, শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ এবং আদালতের দণ্ড সবকিছু বিবেচনায় দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। দেশে ফিরলে প্রথমেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল অবশ্য বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে রাজি নন। তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আপাতত একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এবার তিনি একটি সময়সীমার কথা বলেছেন। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।তবে দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে কিছু চললে সেটি ভিন্ন বিষয়।জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে নাশকতার চেষ্টা করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তিনি সরকার, বিরোধী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ এখনো নানা আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা। ডিসেম্বরের ঘোষণাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা শুধু ডিসেম্বর মাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্দোলনের মধ্যে কিছু মানুষের যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে, তা প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন।তথ্য উপদেষ্টার মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির হাতে থাকা বিপুল অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতেই এসব অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে নয়। শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে সরকার মনে করে। সরকার এসব তৎপরতা প্রতিহত করবে।এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম দিনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। তাঁর মতে, সেই রাজনৈতিক মানসিকতার প্রতিফলন এখনো থাকতে পারে।শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁর আগের ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হবে এবং সে ক্ষেত্রে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন।এ বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে এসে হাজির হন, তাহলে এরপর নিশ্চয়ই একটি মঙ্গলবার আসবে। সেদিন তিনি বেঁচে থাকলে এবং দায়িত্বে থাকলে প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চাইবেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ইন্টারপ্রিটেশন ভুল ছিল’ এ কথা স্বীকার করবেন তিনি।

শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি আঁতাত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া উচিত সরকারের।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। সাত মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ৩১ দফার ৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ করছে।

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও অন্তরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলটির কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের এই দ্বৈত অবস্থান দেশজুড়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মঙ্গলবার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে। একটি ধারা গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছে। অন্য ধারাটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে।হাসনাতের অভিযোগ, এই সুযোগসন্ধানী অংশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ চালাচ্ছে।মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে না জানিয়ে দুই থেকে আড়াই শ ব্যক্তিকে আসামি করে গণহারে মামলা করা হচ্ছে। পরে আসামিপক্ষের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত খুনি ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর কতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাসনাতের দাবি, অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলা বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল এবং সারের ডিলারশিপের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তা না হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঁতাতের দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ফিরিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই শক্তির কারণে দেশের মানুষ অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। তাঁদের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি ও বাণিজ্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। শরীয়তপুর জেলা এনসিপি এ সভার আয়োজন করে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের এখন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচার একাকার হয়ে গেছে। যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে দলটি অনেক দূরে সরে গেছে।তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি বিদেশে আওয়ামী লীগ, দেশে বিএনপি। এই দুই শক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হয়েছে।’দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগদ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। অথচ ওই দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। একেকটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং এই সিন্ডিকেট বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বানস্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই শরীয়তপুর বার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কাউকে মনোনয়নপত্র তুলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বৈরাচার, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় এগিয়ে আসার কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা রাতের ভোট করেছে, তাদের পরিণতির কথা মনে রাখতে হবে।’সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া আবদুল্লাহ মো. হোসাইন, শরীয়তপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এবং সদস্যসচিব সবুজ তালুকদারসহ দলের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ফিরিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান, ২৬০ জনের বেশি আটক

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী রয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে চলা ওই অভিযান শেষ হয় বিকেলের দিকে।পুলিশের ভাষ্য, জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে আটক ব্যক্তিদের পল্টন ও শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের পরিচয় ও আগের কর্মকাণ্ড যাচাই করতে বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকাররা জাসদ কার্যালয় থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনতে পান। পরে তাঁরা ভবনটির দ্বিতীয় তলায় গিয়ে কার্যালয়টি ঘিরে ফেলেন। পুলিশ আসার পর ভবন ঘিরে অভিযান শুরু হয়।প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ের ৩৫ নম্বর ভবনের (হোটেল গ্যানিস ইন্টারন্যাশনাল) দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জাসদের কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। তাঁরা দলবদ্ধভাবে না এসে দুই-তিনজন করে সেখানে জড়ো হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সভা শুরু হয়।স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও হকার জানান, সেখান থেকে স্লোগানের শব্দ শুনে তাঁরা দ্বিতীয় তলায় যান। এ সময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দরজা খোলা হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষকে দেখে তাঁরা বিস্মিত হন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে চলে যান। পরে বাইরে থাকা লোকজন কলাপসিবল গেট বন্ধ করে পুলিশকে খবর দেন।এরপর পুলিশ ভবনটি ঘিরে অভিযান শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর আটক ব্যক্তিদের পাঁচটি প্রিজনভ্যানে করে থানায় নেওয়া হয়। পল্টন থানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তাঁদের একটি অংশকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়।ঘটনাস্থলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভিড়আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁরা ভবনটি ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে মিছিল করেন। নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা যাতে ঢাকার কোথাও মিছিল-মিটিং করতে না পারে, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাসদ কার্যালয়ের ওই সভায় কোনো ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।শাহবাগ থানা যুবদলের সদস্যসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন তপনের দাবি, কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে সেখানে গোপন বৈঠক করা হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, দেশে ‘জ্বালাও-পোড়াও’ করার পরিকল্পনা নিয়ে ওই বৈঠক হচ্ছিল। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য আটকঅভিযানের সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়। জাসদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলার সময় উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কেন ওই সভায় গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরে আটক অবস্থায় দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে সূর্য দাবি করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।থানায় পরিচয় যাচাইপল্টন থানার কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের অতীতের কর্মকাণ্ড বা কোনো মামলায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানতে দেশের বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো থেকে তথ্য পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।আটক ব্যক্তিদের থানার বিভিন্ন কক্ষে রাখা হয়েছে। তাঁদের অনেকের কাছেই মোবাইল ফোন রয়েছে এবং তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। থানার লকআপে একসঙ্গে এত মানুষ রাখার মতো জায়গা না থাকায় আপাতত তাঁদের এভাবে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।স্বজনদের থানায় ছোটাছুটিঅভিযানের খবর পেয়ে অনেকের স্বজন জাসদ কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন। স্নিগ্ধা নামের এক তরুণী নিজেকে এনসিপির গুলশান থানার নেত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা রুহুল আমিন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। তাঁর বাবা আগে জাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে বর্তমানে করেন না। শনিবার ঢাকায় এসে তিনি জাসদ কার্যালয়ে আটক হয়েছেন বলে ফোনে জানিয়েছেন। পরে বাবার খোঁজ নিতে তিনি পল্টন থানায় যান।পুলিশের বক্তব্যডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের ডিসি মো. আকতার হোসেন বলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল এবং সেখানে বৈঠক চলছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।পল্টন থানার ওসি আরিফুর ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।জাসদের দাবি, এটি ছিল প্রতিনিধি সভাতবে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে জাসদ। দলের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল। এতে সারা দেশ থেকে প্রায় ৪০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।সাজ্জাদ হোসেনের দাবি, প্রথমে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে তাঁদের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। ওই সময় সেখানে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। পরে বিকেলে পুলিশ এসে নেতা-কর্মীদের আটক করা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয়।জাসদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে আগে থেকেই আবেদন করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসির কাছে গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠিও রয়েছে বলে দাবি করেছে জাসদ। তবে ওই অনুমতির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ইনুর বিরুদ্ধে মামলার রায় গত ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং প্রতিটি অভিযোগে তাঁকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়।

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান, ২৬০ জনের বেশি আটক

বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আলোচনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতে দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সারজিস আলম।তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার বাতাস শুধু দুই জায়গায় দেখা যায়। একটা সোশ্যাল মিডিয়া, আরেকটা হলো ভারতে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফেরার কোনো সুযোগ নেই। স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডে গণহত্যাকারী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরতে পারবে না।’জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, অর্থমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী যদি বলেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা উচিত। শুধু একজন মন্ত্রীকে দায়ী করলে হবে না।তিনি বলেন, এ দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এড়াতে পারেন না। কোনো মন্ত্রী সঠিকভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। ব্যর্থতার পরও কাউকে দায়িত্বে রাখলে এর দায় সরকারপ্রধানকেও নিতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। সারজিস বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রক্সি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এ কারণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি যথাযথভাবে নজর দিতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই আত্মগোপনে ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। পরে পরিস্থিতি আরও কঠোর হলে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।সাদ্দাম হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন তিনি দেশেই ছিলেন। কৌশলগত কারণে তাঁকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এর মধ্যেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছেন।তিনি বলেন, সে সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামী লীগ যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেগুলোর ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তবে ‘পূর্ণাঙ্গ দমন-পীড়ন’ শুরু হলে তাঁকে স্থান পরিবর্তন করতে হয়।সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখনো দেশের ভেতরে অবস্থান করছেন।‘দেশে থাকা নেতাকর্মীরাই মূল শক্তি’বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মীদের দলের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন এবং চলমান মামলায় সহযোগিতা করতেই তাঁর সময় কাটছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।‘দেশে ফেরার জন্য মানসিক ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত’দেশে ফেরার বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার দেশে ফেরার জন্য মানসিক ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফেরার একটি ‘রোডম্যাপ’ তৈরি রয়েছে এবং এখন শুধু সময়সীমার অপেক্ষা।দেশে ফিরলে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, সে সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা রয়েছে বলে জানান তিনি।সাদ্দাম হোসেন বলেন, দেশে ফেরার পর ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই আত্মগোপনে ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন

হাসিনা কার্ড বন্ধ না হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কঠিন: সালাউদ্দিন

ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে- এ দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও দুই দেশের সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত সরকার যদি সত্যিই বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন না করে, তাহলে তাঁকে ভারতের মাটিতে বারবার সভা ও বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন?তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন। তবে কোনো দেশের প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না।‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওসমান, আবু সাঈদসহ নিহতদের স্মরণ করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়; এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ফল। এর মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালত নির্ধারণ করবেআওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংগঠন হিসেবে দলটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইসিটি আইনে অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, কার্যক্রম স্থগিত বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার বিধান রয়েছে।তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারও চলমান রয়েছে।‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি আর চলবে না’জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টার সমালোচনা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি’ বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে।তাঁর ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ফল। মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে আগের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস অস্বীকার করা হবে।

হাসিনা কার্ড বন্ধ না হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কঠিন: সালাউদ্দিন

আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন

বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের যে নেতাকর্মীরা ভারতে চলে গিয়েছিলেন, দুই বছর পরও তাদের অনেকে সেখানেই আছেন। তবে এখন 'শেখ হাসিনার আহ্বানে' বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন তাদের কয়েকজন। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য বা বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তত ৭০ জন পশ্চিমবঙ্গে – মূলত কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে থাকছেন বলে বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে। চব্বিশের অগাস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা ভারতে যান। শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছাড়াও মধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীরাও রয়েছেন, আছেন পুলিশের নানা পদমর্যাদার প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা। একটা সময়ে অবশ্য প্রায় ৭০ জন শুধু সাবেক সংসদ সদস্যই ওই এলাকায় থাকছিলেন। এছাড়াও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব, জেলা পর্যায়ের নেতা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অফিসার ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় দুশো জনের মতো কলকাতা ও তার আশেপাশে থাকতেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও মধ্যম পর্যায়ের নেতা, যারা কলকাতা, শিলিগুড়ি, ত্রিপুরা প্রভৃতি জায়গায় থাকতেন, সেই সংখ্যাটা ছিল হাজারেরও বেশি। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভারতে চলে গিয়েছিলেন, এমন অনেক নেতা পরে নিজেদের সামর্থ্য ও যোগাযোগ অনুযায়ী ইউরোপ, আমেরিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে চলে গেছেন। এর মধ্যে যে কয়জনের সঙ্গে বিবিসি বাংলা কথা বলতে পেরেছে, তাদের প্রায় সবাই দাবি করেছেন যে দেশেই বাইরে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই তারা দলের জন্য কাজ করে চলেছেন। বিশেষ করে অনলাইনে যোগাযোগ রক্ষাসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা। শেখ হাসিনা বুধবার দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে বলেন যে তিনি ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। এর আগে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েও তিনি একই কথা বলেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার এবং এরপর যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে এখন জানাচ্ছেন তার দল ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা, যারা তাদের ভাষায় "কৌশলগত কারণে আত্মগোপন" করে আছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে দেশে ফিরে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তিনি ও তার দলীয় সতীর্থরা প্রস্তুত। "নেত্রী যেরকম ঘোষণা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরাও দেশে ফিরে গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভুয়া ছিল, আমাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করা হয়নি," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। "দেশে ফিরলে আমাদের সঙ্গে কী হতে পারে, ভবিষ্যৎ কী, সে ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই ধারণা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আর পারিবারিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি," বলছিলেনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল' জুলাই অগাস্টের ঘটনার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেই ফাঁসির আদেশ হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ঘটনা পরম্পরা যেদিকে গিয়েছিল সেদিন, তার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। হয়ত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল আমাদের, ভুল তথ্যও দেওয়া হয়েছিল"। সরকার পতনের পর নয়ই সেপ্টেম্বর ভারতে পৌঁছান বলে জানান তিনি। "যারা সরে আসতে পারেনি, তারা বেশিরভাগই জেলে, নয়তো বাড়ি-ঘর ছাড়া। আমার ছেলে, সে কোনো রাজনীতি করে না, আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাশোনা করত, সে-ও আজ দুবছর হলো জেলে। আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা যতটুকু পারছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন আপাতত," বলছিলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। ভারতে গত দুই বছরে মূলত আত্মীয়-বন্ধুদের সহযোগিতায় তার সংসার চলছে বলে দাবি করছেন তিনি। প্রথম একবছর রীতিমতো 'ট্রমা'র মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন বিবিসিকে। আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তার অধীনে যে পুলিশ বাহিনী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনকারীদের ওপরে গুলি চালানোসহ বহু অভিযোগ রয়েছে সেবিষয়ে তিনি কী বলছেন? তিনি জবাবে বলেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পুলিশ বা আনসার সদস্যরা পাঁচই অগাস্ট দুপুর পর্যন্ত কিন্তু সঠিকভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে আমি মনে করি।" 'আত্মগোপন' কীভাবে? বিবিসি বাংলা কথা বলেছে, ভারতে অবস্থানকারী বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সদস্যদের সঙ্গে। প্রশ্ন করা হয়েছিল- দুবছর কীভাবে কাটলো তাদের 'আত্মগোপনের' সময়টা? বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীরা কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে থাকছেন, তারা প্রায় সকলেই বাসা ভাড়া করে রয়েছেন, অনেকেরই পরিবার সঙ্গে থাকে না। কয়েকজন মিলে একটাই বাসা ভাড়া নিয়ে আছেন, সেই তথ্যও জানা গেছে। তারা দাবি করেছেন যে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের মাধ্যমে তারা অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকেন। একসময়ে ঢাকা বা বাংলাদেশের নানা শহরে যেভাবে তারা জীবনযাপন করতেন, সেই আর্থিক সঙ্গতি অনেকেরই এখন আর নেই। নিজস্ব গাড়ির বদলে তাদের ট্যাক্সি বা অন্যান্য গণপরিবহণে চাপতে হয় বলে তারা দাবি করছেন। ভারতে চলে আসার পরে গত দুই বছরে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তাদের ভাষায় 'আত্মগোপন' করার গোড়ার সময়টা মোটেই সহজ ছিল না। বাংলাদেশেই আত্মগোপন করে থাকছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও। পাঁচই অগাস্টের পরে প্রায় দেড় বছর বাংলাদেশেই ছিলেন এবং নিজের অবস্থান গোপন রাখতে অন্তত ১২টা সিম পরিবর্তন করেছেন বলে দাবি করেন রোকেয়া প্রাচী। বাংলাদেশের বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতে 'আওয়ামী লীগপন্থি' মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। "তিন দিন ঘর অন্ধকার করে থাকার পরে আমি খুব ভোরবেলায় চুপিসারে বাসা ছেড়ে চলে যাই। অভিনেত্রী হিসাবে বোরখা অনেক পড়েছি, কিন্তু পরিচয় লুকোতে সেদিন আমাকে বোরখা পরে বেরোতে হয়েছিল। ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। নিজের ফোন আর কখনই চালু করিনি," বলছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে যাদের বাসায় ছিলেন তাদের ফোনে ফেসবুক দিয়ে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেছেন বলেও তিনি জানান। দুবছরের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর যেসব নেতাদের সঙ্গে বিবিসি বাংলা কথা বলতে পেরেছে, তাদের সব রাজনৈতিক কাজকর্মই মূলত সামাজিক মাধ্যমেই করে থাকেন বলে জানিয়েছেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তারা যেমন যোগাযোগ করেন, তেমনই দেশে থাকা দলের কর্মীদের সঙ্গে অথবা অন্যান্য দেশে অবস্থানরত নানা স্তরের নেতাদের মধ্যে সেভাবেই তারা যোগাযোগ রাখেন। আবার কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেসব নেতারা বাস করেন, নিজেদের মধ্যে তারা দেখা যেমন হয়, তেমনই বৈঠকও করেন। এর আগে কলকাতা লাগোয়া এলাকায় একটি বাণিজ্যিক অফিসও তারা নিয়েছিলেন, যেখানে নিয়মিত বৈঠক হতো। নিজেদের মধ্যে ওই ঘরটিকে তারা 'পার্টি অফিস' বলেই চিহ্নিত করতেন। বিবিসি বাংলা সেই ঘরটি দেখেও এসে তা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরে দলীয়ভাবে বিবৃতি দিয়ে তারা কলকাতায় কোনো 'পার্টি অফিস' স্থাপন করার বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে এখন আর সেই বাণিজ্যিক অফিসটা তারা ব্যবহার করেন না বলেই জানিয়েছে দলটির কয়েকটি সূত্র। অন্য কোথাও নতুন করে 'অফিস' নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে ওই সূত্রগুলো। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথম এক বছর সরাসরি কারও দেখা হয়েছিল – এমনটা জানা যায় না। কিন্তু তারপর থেকে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন স্তরের নেতারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মাঝে মাঝেই দিল্লিতে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আসেন – এমনটা জানতে পেরেছে বিবিসি। তাদের ভাষায়, আত্মগোপন করে থাকার প্রথম কয়েক মাস বা বছর খানেক অনিশ্চয়তা এবং 'ট্রমা'র মধ্যে দিয়ে কাটলেও তারপরে আওয়ামী লীগের নেতারা পুরোদমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী যেমন বলছিলেন, গত দুই বছর কারাগারের বাইরে থাকা নেতারা দলকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজ করেছেন। "ব্যক্তিগতভাবে আমি দলীয় কার্যক্রমেই সম্পৃক্ত ছিলাম। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও সেখানে প্রতিবেদন প্রেরণ ইত্যাদি কাজগুলো করেছি," জানাচ্ছিলেন মহিবুল হাসান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলছিলেন, "বাংলাদেশে আমাদের যে নেতা-কর্মীরা রয়ে গেছেন, তারাই তো মূল শক্তি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, কমিটিগুলি পুনর্গঠন করা, যেসব মামলা চলছে তাতে সহায়তা দেওয়া এসব করতেই দিন কেটে যায়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণার কাজ তো আছেই।" সাদ্দামের কথায়, "মানসিক আর পারিবারিকভাবে আমি এবং আমরা দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত। রোডম্যাপটা তৈরি, এখন অপেক্ষা করছি টাইমলাইনের জন্য।" ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা বুধবারও দেশে ফিরে যাওয়ার কথা আবারও বলেছেন, কিন্তু কবে, কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন