ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আলোচনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতে দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সারজিস আলম।তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার বাতাস শুধু দুই জায়গায় দেখা যায়। একটা সোশ্যাল মিডিয়া, আরেকটা হলো ভারতে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফেরার কোনো সুযোগ নেই। স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডে গণহত্যাকারী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরতে পারবে না।’জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, অর্থমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী যদি বলেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা উচিত। শুধু একজন মন্ত্রীকে দায়ী করলে হবে না।তিনি বলেন, এ দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এড়াতে পারেন না। কোনো মন্ত্রী সঠিকভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। ব্যর্থতার পরও কাউকে দায়িত্বে রাখলে এর দায় সরকারপ্রধানকেও নিতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। সারজিস বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রক্সি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এ কারণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি যথাযথভাবে নজর দিতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই আত্মগোপনে ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। পরে পরিস্থিতি আরও কঠোর হলে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।সাদ্দাম হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন তিনি দেশেই ছিলেন। কৌশলগত কারণে তাঁকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এর মধ্যেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছেন।তিনি বলেন, সে সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামী লীগ যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেগুলোর ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তবে ‘পূর্ণাঙ্গ দমন-পীড়ন’ শুরু হলে তাঁকে স্থান পরিবর্তন করতে হয়।সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখনো দেশের ভেতরে অবস্থান করছেন।‘দেশে থাকা নেতাকর্মীরাই মূল শক্তি’বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মীদের দলের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন এবং চলমান মামলায় সহযোগিতা করতেই তাঁর সময় কাটছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।‘দেশে ফেরার জন্য মানসিক ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত’দেশে ফেরার বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার দেশে ফেরার জন্য মানসিক ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফেরার একটি ‘রোডম্যাপ’ তৈরি রয়েছে এবং এখন শুধু সময়সীমার অপেক্ষা।দেশে ফিরলে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, সে সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা রয়েছে বলে জানান তিনি।সাদ্দাম হোসেন বলেন, দেশে ফেরার পর ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই আত্মগোপনে ছিলাম: সাদ্দাম হোসেন

হাসিনা কার্ড বন্ধ না হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কঠিন: সালাউদ্দিন

ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে- এ দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও দুই দেশের সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত সরকার যদি সত্যিই বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন না করে, তাহলে তাঁকে ভারতের মাটিতে বারবার সভা ও বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন?তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন। তবে কোনো দেশের প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না।‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওসমান, আবু সাঈদসহ নিহতদের স্মরণ করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়; এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ফল। এর মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালত নির্ধারণ করবেআওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংগঠন হিসেবে দলটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইসিটি আইনে অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, কার্যক্রম স্থগিত বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার বিধান রয়েছে।তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারও চলমান রয়েছে।‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি আর চলবে না’জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টার সমালোচনা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি’ বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে।তাঁর ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ফল। মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে আগের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস অস্বীকার করা হবে।

হাসিনা কার্ড বন্ধ না হলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কঠিন: সালাউদ্দিন

আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন

বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের যে নেতাকর্মীরা ভারতে চলে গিয়েছিলেন, দুই বছর পরও তাদের অনেকে সেখানেই আছেন। তবে এখন 'শেখ হাসিনার আহ্বানে' বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন তাদের কয়েকজন। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য বা বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তত ৭০ জন পশ্চিমবঙ্গে – মূলত কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে থাকছেন বলে বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে। চব্বিশের অগাস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা ভারতে যান। শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছাড়াও মধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীরাও রয়েছেন, আছেন পুলিশের নানা পদমর্যাদার প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা। একটা সময়ে অবশ্য প্রায় ৭০ জন শুধু সাবেক সংসদ সদস্যই ওই এলাকায় থাকছিলেন। এছাড়াও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব, জেলা পর্যায়ের নেতা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অফিসার ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় দুশো জনের মতো কলকাতা ও তার আশেপাশে থাকতেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও মধ্যম পর্যায়ের নেতা, যারা কলকাতা, শিলিগুড়ি, ত্রিপুরা প্রভৃতি জায়গায় থাকতেন, সেই সংখ্যাটা ছিল হাজারেরও বেশি। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভারতে চলে গিয়েছিলেন, এমন অনেক নেতা পরে নিজেদের সামর্থ্য ও যোগাযোগ অনুযায়ী ইউরোপ, আমেরিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে চলে গেছেন। এর মধ্যে যে কয়জনের সঙ্গে বিবিসি বাংলা কথা বলতে পেরেছে, তাদের প্রায় সবাই দাবি করেছেন যে দেশেই বাইরে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই তারা দলের জন্য কাজ করে চলেছেন। বিশেষ করে অনলাইনে যোগাযোগ রক্ষাসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা। শেখ হাসিনা বুধবার দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে বলেন যে তিনি ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। এর আগে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েও তিনি একই কথা বলেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার এবং এরপর যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে এখন জানাচ্ছেন তার দল ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা, যারা তাদের ভাষায় "কৌশলগত কারণে আত্মগোপন" করে আছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে দেশে ফিরে যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তিনি ও তার দলীয় সতীর্থরা প্রস্তুত। "নেত্রী যেরকম ঘোষণা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরাও দেশে ফিরে গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভুয়া ছিল, আমাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করা হয়নি," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। "দেশে ফিরলে আমাদের সঙ্গে কী হতে পারে, ভবিষ্যৎ কী, সে ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই ধারণা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আর পারিবারিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি," বলছিলেনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল' জুলাই অগাস্টের ঘটনার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেই ফাঁসির আদেশ হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ঘটনা পরম্পরা যেদিকে গিয়েছিল সেদিন, তার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। হয়ত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল আমাদের, ভুল তথ্যও দেওয়া হয়েছিল"। সরকার পতনের পর নয়ই সেপ্টেম্বর ভারতে পৌঁছান বলে জানান তিনি। "যারা সরে আসতে পারেনি, তারা বেশিরভাগই জেলে, নয়তো বাড়ি-ঘর ছাড়া। আমার ছেলে, সে কোনো রাজনীতি করে না, আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাশোনা করত, সে-ও আজ দুবছর হলো জেলে। আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা যতটুকু পারছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন আপাতত," বলছিলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। ভারতে গত দুই বছরে মূলত আত্মীয়-বন্ধুদের সহযোগিতায় তার সংসার চলছে বলে দাবি করছেন তিনি। প্রথম একবছর রীতিমতো 'ট্রমা'র মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন বিবিসিকে। আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তার অধীনে যে পুলিশ বাহিনী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনকারীদের ওপরে গুলি চালানোসহ বহু অভিযোগ রয়েছে সেবিষয়ে তিনি কী বলছেন? তিনি জবাবে বলেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পুলিশ বা আনসার সদস্যরা পাঁচই অগাস্ট দুপুর পর্যন্ত কিন্তু সঠিকভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে আমি মনে করি।" 'আত্মগোপন' কীভাবে? বিবিসি বাংলা কথা বলেছে, ভারতে অবস্থানকারী বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সদস্যদের সঙ্গে। প্রশ্ন করা হয়েছিল- দুবছর কীভাবে কাটলো তাদের 'আত্মগোপনের' সময়টা? বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীরা কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে থাকছেন, তারা প্রায় সকলেই বাসা ভাড়া করে রয়েছেন, অনেকেরই পরিবার সঙ্গে থাকে না। কয়েকজন মিলে একটাই বাসা ভাড়া নিয়ে আছেন, সেই তথ্যও জানা গেছে। তারা দাবি করেছেন যে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের মাধ্যমে তারা অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকেন। একসময়ে ঢাকা বা বাংলাদেশের নানা শহরে যেভাবে তারা জীবনযাপন করতেন, সেই আর্থিক সঙ্গতি অনেকেরই এখন আর নেই। নিজস্ব গাড়ির বদলে তাদের ট্যাক্সি বা অন্যান্য গণপরিবহণে চাপতে হয় বলে তারা দাবি করছেন। ভারতে চলে আসার পরে গত দুই বছরে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তাদের ভাষায় 'আত্মগোপন' করার গোড়ার সময়টা মোটেই সহজ ছিল না। বাংলাদেশেই আত্মগোপন করে থাকছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও। পাঁচই অগাস্টের পরে প্রায় দেড় বছর বাংলাদেশেই ছিলেন এবং নিজের অবস্থান গোপন রাখতে অন্তত ১২টা সিম পরিবর্তন করেছেন বলে দাবি করেন রোকেয়া প্রাচী। বাংলাদেশের বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতে 'আওয়ামী লীগপন্থি' মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। "তিন দিন ঘর অন্ধকার করে থাকার পরে আমি খুব ভোরবেলায় চুপিসারে বাসা ছেড়ে চলে যাই। অভিনেত্রী হিসাবে বোরখা অনেক পড়েছি, কিন্তু পরিচয় লুকোতে সেদিন আমাকে বোরখা পরে বেরোতে হয়েছিল। ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। নিজের ফোন আর কখনই চালু করিনি," বলছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে যাদের বাসায় ছিলেন তাদের ফোনে ফেসবুক দিয়ে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেছেন বলেও তিনি জানান। দুবছরের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর যেসব নেতাদের সঙ্গে বিবিসি বাংলা কথা বলতে পেরেছে, তাদের সব রাজনৈতিক কাজকর্মই মূলত সামাজিক মাধ্যমেই করে থাকেন বলে জানিয়েছেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তারা যেমন যোগাযোগ করেন, তেমনই দেশে থাকা দলের কর্মীদের সঙ্গে অথবা অন্যান্য দেশে অবস্থানরত নানা স্তরের নেতাদের মধ্যে সেভাবেই তারা যোগাযোগ রাখেন। আবার কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেসব নেতারা বাস করেন, নিজেদের মধ্যে তারা দেখা যেমন হয়, তেমনই বৈঠকও করেন। এর আগে কলকাতা লাগোয়া এলাকায় একটি বাণিজ্যিক অফিসও তারা নিয়েছিলেন, যেখানে নিয়মিত বৈঠক হতো। নিজেদের মধ্যে ওই ঘরটিকে তারা 'পার্টি অফিস' বলেই চিহ্নিত করতেন। বিবিসি বাংলা সেই ঘরটি দেখেও এসে তা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরে দলীয়ভাবে বিবৃতি দিয়ে তারা কলকাতায় কোনো 'পার্টি অফিস' স্থাপন করার বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে এখন আর সেই বাণিজ্যিক অফিসটা তারা ব্যবহার করেন না বলেই জানিয়েছে দলটির কয়েকটি সূত্র। অন্য কোথাও নতুন করে 'অফিস' নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে ওই সূত্রগুলো। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথম এক বছর সরাসরি কারও দেখা হয়েছিল – এমনটা জানা যায় না। কিন্তু তারপর থেকে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন স্তরের নেতারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মাঝে মাঝেই দিল্লিতে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আসেন – এমনটা জানতে পেরেছে বিবিসি। তাদের ভাষায়, আত্মগোপন করে থাকার প্রথম কয়েক মাস বা বছর খানেক অনিশ্চয়তা এবং 'ট্রমা'র মধ্যে দিয়ে কাটলেও তারপরে আওয়ামী লীগের নেতারা পুরোদমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী যেমন বলছিলেন, গত দুই বছর কারাগারের বাইরে থাকা নেতারা দলকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজ করেছেন। "ব্যক্তিগতভাবে আমি দলীয় কার্যক্রমেই সম্পৃক্ত ছিলাম। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও সেখানে প্রতিবেদন প্রেরণ ইত্যাদি কাজগুলো করেছি," জানাচ্ছিলেন মহিবুল হাসান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলছিলেন, "বাংলাদেশে আমাদের যে নেতা-কর্মীরা রয়ে গেছেন, তারাই তো মূল শক্তি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, কমিটিগুলি পুনর্গঠন করা, যেসব মামলা চলছে তাতে সহায়তা দেওয়া এসব করতেই দিন কেটে যায়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণার কাজ তো আছেই।" সাদ্দামের কথায়, "মানসিক আর পারিবারিকভাবে আমি এবং আমরা দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত। রোডম্যাপটা তৈরি, এখন অপেক্ষা করছি টাইমলাইনের জন্য।" ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা বুধবারও দেশে ফিরে যাওয়ার কথা আবারও বলেছেন, কিন্তু কবে, কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন